আল্লাহ’র নৈকট্য লাভে ‘করোনা’ অসামান্য এক সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে..

শামস চৌধুরী, এমবিএ (জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি): আল্লাহ বলেন, “রমজান মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল, মানুষের জন্য হেদায়েত, নির্দেশনা ও মানদণ্ডের সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে। সুতরাং যে কেউ এ মাসের [চাঁদ] দেখতে পাবে, সে অবশ্যই রোজা রাখবে; এবং যে অসুস্থ বা ভ্রমণে থাকবে – সে অন্যান্য দিনে সমান সংখ্যক রোজা রাখবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সবকিছু ‘সহজ’ করতে পছন্দ করেন আর কষ্টদায়ক কিছু করতে চান না। তিনি চান যে তোমরা সময়কাল পূর্ণ কর। তোমাকে হেদায়েত করার জন্য অবশ্যই তুমি আল্লাহকে মহিমান্বিত করতে হবে যাতে তুমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে পারো। (সুরাঃ বাকারাহ: ১৮৫ নম্বর আয়াত)। রমজান মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল ও এ মাসেই মুসলমানগণ বদরে’র যুদ্ধে জয়লাভ করে বিজয়ের সূচনা করেছিল। মুহাম্মদ (সা:) মক্কা বিজয়েরও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এ মাসেই। ইসলামের শুরুতে মুসলিমগণ এ মাসেই বিভিন্ন যুদ্ধে জয়লাভ করেছিল। ধারণা করা হয় যে ইব্রাহিম (আ:) এর সুহুফ, তাওরাত, বাইবেল সহ সকল ধর্মগ্রন্থই এ মাসেই অবতীর্ণ হয়েছিল। রোজা যখন ‘ফরজ’ হয় তখন মুসলিমদের অবস্থা ছিল ভয়াবহ: ১) ভয়ানক অর্থনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে আল্লাহর ‘একত্ববাদ’ ও ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার মহাসংগ্রাম ২) বদরে অস্তিত্ব রক্ষার অসম যুদ্ধ ৩) তাকওয়া অর্জন – কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে মুসলিমগণ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে বিজয়ী হয়েছিল। অথচ রমজানে আমরা ‘ভোগ-বিলাসিতা’ ও ‘আমোদ প্রমোদ’ নিয়েই ব্যস্ত থেকেছি। সুস্থ থেকেও রোজা না রেখে বাহাদুরী করেছি, স্বজন-প্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের পাহাড়ে চড়ে অহংকার করেছি, লক্ষ টাকা ব্যয়ে পাঞ্জাবি, শাড়ি ও লেহেঙ্গা কিনেছি, ও লোক-দেখানো ইফতার পার্টি করেছি। রোজার মাসটা এবার কিন্তু অন্যরকম। মৃত্যুর ভয়ে দিশেহারা মানুষ ঘরের কোনায় লুকিয়ে, লক্ষ্য টাকার পাঞ্জাবি বা লেহেঙ্গা কেনার চাপ নেই, স্বজনপ্রীতি ও দাম্ভিকতা কমে গেছে, অফিসপাড়ার স্যারদের বাড়তি রোজগারের চাপ নেই ও লোক দেখানো ইফতার পার্টির তোড়জোড় নেই। করোনার সৌজন্যে এবার রমজান এসেছে ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের মতো। চলুন – এ সময়ে ঘরগুলোকে ইবাদাতের স্থান তৈরী করে আল্লাহর উপাসনা করি, কোরান তেলাওয়াত করি, ও যাকাত আদায় করি। আল্লাহর নির্দেশিত পথে পরিচালিত হবার সংকল্প ব্যক্ত করি। শয়তানের হাত হতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিকে ‘না’ বলি। যা-তে আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি। তাহলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়ে করোনা থেকে আমাদেরকে রক্ষা করবেন – তিনিই সর্বশক্তিমান ও পরম দয়ালু!

Leave a Reply

Your email address will not be published.