1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক এবং পরিপূর্ণ বাঙালি : ড.কলিমউল্লাহ রামু চেইন্দা এলাকায় ২০,০০০ পিস ইয়াবাসহ একজন’কে গ্রেফতার। ভৈরবে র‍্যাবের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল সহ ৭জন গ্রফতার বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যশোর জেলা সংসদের একাবিংশ সম্মেলন জীবননগর থানা পুলিশের হাতে ফেন্সিডিলসহ আটক ১ বোনারপাড়ায় রেল কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বামনডাঙ্গা রেল শ্রমিকের বিক্ষোভ সমাবেশ যশোরে চোরাই মোবাইলসহ গ্রেফতার ২ পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু সোনাগাজীতে “স্মৃতি চির অম্লান” বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করেন- লিপটন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও বাংলার বিশ্বব্যাপ্তি : ড.কলিমউল্লাহ

রাজা — সন্ন্যাসী?

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০
  • ১৭৬ বার

রাজা — সন্ন্যাসী?
কেন রাজা সন্ন্যাসী হয়েছিলেন?
রাজাকে কে সন্ন্যাসী বানিয়েছিল ?
ঘটনা কিন্তু মিথ্যে ছিল না…… ভাওয়ালের রাজার বাস্তব
সেই ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছিল – ” কা তব কান্তা “….

শুরুতে ছবির উল্লেখযোগ্য গানগুলি দেয়া হলো –
১.
তব বেণু শ্যাম রায় সুরে সুরে কেন হায়
পরশ লাগাতে বল গো –
এই ভরা মধু মাসে কেন বঁধু ডাকো পাশে
নিদালী ভাঙাতে বল গো!
তুমি যবে মৃদু হেসে আঁখি পরে রাখো আঁখি
বুকে দোলা লাগে এসে – আধো লাজে চেয়ে থাকি,
টলোমলো যৌবনে চাও তনু মনে
কী মায়া জাগাতে বলো গো!
চাঁদ জাগে নীলিমায় — যমুনায় দোলে ঢেউ,
ফোটে ফুল বনছায় – তারা জানে না তো কেউ
কেন এ রজনী আগে আসেনি কো অনুরাগে
মিলনে রাঙ্গাতে বলো গো!
কথা ঃ শ্যামল গুপ্ত।
২.
বিরহ মধুর হোলো মিলনে মিশা
তবুও মেটে না তৃষা কেন – মেটে না তৃষা!
চাওয়া যবে হোলো সারা
শুরু হলো আঁখি ধারা,
মুখ পানে চেয়ে কাটে জাগর নিশা –
মেটে না তৃষা কেন – মেটে না তৃষা!
মৌমাছি কুসুমের বাহুর বাঁধে
মধুর মাধবী রাতে নীরবে কাঁদে।
এই কাছাকাছি থাকা এই হাতে হাত রাখা
ভীরু ভালবাসা কেন হারাবে দিশা,
তবু মেটে না তৃষা কেন – মেটে না তৃষা!
কথা ঃ কল্পনা চক্রবর্তী।
৩.
জোছনাতে বসবে এসো শাল বনের এই তলাতে –
কলকে ফুলের মালা পীতম চলকে দেব গলাতে!
আজকে রাতে আমোদ ভারী
দুঃখের মুখে তুড়ি মারি –
চাঁদ ডুবে ভোর হ’বেই হ’বে পিরীত কথা বলাতে।
মন ভ্রমার ঘুম ভেঙেছে ফুল পরীদের চুমাতে –
পরদেশীয়া আজকে রাতে আর দেব না ঘুমাতে।
আঁচলখানি পাতবো ভূঁয়ে
মুখের পয়ে থাকবো নুয়ে,
তোমায় আমায় করবো খেলা কালাতে আর ধলাতে –
শালবনের এই তলাতে।
কথা ঃ কল্পনা চক্রবর্তী।
৪.
আজ মনে মনে ভাবি আমি কি তোমার
কেহ নই কিছু নই –
তাই কভু বা আশায়, কভু নিরাশায়
তব মুখ পানে চেয়ে রই।
তুমি কাছে এলে মোর মন চলে যায় দূরে
দূরে গেলে হায় আঁখি দুটি মোর ঝুরে –
গানের ভূবনে ভাঙ্গা সুর নিয়ে আনমনা মিছে হই।
আমি যেন মরু – তুমি মরিচীকা
আছো তবু যেন নাই,
আমার পিয়াসা তোমার মায়ায়
ছলনায় ভরা তাই।
তুমি আজ যেন মোর জীবনের মধুমেলা
তুমি ভরে তোলো মম অভিমানে সারা বেলা,
তাই পাষাণের ভার বুকে নিয়ে আমি
ফাগুনের ব্যথা বই।
কথা ঃ শ্যামল গুপ্ত।

লিয়াকত হোসেন খোকন

বিধায়ক ভট্টাচার্য্য পরিচালিত ” কা তব কান্তা ” ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫২ সালের ২৫ শে জুলাই ছবিঘর, মিনার ও বিজলী প্রেক্ষাগৃহে।
সুরকার ঃ দক্ষিণামোহন ঠাকুর।
ক্যামেরাম্যান ঃ শচীন দাশগুপ্ত।
সম্পাদনা ঃ নিকুঞ্জ ভট্টাচার্য্য।
শিল্পনির্দেশক ঃ হীরেন লাহিড়ী।
শব্দযন্ত্রী ঃ সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়।
ম্যানেজার ঃ বিশ্বনাথ বসু।
পরিবেশনা ঃ রূপচিত্রম লিমিটেড।
প্রযোজক ঃ কুমুদবন্ধু দাস।
বান্ধব পিকচার্সের ব্যানারে নির্মিত ” কা তব কান্তা ” ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ঃ
সন্ধ্যারাণী, পদ্মা দেবী, প্রমীলা ত্রিবেদী, অপর্ণা, লীলাবতী, জীবেন বসু, কমল মিত্র, মীরা বসু,
বীণা ঘোষ, অনিমা, সুধা পাত্র,
বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, রঞ্জিত রায়, গৌরীশঙ্কর,
বেচু সিংহ, অনিল রায়, অমিয়, সুব্রত,
পান্নালাল, অচিন্ত্য কুমার, সৌরেন ঘোষ,
হলধর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশু, শৈলেন, গণেশ, ভবানী,
কালী, বিশ্বশ্বর, সুনীতি সেন, নিমাই, শীতল
এবং আরও অনেকে।

কাহিনী ঃ
দীর্ঘদিন তপস্যান্তে মুক্তি পায় সন্ন্যাসী ভিখন দাস। গুরুদেবের কাছ থেকে মুক্তির আদেশ পেয়ে সে পথে বেরিয়ে পড়ে।
অজানা, অনির্দিষ্টের পথে চলা শুরু হয় তার। পথ চলতে চলতে এক প্রশ্ন সন্ন্যাসী ভিখন দাসের মনে জেগে ওঠে – ” কে সে? ” কি তার পরিচয়? কোথা থেকে তার আগমন? আর কেনইবা তার এই সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ?
এ সব প্রশ্নের উত্তর সে খুঁজে পায় যোগবলে, ধ্যানাচ্ছন্ন হয়ে সে দেখতে পায় তার পূর্ব ইতিহাস,
বিস্মৃতির যবনিকা ধীরে ধীরে উন্মুক্ত হয়ে যায়।
মনে পড়ে তার………….
সে মানসগড়ের রাজা রবীন্দ্র। রুকুমপুরের জমিদার কন্যা অসামান্য সুন্দরী দীপার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তার।
কিন্তু সে বিয়ে শুধু বিয়ের অভিনয় মাত্র।
কারণ রবীন ছিল মদ্যপ, সুরা – সুধা আর বাঈজীর গীত – সুধা পান করেই দিন কেটে যেত তার, স্ত্রীর খোঁজ নেবার সময় ঘটতো না কখনও।
এদিকে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে রাত্রি প্রভাত হত দীপার, তার উপবাসী চিত্ত কেঁদে মরতো স্বামীর এক ফোঁটা ভালবাসার আশায়।
কিন্তু বৃথা সে আশা। এমনিধারা মানসিক অসুস্থতা দৈহিক রোগে রূপান্তরিত হয়ে ক্রমশঃ শয্যাগত করে ফেললো দীপাকে। ডাক্তার এলো। রবীনের বাল্যবন্ধু, সদ্য বিলেত প্রত্যাগত অজিত এলো দীপাকে সুস্থ করে তোলার ভার নিয়ে।
কিন্তু সুদর্শন অজিত দীপাকে দেখতে এসে তার উপবাসী মনের সন্ধান পেয়ে গেল। তাই শূন্যস্হান পূর্ণ করে তোলার উৎসাহে মেতে উঠলো সে। আশ্রয়হীনা দীপাও অজিতের কাছে পেল যেন এক পরম আশ্রয় আর পেল বন্ধুত্বের নির্ভরযোগ্য অঙ্গীকার।
দীপা অসুস্থ, তাই ডাক্তারের পরামর্শে, সেই উপলক্ষে তাকে হাওয়া বদল করতে মধুপুরে পাঠানো হলো, সঙ্গে গেল ডাক্তার, রবীন আর তার বহুদিনের পুরনো চাকর বাহার চাচা।
সেখানে ডাক্তার আর দীপার মেলামেশাটা ঘর ছাড়িয়ে বাইরের লোকদেরও আলোচনার বিশেষ বস্তু হয়ে উঠলো। রবীন কিন্তু বুঝতে পেরেও নির্বাক।

মধুপুরে এসে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলো বটে কিন্তু পরিবর্তে শয্যা নিল রবীন। ডাক্তারের অভিমত অতিরিক্ত মদ্যপানই নাকি এর কারণ। ক্রমশঃ স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটতে লাগলো রবীনের, সে সবই বুঝতে পারছিল কিন্তু আশৈশব বন্ধুর প্রতি তার মন এতটা সন্দেহযুক্ত হতে চাইল না।
একদিন বিকেলে প্রসাধন শেষ করে বাইরে যাবার জন্য প্রস্তুত হলো দীপা। রবীন যেতে নিষেধ করলো তাকে।
কিন্তু সে, সে কথা শুনতে চাইলো না।
ইতোমধ্যে অজিত এসে পড়লো সেখানে। অজিতকে দেখে উত্তেজিত হয়ে চীৎকার করে উঠলো রবীন, পরমুহূর্তেই তার প্রাণহীন দেহ বিছানায় লুটিয়ে পড়লো।
শববাহকরা মৃতদেহ নিয়ে শ্মশানে উপস্থিত হলো। মাত্র একজনকে পাহারায় রেখে অবশিষ্ট লোকেরা গেল কাঠের সন্ধানে। রবীনের দেহ তখনও ক্ষীণ জীবনের আশা প্রবাহিত ছিল।
পাহারারত লোকটি মৃতদেহের অস্ফুট শব্দ শুনে প্রাণভয়ে সেই স্থান থেকে ভয়ে পালালো।
তারপর এক সন্ন্যাসী রবীনের নবজীবন দান করলো।
মানসগড়ের রাজা রবীন্দ্র তাই সন্ন্যাসী ভিখন দাসে রূপান্তরিত হলো।
দ্রুত পথ চলে সন্ন্যাসী ভিখন দাস। মানসগড়ে আবার পৌঁছাতে হবে তাকে।
সংসার তাকে আবার ডাক দিয়েছে। সেখানে সে পৌঁছাল বটে কিন্তু দীপা তাকে চিনতে পারলো না, দারোয়ানের সাহায্যে পথে বার করে দিলো তাকে।
সেই এখন রবীনের পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিক।
কেউ রবীনকে চিনতে না পারলেও বাহার চাচার চোখ কিন্তু তাকে চিনতে পারলো ঠিক।
রবীন তার দিদির আশ্রয়ে থেকে তারই সাহায্যে মামলা করতে শুরু করলো।
মামলায় প্রকাশ পেল সবই।
অজিতের সঙ্গে দীপার গুপ্ত প্রণয়,
রবীনকে ” লো পয়জন ” করা সব প্রমাণ হয়ে গেল প্রিভিকাউন্সিলের বিচারে।
তাই আদালতের আদেশে রবীন তার দ্বিতীয় স্ত্রী সহ তার সম্পত্তি দখল নিতে এলো।
সম্পত্তি সে পেল বটে, কিন্তু দীপাকে আর সে ফিরে পেল না।
বিষপান করে দীপা তখন মৃত্যু পথের যাত্রিণী।

লেখক ঃ
লিয়াকত হোসেন খোকন
বাংলাদেশ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..