1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উদ্বাস্তু পুনর্বাসনে বঙ্গবন্ধু অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন: ড.কলিমউল্লাহ বঙ্গবন্ধু স্বপ্নচারী এবং দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব ছিলেন: ড.কলিমউল্লাহ বিজিবির রাতভর অভিযানে ভোরে ৯ গরু জব্দ, আরো ৫১টি গরু পাহাড়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও সার্জন,ভুয়া এমবিবিএস ও এমডি পদধারী প্রতারক ডাক্তার আটক র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের জন্য ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঈদগাঁও বাজারে চাঁদা দাবির অভিযোগ! বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হারাগাছ সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত। রংপুরের গংচড়ায় বিধবা ভাতা ও একটি টিনের ঘরের জন্য আকুতি জানিয়েছেন রুনা লায়লা গ্লোবাল টিভির সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসী মুন্নার গ্রেফতারের দাবিতে সাভারে বিভিন্ন কর্মসূচী

নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কাহিনী *

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ মে, ২০২০
  • ৩৯৬ বার

লিয়াকত হোসেন খোকন

জ্ঞানচর্চায় – গুণগ্রাহিতায় – সামাজিক কর্তব্য পালনে – প্রজানুঞ্জনে – হাস্য -পরিহাসে – শক্তিচর্চ্চা ও শীকারে – নদীয়ার সর্ব্বজনমান্য রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পরমানন্দে দিন কাটে. ……..
শুনুন সেই অতীত কাহিনী……………..
সর্ব্বগুণাম্বিত এই ভূস্বামীর জনপ্রিয়তা ক্রমশই তাঁর নিত্যসহচর সুখদুঃখের বিঘ্ন বিপদের একান্ত বন্ধু ও সেবক গোপাল ভাঁড়ের অনন্য সাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত পরিহাস -রসিকতার আলোকে সমুজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
কিন্তু বিধাতা নিরবচ্ছিন্ন সুখ কারো অদৃষ্টে লেখেন না।
এই ঐশ্বর্য্যময় পরিবেশের মধ্যে একদিকে পতিভক্তি পরায়ণা বড়রাণী ও তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র শিবচন্দ্রের, অন্যদিকে দাম্ভিক ও ঈর্ষাতুরা ছোটরাণী ও তাঁর পুত্র শম্ভুচন্দ্রের মধ্যে একটা প্রচ্ছন্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঝড়ের আগে ঈশাণ কোণের এক খন্ড সর্বনাশা কালো মেঘের মত সঞ্চিত হতে থাকে।
মাঝে মাঝে ছোটখাটো দু-একটি ঘটনার মধ্যে সংঘর্ষ দেখা দেয়, কৃষ্ণচন্দ্রের প্রশান্ত মানস সরোবরে দুশ্চিন্তার তরঙ্গ উৎক্ষিপ্ত হয়।
এদিকে বাংলার রাজনৈতিক আকাশেও তখন ঝড়ের পূর্বাভাস। নবাব আলীবর্দির মৃত্যুর পর সিরাজউদ্দৌলা
নবাব হলেন। তরুণ নবাবের বিরুদ্ধে শুরু হলো স্বার্থান্বেষীদের হীন চক্রান্ত। কৃষ্ণচন্দ্র চক্রান্তকারীদের বিশ্বাস করে সাংঘাতিক ভুল করলেন।

তারপর মীরজাফরী চক্রান্তে —
বণিকের মানদণ্ড দেখা দিল পোহালে শর্বরী রাজদণ্ডরূপে “।
কৃষ্ণচন্দ্র সিরাজের হত্যার সংবাদে মুহ্যমান হয়ে পড়লেন। এবার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে ভুলের মাশুল দিতে প্রস্তুত হতে হ’ল।
অনুতাপে, আত্মগ্লানিতে, পারিবারিক অশান্তিতে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র উন্মাদ হবার মতো হলেন।
একমাত্র মহাসাধক রামপ্রসাদই তাঁর সান্ত্বনা তাঁর কাছে গিয়ে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র শান্তি পান। মাতৃনাম শুনে মুগ্ধ হন।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এবং রামপ্রসাদ উভয়েই এমন নিবিড় বন্ধনে জড়িয়ে পড়েছিলেন যে,
একে অপরকে না দেখে প্রায়শই থাকতে পারতেন না।
সাধক রামপ্রসাদের প্রভাবে ক্রমশ রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আধ্যাত্মিক জীবনও শেষ বয়সে একটা মধুর দিব্যভাবে আচ্ছন্ন হয়ে উঠেছিল।
দেখতে দেখতে সিরাজ গেল – মীরজাফর এলো – মীরজাফর গেল – মীরকাশিম এলো।
যে মীকাশিম একদিন সিরাজকে শ্বশুর মীরজাফরের আদেশে বন্দী করেছিলেন –
যে মীরকাশিম সিরাজের বিরুদ্ধে ইংরাজের হয়ে লড়েছিলেন, সেই মীরকাশিম
তখৎ – ই – মোবারকে বসেই প্রতিজ্ঞা করলেন –
সর্বপ্রথম ইংরাজকে এদেশ থেকে দূর করে দেবেন।
এজন্য যাঁরা যাঁরা সিরাজের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল তাঁদের প্রত্যেককে বন্দী করে মুঙ্গের দুর্গে আটক করে রাখলেন।
দুর্ভাগ্য ও ভ্রান্তিবশত রাজা কৃষ্ণচন্দ্রও বন্দী হলেন।
এদিকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পারিবারিক অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র মুঙ্গের দুর্গে বন্দী হওয়ায় পিতৃ দ্রোহী
শম্ভচন্দ্র পিতার অনুপস্থিতির সুযোগে নদীয়ার সিংহাসন
দখল করলেন।
তখন ওদিকে মীরকাশিমের আদেশে ঘাতকরা কৃষ্ণচন্দ্রকে হত্যা করবার জন্য নিয়ে যাচ্ছে……..
কিন্তু মীরকাশিম বাধা পেলেন ফকীরের ছদ্মবেশী গোপাল ভাঁড়ের দ্বারা। কৃষ্ণচন্দ্র মুক্তি লাভ করে ফিরে এলেন নদীয়ার রাজপ্রাসাদে। কিন্তু সংসারের বৈষয়িক ঘূর্ণী চক্রের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কৃষ্ণচন্দ্র চললেন রামপ্রসাদের বাড়িতে……..

তখন কৃষ্ণচন্দ্রের কানে ভেসে এলো —-
আমায় ছুঁয়োনারে শমন আমার জাত গিয়েছে।
যেদিন দয়াময়ী আমায় কৃপা করেছে।
শোনরে শমন বলি তোরে, কিসে আমার জাত গিয়েছে
আমি, ছিলেম গৃহবাসী, কেলে সর্ব্বনাশী,
আমায় সন্ন্যাসী করেছে।
মন রসনা এই দু’জনা, কালীনামে দল বেঁধেছে।
ইহা করে শ্রবণ, রিপু ছয়জন, ডিঙ্গা ছেড়ে চলে গেছে।
যে জোরে একঘরে আমি, সে জোর আমার বজায় আছে ;
প্রসাদ বলে বেজাত ম’লে যম যেন না
আসে কাছে….. “!!
মনরে, কৃষি কাজ জানো না
এমন মানব জমিন রইলো পতিত,
আবাদ করলে ফলতো সোনা।
কালী নামে দাওরে বেড়া,
ফলনে তছরূপ হবে না।
সে যে মুক্ত কেশীর শক্ত বেড়া,
তার কাছেতে যম ঘেঁসে না।
অদ্য অব্দ – শতান্তে বা,
বাজেয়াপ্ত হবে জান না।
আছে এক তারে মন এই বেলা তুই,
ছুটিয়ে ফসল কেটে নে না।
গুরু রোপণ করেছেন বীজ,
ভক্তি বারি তায় সেঁচ না।
ওরে একা যদি না পারিস মন,
রামপ্রাসাদকর সঙ্গে নে না………. “
এই গানটি এক সময় মানুষের মুখে মুখে ছিল……..
এই গানটি ছিল রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ছবিতে।

সুধীরবন্ধু পরিচালিত ” রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ” ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫৩ সালের ২১ শে আগস্ট ।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ছবির উল্লেখযোগ্য গান ঃ
১.
মাগো তারা ও শঙ্করী।
কোন অবিচারে আমার উপর, করলে দুঃখের ডিগ্রীজারি।
এক আসামী ছযটা পেয়াদা,
বল মা কিসে সামাই করি।
আমার ইচ্ছা করে, ঐ ছটারে, গরল খাইয়ে প্রাণে মারি।
পেয়াদারা রাজা কৃষ্ণচন্দ্র, তার নামেতে দোহাই সারি।
মাগো ও তারা শঙ্করী —
পলাইতে স্থান নাই মা, বল কিবা উপায় করি।
ছিল স্থানের মধ্যে অভয়চরণ,
তাও নিয়াছেন ত্রিপুরারী।
রামপ্রসাদের দায় ঠেকায়ে বসে আছ রাজকুমারী।
২.
মন কেন মায়ের চরণ ছাড়া।
ও মন ভাব শক্তি, পাবে মুক্তি,
বাঁধ দিয়া ভক্তি দড়া।
নয়ন থাকতে দেখলে না মন,
কেমন তোমার কপাল পোড়া।
মা ভক্তে ছলিতে তনয়া রূপেতে,
বেঁধে গেলেন ঘরের বেড়া।
মায়ে যত ভালবাসে, বুঝা যাবে মৃত্যু শেষে।
ম’লে দন্ড দু’চার কান্নাকাটি,
শেষে দিবে গোবর ছড়া
সেই ধ্যানে এক মনে, সেই পাবে কালিকা তারা।
বের হয়ে দ্যাখো কন্যারূপে,
রামপ্রসাদের বাঁধছে বেড়।

চিত্রনাট্য – সুধীরবন্ধু।
কাহিনী ও সংলাপ ঃ
কবি বিমলচন্দ্র ঘোষ।
আলোকচিত্র ঃ সুরেশ দাস।
শব্দ গ্রহণ ঃ গৌর দাস।
সম্পাদনায় ঃ বদু চট্টোপাধ্যায়।
শিল্প নির্দেশ ঃ শুভ মুখোপাধ্যায়।
নৃত্য পরিচালনা ঃ অতীনলাল।
রূপসজ্জা ঃ শৈলেন গাঙ্গুলী, তিনকড়ি অধিকারী।

পর্দ্দায় ঃ
পাহাড়ী সান্যাল, সুনন্দা দেবী, মলিনা দেবী, কৃষ্ণা ব্যানার্জী, ছবি বিশ্বাস, বিকাশ রায়, সমীর কুমার, হরিধন, নবদ্বীপ হালদার, চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়, জহর রায়, গৌরীশঙ্কর, বেচু সিংহ, জয়শ্রী সেন এবং আরও অনেকে।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ছবিটি মুক্তির পরে রূপাঞ্জলি পত্রিকায় ( ২৮ শে আগষ্ট ১৯৫৩ ইং ) লেখা হয়েছিল ঃ

” কতকগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনার অসম্পূর্ণ এই চিত্র দর্শক বন্দনা লাভ করলে এই চিত্র নির্মাতা ঘাতকদের স্বার্থ সিদ্ধ হবে, সন্দেহ নাই।
চিত্রের মাঝে মাঝেই অন্ধকার পর্দ্দার আড়াল থেকে কথা বলা বেরসিক লোকটি চিত্রের সকল আকর্ষণই পন্ড ক’রে দেয়।
সিরাজ চরিত্রে সমীর কুমার আমাদের অকুন্ঠ অভিনন্দন পাবে।
বিদ্যাসাগর কলেজ ইউনিয়নের সভ্য বলে কথিত কয়েকজন যুবকের নাটকীয় আচরণে বীণা সিনেমার প্রথম ( ২১. ৮. ১৯৫৩) প্রদর্শনী ২০ মিনিট বিলম্বে সুরু। “

রূপাঞ্জলি পত্রিকায় আরও লেখা হয়েছিল ঃ
” মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র হঠাৎ ‘ মহা’- হীন হ’য়ে মুক্তি পেল কেন এ নিয়ে দর্শকদের মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
মনে ছাপ ফেলবার মত অভিনয় একমাত্র হেয়ছে সিরাজ চরিত্রে সমীর কুমারের।এই শিল্পীটিকে যে কেন আমরা আগামী চিত্রাবলীর কুশীলব তালিকায় দেখছি না তা ভাববার কথা। এরপর প্রশংসা পাবেন বিকাশ রায়, মীরকাশিম চরিত্রের চরিত্রের জন্য। আলিবর্দ্দী চরিত্রে ছবি বিশ্বাস ও গোপাল ভাঁড় চরিত্রে হরিধন মুখার্জী চরিত্রানুগ। রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র রূপে চিন্ময় চট্টোপাধ্যায় প্রশংসনীয়। নাম ভূমিকায় পাহাড়ী সান্যাল জমাতে পারেননি তাঁর কৃষ্ণচন্দ্র চরিত্রের কোন অংশই।
বড় রাণী চরিত্রে সুনন্দা দেবী ও ছোট রাণী রূপে নবাগতা কৃষ্ণা ব্যানার্জী চরিত্রানুগ।”

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..