করোনা পরিস্থিতিতে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কম্প্লেক্স এর বেহাল দশা।

জামাল উদ্দিন স্বপন ডাঃ দেব দাস দেব বেসরকারি নিউ এ্যাপোলো মেডিকেল সার্ভিসের মার্কেটিং কর্মকর্তা করোনা পজিটিভ শনাক্ত এনায়েত উল্লাহর মাধ্যমে হাসপাতালের ১৪জনসহ মোট ১৮ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয় বলে হাসপাতালের ফেসবুক পেইজে উল্লেখ করেন। এনায়েত উল্লাহ ঢালুয়া থেকে তার কর্মস্থল নাঙ্গলকোটের বেসরকারি নিউ এ্যাপোলো মেডিকেল সার্ভিসে নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন। বিভিন্ন সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও যাতায়াত করেন। এছাড়া সে অন্য কোথায়ও যায় নাই। সে কিভাবে আক্রান্ত হল এটা প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। অথচ ডাঃ দেব দাস দাস নিজের ব্যার্থতা ঢাকতে ঢালাওভাবে এনায়েত উল্লাহর দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ে দিয়ে তার মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৮জন ডাক্তারসহ ১৪জন এবং মোট ১৮জন আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করেন।
করোনা পরিস্থিতিতে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্য সহকারি, আয়া, ঝাড়–দার ও বিভিন্ন ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বরত স্বাস্থ্য সহকারি ও কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ছাড়া স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
ডাঃ দেব দাস দেবের নির্দেশে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে রসিদ ছাড়াই রোগীদের থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাস শেষে আদায়কৃত টাকার অর্ধেক ল্যাব ইনচার্জ থেকে নিয়ে যান। এখাতে গত কয়েক বছরে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাত করেন। এছাড়া হাসপাতালের জেনারেটরের তেল খরচের টাকা, হাসপতালের চতুর্দিকে পরিচ্ছন্নতা ও বিভিন্ন কেনাকাটা বাবদ বিপুল অংকের টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে
তিনি হাসপাতালের কর্মচারীদের গায়ে হাত তুলতেও তিনি দ্বিধা করেন না। সম্প্রতি হাসপাতালে মাস্টার রোলে কর্মরত এক কুক ও হাসপাতালের এক কম্পাউন্ডারকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে গায়ে হাত তোলারও অভিযোগ রয়েছে। এসময় তিনি কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য হাজী বাহারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হাজী বাহারও আমার কিছু করতে পারবে না।
জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ডাক্তাররা সপ্তাহে ২/৩দিন বহিঃবিভাগে রোগী দেখেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারদের সকাল ৮টার মধ্যে হাসপাতালে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ডাক্তাররা কখনো নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হন না। অনেক ডাক্তারকে সকাল ১১টায়ও আসতে দেখা যায়। গোহারুয়া ২০শষ্যা হাসপাতাল, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে ডাক্তারদের কাগজে-কলমে পদায়ন থাকলেও তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত ডিউটি পালন করতে দেখা যায়। এতে করে তৃণমূলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত প্রায় ২০বছর যাবত এক্সরে মেশিন না থাকায় রোগীরা এক্সরে সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার না থাকায় রোগীরা সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এতে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর জুড়ে বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারদের রোগীদের নিয়ে রমরমা গলাকাটা ব্যবসা পরিচালিত করতে দেখা যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দেব দাস দেবের বিরুদ্ধে করোনা পরিস্থিতি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ডাক্তার, কর্মচারী সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের কোন তথ্য না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের উল্টো জ্ঞান দেন এবং নিজেকে জাহির করেন। উনি কাউকে পাত্তা দেন না।
তিনি গোহারুয়া ২০ শষ্যা হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি নিয়ে স্থানীয় জনৈক ব্যক্তি ডাঃ দেব দাস দেবকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে বললে তিনি ওই ব্যক্তিকে বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আমি কথা বলতে বাধ্য নই। আমি আমার সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলবো।
ডাঃ দেব দাস দেব নাঙ্গলকোটে যোগদানের পর জাতীয় একটি অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সালম গ্রহণ, কুচকাওয়াজ ও অভিবাদন গ্রহণ মঞ্চে তাদের সাথে গিয়ে উঠে বিতর্কের জন্ম দেন। এনিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও দর্শনার্থীদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
নাঙ্গলকোটবাসী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডাঃ দেব দাস স্বেচ্ছাচারিতা ও ধাম্বিকতার কারণে নাঙ্গলকোটবাসী করোনার ঝুঁকিসহ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। নাঙ্গলকোটবাসী তার স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতি থেকে মুক্তি চায়। এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দেব দাস দেবের বক্তব্য নেয়ার জন্য তার মোবাইল ফোন নম্বার ০১৭১২-৭৬৭৯৮০ এ ফোন করলে সে ফোন রিভিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.