নাঙ্গলকোটে ডাক্তারসহ ১০স্বাস্থ্যকর্মীর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পজিটিভ রিপোর্ট ঢাকা আইইডিআরে নেগেটিভ।

দীর্ঘ ১২দিন লক ডাউন থাকার পর নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সবধরণের সেবা চালু

নাঙ্গলকোটে নতুন করে ৮জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় ৬জন স্বাস্থ্যকর্মী এবং গতকাল বৃহষ্পতিবার ২জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। নতুন দুই জন হলেন, উপজেলার পেড়িয়া ইউনিয়নের একজন এবং সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। এনিয়ে নাঙ্গলকোটে মোট আক্রান্ত ৭১ জন হলেও সর্বশেষ ঢাকা আইইডিসিআর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ডাক্তারসহ ১০জনের রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় তাদের ১০জনকে বাদ দিয়ে মোট আক্রান্ত ৬১জনে দাঁড়ালো। নতুন আক্রান্তদের হোম আইসোলেশনের রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে, নাঙ্গলকোটের করোনার (কোভিড-১৯) সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দেব দাস দেবের সাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের এক প্রেস ব্রিফিং গতকাল বৃহষ্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডাঃ দেব দাস দেব নাঙ্গলকোটে করোনার সার্বিক পরিস্থিতি সাংবাদিকদের তুলে ধরেন। তিনি সাংবাদিকদের নাঙ্গলকোটে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আশার বাণী শোনান। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
তিনি জানান, ইতিমধ্যে গত ১১ মে থেকে করোনায় আক্রান্ত অনেকের ১৪ দিনের হোম আইসোলেশন শেষ হয়েছে। তাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয়বারের মত নমুনা পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে করোনা পজিটিভ শনাক্ত অন্তত ৩০ জনকে সুস্থ হিসেবে ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে, গত ২৩ মে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সাতজন ডাক্তারসহ ১০ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ায় তাদের নমুনা গত ২৪ মে পুনরায় ঢাকা আইইডিসিআরের পুনঃপরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। গত ৩ জুন সন্ধ্যায় তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় দীর্ঘ ১২দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লক ডাউন থাকার পর গতকাল বৃহষ্পতিবার উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগ, জরুরী বিভাগ ও আন্তঃবিভাগের সকল স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ২৪ মে ঢাকা মহাখালীর আইইডিসিআরে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ডাক্তারসহ ৫০জন স্বাস্থ্য কর্মীর প্রেরিত নমুনার মধ্যে ৪৪ জনের করোনা নেগেটিভ শনাক্ত হয়। অন্য ৬জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। ঢাকা মহাখালীর আইইডিসিআরে প্রেরীত ৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মীর নমুনার মধ্যে গত ২৩ মে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব হতে প্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সাতজন চিকিৎসক, একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও একজন স্যাকমোর করোনা পজিটিভ পুনঃপরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে।
তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের সাতজন ডাক্তারসহ ১০জনের দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসাকে করোনা পরিস্থিতির প্রথম একটি যুদ্ধে জয়লাভ বলে জানান।

তিনি জানান, ঢাকা আইইডিসিআরের রিপোর্টে ডাক্তারসহ ১০জন স্বাস্থ্য কর্মীর রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় আইইডিসিআরের পরামর্শে তাদেরকে ‘নন-কোভিড-১৯’ ঘোষণা দিয়ে উপজেলায় মোট কোভিড-১৯ পজিটিভ তালিকা থেকে তাদেরকে বাদ দেয়া হয়। এতে উপজেলায় মোট আক্রান্ত হলো ৬১ জন।

এদিকে, ডাক্তারসহ ১০জন স্বাস্থ্যকর্মীর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবের পজিটিভ রিপোর্ট ঢাকা আইইডিসিআরে নেগিটিভ আসায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবের রিপোর্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এনিয়ে ডাঃ দেব দাস দেব সাংবাদিকদের বলেন, আমি বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানিয়েছি।
তিনি প্রথমদিকে আক্রান্তদের ১৪দিনের হোম আইসোলেশন শেষ হবার পরও দ্বিতীয়বার পুনঃপরীক্ষার ধীরগতি নিয়ে বলেন, হাসপাতাল লক ডাউন হবার পর আমাদেরকে নতুন টিম গঠন করতে হয়েছে, এ্যাম্বুলেন্স সংকট এবং লোকবল সংকটের কারণে আমাদের দ্বিতীয়দফা নমুনা সংগ্রহ করতে দেরি হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পুনঃপরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি।

ডাঃ দেব দাস দেব জানান, শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষের মধ্যে করোনার মৃদু উপসর্গ রয়েছে। ১০ ভাগ মানুষ সিরিয়াস। এছাড়া অন্য ১০ ভাগ আক্রান্ত মানুষকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। করোনা আক্রান্ত শতকরা ৮৫ভাগ মানুষকে বাড়িতে হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আমরা টেলিমেডিসিন, ডাক্তার এবং স্বাস্থ্য কর্মীর মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আক্রান্তদের হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি।

তিনি আরো জানান, গত বুধবার করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউসহ ১৫৫ শয্যা বিশিষ্ট ডেডিকটেড কোভিড হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়েছে। সেখানে ১০টি আইসিইউ শয্যাসহ ১০টি ভেন্টিলেটর রয়েছে।
ডাঃ দেব দাস দেব হাসপাতালে প্রচুর লোকবল সংকটের কথা জানান। লোকবল সংকটের কারণে এক্সরে মেশিন ও ইসিজি মেশিন চালু করা সম্ভব হচ্ছে না । এছাড়া ড্রাইভার সংকটের কারণে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সও চালু করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

ডাঃ দেব দাস দেব সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নাঙ্গলকোটে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করছে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রতি আপনাদেরকে সহানুভুতি ও সহমর্মিতা থাকার কথা থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আমাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আমাদেরকে আরো প্রায় দেড় বছর যুদ্ধ করতে হবে। এ যুদ্ধে আমাদের সাথে আপনাদেরকে শামিল হতে হবে। আশা করি আপনারা সহমর্মিতা নিয়ে আমাদের পাশে থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.