কুলিয়ারচরে এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন মামলার আসামী সেলিম মাষ্টারকে গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন।

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, হাওর অঞ্চল প্রতিনিধি :

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে কুলিয়ারচর থানায় দায়ের করা মামলার আসামী সেলিম মিয়া মাষ্টারকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে উপজেলার সালুয়া ফাজিল মাদ্রাসার সামনে বেলাব – ডুমরাকান্দা রাস্তায় স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ফ্রেন্ডস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মো. সারোয়ার হোসেন, নাঈম হোসেন ও মামলার বাদী ভিকটিমের পিতা মো. আপেল মিয়া সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ।

এ সময় বক্তারা বলেন, গত ৯ জুন সকালে দড়িঁগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রী সেলিম মাষ্টার কর্তৃক যৌন নির্যতনের স্বীকার হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ রহস্যজনক কারনে মামলার আসামীদের গ্রেফতার করছেনা। এদিকে আসামিরা মামলা তুলে নিতে বাদীকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে । এ ছাড়া বক্তারা আরো বলেন, একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর পর টাকার জোরে বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে লম্পট সেলিম মাষ্টার । এ নিয়ে সেলিম মাস্টারের বিরুদ্ধে একাধিক স্কুল ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তার বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাও হয়েছিল।
টাকার কাছে দুনিয়া অচল। তাই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মাতব্বরদের সহযোগীতায় ও ছত্র ছায়ায় এসব ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে আসছে সে। যে কারণে কখনো তার বিচার করতে পারেনি ভূক্তভোগীরা। তাই তাকে সহ অন্যান্য আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান এলাকাবাসী ।

জানা যায়, কোভিট-১৯ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ আতংকে মানুষ যখন দিশেহারা। তখনই সরকারি নির্দেশে সারা দেশে স্কুল-কলেজে পাঠদানসহ প্রাইভেট কোচিং-এ পড়ানো সম্পূর্ণ নিষেধ ঘোষণা করা হলেও সরকারি নির্দেশ অমান্য করে প্রাইভেট পড়ানোর অযুহাতে উপজেলার দড়িগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম মিয়া (৪২) উপজেলার পূর্ব আব্দুল্লাপুরস্থ তার নিজ বাড়িতে একটি প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়ানোর সময় তারই স্কুলের এক ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করে। এ ঘটনায় গত ১৬ জুন ১২.৫০ পিএম সময় একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল-এ “ কুলিয়ারচরে ফের সেলিম মাস্টারের বিরুদ্ধে এক স্কুল ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ! বিচার দাবীতে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি দেখে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই তালুকদার ওই দিন থানার এস আই মো. আতাউর রহমানকে ওই স্কুল ছাত্রীর বাড়িতে পাঠান । এসআই মোঃ আতাউর রহমান লম্পট সেলিম মাস্টারের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বস্ত করে স্কুল ছাত্রীর বাবাকে থানায় এসে অভিযোগ করতে বলেন। পরে স্কুল ছাত্রীর বাবা কুলিয়ারচর ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সদস্যদের সহযোগিতায় ওই দিন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইয়াছির মিয়া ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবাইয়াৎ ফেরদৌসীর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরদিন ১৭ জুন বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে স্কুল ছাত্রীর বাবা মো. আপেল মিয়াকে বাদী করে সেলিম মাস্টারকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত নামা ৫/৬ জনকে আসামি করে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী-২০০৩ এর ১০ তৎসহ ৫০৬ দ.বি. ধারায় কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলা নং-০৯। মামলায় অন্যান্য আসামিরা হলেন মো. নিজাম উদ্দিন মেম্বার (৫০), মো. কামরুল হাসান (৪৫) ও এমাদ মিয়া (৩৫)।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় তোলপার শুরু হয় । এ ঘটনায় গত ১৭ জুন বুধবার সকাল ১০টার দিকে সেলিম মাস্টারের বিচারের দাবীতে দড়িগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এলাকাবাসী একটি মানববন্ধন করেন।

উল্লেখ্য, গত ৯ জুন মঙ্গলবার সকালে দড়িগাঁও গ্রামের মো. আপেল মিয়ার কন্যা দড়িগাঁও সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ৫ম শ্রেণির ছাত্রী (১১) প্রতিদিনের ন্যায় ওই সেলিম মাস্টারের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট রুমে সুযোগ বুঝে লম্পট শিক্ষক ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করে। ওই দিন প্রাইভেট পড়ার শেষে ওই স্কুল ছাত্রী বাড়িতে এসে কান্না-কাটি করে তার মায়ের নিকট এ ঘটনা খুলে বলে। এর পর বিষয়টি দড়িগাঁও এলাকায় জানা-জানি হলে এলাকাবাসীর মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। এ নিয়ে এলাকার যুব সমাজ এলাকায় লম্পট সেলিম মাস্টারের বিচার দাবীতে ১৫ জুন সোমবার রাত ৭টার দিকে স্থানীয় মুজরাই মোড় বাজার রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ঘটনার পর থেকে লম্পট সেলিম মাস্টার দড়িগাঁও গ্রামের বর্তমান মেম্বার নিজাম উদ্দিন এবং দড়িগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. কামরুল হাসান, দপ্তরী এমাদ মিয়া ও মো. রফিক মিয়ার মাধ্যমে টাকা পয়সা দিয়ে উক্ত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্কুল ছাত্রীর পরিবারকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদর্শন করে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু ছাত্রীর পরিবার প্রভাবশালীদের চাপের কাছে মাথা নত না করে সকলকে বিষয়টি অবহিত করে কুলিয়ারচর থানায় মামলাটি দায়ের করে।

এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. কবির উল্লাহ ও ডুমরাকান্দা ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জামাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইয়াছির মিয়া ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবাইয়াৎ ফেরদৌসীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখ জনক। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অফিসার ইনচার্জকে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.