1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১১:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উদ্বাস্তু পুনর্বাসনে বঙ্গবন্ধু অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন: ড.কলিমউল্লাহ বঙ্গবন্ধু স্বপ্নচারী এবং দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব ছিলেন: ড.কলিমউল্লাহ বিজিবির রাতভর অভিযানে ভোরে ৯ গরু জব্দ, আরো ৫১টি গরু পাহাড়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও সার্জন,ভুয়া এমবিবিএস ও এমডি পদধারী প্রতারক ডাক্তার আটক র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের জন্য ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঈদগাঁও বাজারে চাঁদা দাবির অভিযোগ! বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হারাগাছ সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত। রংপুরের গংচড়ায় বিধবা ভাতা ও একটি টিনের ঘরের জন্য আকুতি জানিয়েছেন রুনা লায়লা গ্লোবাল টিভির সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসী মুন্নার গ্রেফতারের দাবিতে সাভারে বিভিন্ন কর্মসূচী

নোয়াখালীর কবিরহাটে মানবপাচারকারীর অত্যাচারে বাড়ী ছাড়া ইসমাইল

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০
  • ১৯২৪ বার

নোয়াখালী প্রতিনিধি : জেলার কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নে বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে ফেরত চাওয়া মানব পাচারকারীর হাতে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে বাড়ী ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইসমাইল হোসেন (২৫) নামের এক যুবক। এ বিষয়ে দায়ের করা মামলা তুলে নিতেও মোবাইলে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ইসমাইল হোসেন বলেন, ২০১৫সালের ১৪জানুয়ারি ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের মৃত মজিবুল হকের ছেলে মফিজ উদ্দিন (৫৫) ও মফিজের জামাই বাবলু মিয়া (৩০) মাধ্যমে ৮লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি যাওয়ার চুক্তি করি। টাকা দেওয়ার পর তারা আমাকে ঢাকা নিয়ে যায়। সেখানে তারা আমাকে ওই চক্রের অন্যতম প্রধান কামাল প্রকাশ হাজী কামালসহ আরো কয়েকজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। তাদের কাজ কর্মে আমি বুজতে পারি এরা বড় ধরনের মানব পাচারকারী চক্র। পরে আমি নোয়াখালী চলে এসে মফিজকে জানাই আমি বিদেশ যাবো না এবং এই চক্রের সব ঘটনা আমি মিডিয়াকে বলে দিবো। এরপর থেকে মফিজ ও তার ভাগিনা হাতিয়ার আকবর হোসেন (দালাল) আমার সাথে ঝামেলা শুরু করে। মফিজ আমাকে পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখার ৮লাখ টাকার একটি চেক দিলেও সেই একাউন্টে কোন টাকা ছিল না। এ ঘটনায় আমি বিজ্ঞ সিনিয়র বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালত নোয়াখালীতে চেক ডিসঅনারের একটি মামলা দায়ের করি। মামলা ও তাদের কাছ থেকে টাকা চাইতে গিয়ে আজ আমি বাড়ী ও এলাকা ছাড়া।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মফিজ ও মকবুল চৌধুরীহাটের মৃত নজির মেস্ত্রীর ছেলে নূর হোসেন আমাকে মামলা তুলে নেওয়া শর্ত দিয়ে ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের মো. বাবুল প্রকাশ হাজী বাবুলকে ৫লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলে। পরে তারা বাবুলকে দুই লক্ষ টাকা নগদে দিয়ে আমাকে মেরে পেলার চুক্তি করে। ২০২০সালের ৫মার্চ নোয়াখালী জর্জ কোর্ট এলাকা থেকে বাবুল আমাকে তুলে তার বাড়ীতে নিয়ে আসে আটক করে নির্যাতন করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর পর মফিজ, বাবলু ও নূর হোসেন বাংলা মদ এবং ইয়াবা এনে বাবুলকে দেন। সে এগুলো সেবন করে আমার হাতে পায়ে লোহার চিকল পরিয়ে গাছের সাথে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করতে থাকে। আমি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে বাবুল বলেন, রাতের মধ্যে চেক এবং ডিজনারের মূল কপি না আসলে তোকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলবো। আমাকে উদ্ধার করতে আমার পরিবারের লোকজন গেলে বাবুল তাদেরও মারধর করে। এসময় বাবুল ১৫টি অলিখিত স্ট্যাম্প (সাদা স্ট্যাম্প), ৫টি নীল কাগজ, ৫টি সাদা কাগজে আমার থেকে স্বাক্ষর নেয়। পরদিন আমার ছোট বোন জামাইসহ আরো একজন চেক এবং ডিজনারের মূল কপি বাবুলের হাতে বুঝিয়ে দিলে আমাকে ছেড়ে দেয়। মামলা তুলে না নিলে আরো কঠিন ফল ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেয় বাবুল। এ মানব পাচার চক্রের ১২জনের মধ্যে ৮জনকে বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করতে পারলেও আমাকে নির্যাতনকারীদেরকে এখনো গ্রেপ্তার করেনি।

ইসমাইলের অভিযোগ, চলতি বছরের ৮জুন আমি সব কাগজপত্রের ফটোকপি নিয়ে নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কাছে গেলে তিনি আমার অভিযোগটি নিয়ে মোবাইলে কবিরহাট থানার ওসিকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বলেন। আমার মা এবং বোন কবিরহাট থানায় গেলে এসআই রুবেল উল্টো আমার মা বোনকে দমক দিয়ে আমার হাঁড্ডি গুড্ডি সব ভেঙে পেলবে বলে হুমকি দেয়। কোর্টের মামলা কোর্টে নিতে বলে সে। এই অবস্থাতে প্রতিনিয়ত আমার পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন ইসমাইল।

এ বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত মফিজ উদ্দিনের মুঠো ফোনে কল করলে রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্বব হয়নি।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা মোহাম্মদ হাসান বলেন, এসপি মহোদয়ের কাছ থেকে একটা লিখিত কাগজ আমাদের কাছে এসেছে, তবে আমি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারনে বিষয়টা নিয়ে কিছু করতে পারছিনা। বর্তমানে ওসি তদন্তের কাছে কাগজপত্র গুলো দেওয়া হয়েছে। আমিও সুস্থ্য হয়ে বিষয়টি তদন্ত শেষে অভিযুক্তদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এই বিষয়টা আমার জানা আছে, আমি কবিরহাট থানায় বলে দিয়েছে যাতে করে ভালো ভাবে তদন্ত করে, এবং প্রয়োজনে সিআইডির মাধ্যমে তদন্ত করার জন্য। বিষয়টি সত্য প্রমানিত হলে এদেরকে আটকের মাধ্যমে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..