1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উদ্বাস্তু পুনর্বাসনে বঙ্গবন্ধু অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন: ড.কলিমউল্লাহ বঙ্গবন্ধু স্বপ্নচারী এবং দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব ছিলেন: ড.কলিমউল্লাহ বিজিবির রাতভর অভিযানে ভোরে ৯ গরু জব্দ, আরো ৫১টি গরু পাহাড়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও সার্জন,ভুয়া এমবিবিএস ও এমডি পদধারী প্রতারক ডাক্তার আটক র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের জন্য ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঈদগাঁও বাজারে চাঁদা দাবির অভিযোগ! বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হারাগাছ সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত। রংপুরের গংচড়ায় বিধবা ভাতা ও একটি টিনের ঘরের জন্য আকুতি জানিয়েছেন রুনা লায়লা গ্লোবাল টিভির সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসী মুন্নার গ্রেফতারের দাবিতে সাভারে বিভিন্ন কর্মসূচী

করোনা বিশ্লেষণে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০
  • ১৬৫ বার

আরিফুজ্জামান, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ায় কোভিট-১৯ রোগের সংক্রমণ জোরালো হয়েছে। জেলা পুলিশের এক বিশ্লেষণে এতথ্য উঠে এসেছে। তারা বলছেন, কুষ্টিয়াতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বেশ জোরালভাবে শুরু হয়েছে। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা। এজন্য সবাইকে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, গত ২২ এপ্রিল থেকে গত ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলায় আক্রান্তদের নিয়ে যাবতীয় তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি দল এ কাজ করেছেন। তাতে দেখা গেছে, জেলায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বেশ জোরালো হয়েছে। বিশ্লেষনের সব তথ্যের কপি জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষণ কপিতে দেখা গেছে, কুষ্টিয়ায় কোভিড সংক্রমণ ও আক্রান্তের যাবতীয় তথ্য উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, সকল তথ্য সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সরবরাহের ভিত্তিতে গত ১০ জুলাই পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এদিন পর্যন্ত জেলায় মোট কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯২৭ জন। তাতে সুস্থ হয়েছে ৪৬৩ জন। মারা গেছে ১৯ জন। সুস্থতার হার ৪৯ দশমিক ৯৫ ভাগ। মৃতের হার ২ দশমিক ০৫ ভাগ। শনাক্ত বিবেচনায় পুরুষ ৬৩৪ জন, নারী ২৩০ জন ও শিশু ৬৩ জন।

বয়স ভিত্তিকে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা রয়েছেন ২৪৫ জন। এরপর রয়েছে ২১ থেকে ৩০ বয়স বয়সের। তাদের সংখ্যা ১৯৭ জন। তবে ৫০ উর্দ্ধো রোগীর সংখ্যা জেলায় মাত্র ১৮৯ জন। মারা যাওয়া ১৯ জনের মধ্যে চারজন করে রয়েছে ৩১ থেকে ৪০ বছর ও ৬১ থেকে ৭০ বয়সের মধ্যে।

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সবদিক দিয়ে সদর উপজেলায় সবকিছুই বেশি পাওয়া গেছে। এ উপজেলায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৪৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ৫০৮ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছে ২১৫ জন। মারা গেছে ১৩ জন। আক্রান্তের চিত্রে সদর উপজেলা মোট আক্রান্তের ৫৫ ভাগ জুড়ে আছে। উপজেলা ভিত্তিক সুস্থ্যতার হারেও ৪৬ ভাগ জায়গা জুড়েছে সদর উপজেলা। সেখানে মোট মৃত্যুর হারে সদর রয়েছে ৬৯ ভাগ। জেলা পুলিশের বিশ্লেষণ বলছে, গত ২২ এপ্রিল জেলায় প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ঈদুল ফিতরের আগ পর্যন্ত ৩৪ দিনে জেলায় রোগী শনাক্ত হয় মাত্র ৩৬ জন।

আর ঈদের পর গত ১০ জুলাই পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৮৯১ জন। ঈদের পর রোগীর হার ৯৬ ভাগ। এপর্যন্ত ৬ হাজার ৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ১৪২ জন। বাসায় চিকিৎসা নিয়েছে ৭৮৬ জন। সপ্তাহ বিবেচনায় জেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ১১তম সপ্তাহে। এই সপ্তাহে ৮৩৫ নমুনা পরীক্ষায় মোট রোগী হয়েছিল ১৯৩ জন। আর শনাক্তের এখন পর্যন্ত শেষ ১২তম সপ্তাহে মাত্র ৪৪৪ নমুনা পরীক্ষা করে পজিটিভ রোগী হয় ১১১ জন। পুলিশ বলছে, পঞ্চম সপ্তাহ থেকে রোগী বাড়তে থাকে। এবং নবম সপ্তাহ থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে রোগী বাড়ে।

পেশা ভিত্তিক শনাক্ত চিত্রও পুলিশ তুলে ধরেছে। সেখানে দেখা গেছে, গৃহিনী ১৬১ জন, ব্যাংকার ৬৬ জন, ব্যবসায়ী ৭০ জন, কৃষক ৫৩ জন, স্বাস্থ্যকর্মি ৫২ জন, চিকিৎসক ৬ জন, সরকারি চাকুরিজীবি ৪৩ জন, বিআরবি গ্রুপের কারখানায় চাকুরিজীবী ৪৮ জন, পুলিশ সদস্য ৪৩ জন, জনপ্রতিনিধি ৬ জন। পেশা ভিত্তিক শনাক্তে ১৮ ভাগ গৃহিনী। পারিবারিকভাবে আক্রান্ত হয়েছে ২১৪ জন যা ২৩ ভাগ। আর আক্রান্তের কারণ জানতে পারেনি এমন রোগী ৭১৩ জন। স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছে ৮৪ ভাগ রোগী। বাকি ১৬ ভাগ রোগী জেলার বাইরে আক্রান্ত হয়ে আসে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা মনে করছেন, জেলায় যেহেতু যুবক শ্রেণীর বয়সীরা বেশি আক্রান্ত সেহেতু এটা খুবই ভাবার বিষয়। বর্তমানে জেলায় কোথাও কোন লকডাউন নেই। ঈদের আগে ভিড় বেশি বাড়বে। পশুহাটগুলোতে জটলা বাধবে। সংক্রামন হু হু করে বাড়বে। তাই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন কমাতে হলে সামাজিক দূরত্ব নিয়ন্ত্রণ করার কোন বিকল্প নেই।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জেষ্ঠ্য মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও আইশোলসন ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সমন্বয়ক এ এস এম মুসা কবির বলেন, পুলিশ সময় উপোযোগী তথ্য বিশ্লেষন করেছে। এতে ভয়াবহ চিত্র ফুঠেছে। বয়স ও পেশা ভিত্তিক আক্রান্তের বিষয়টি ভাবার বিষয়। হয়তো এই বয়সের মানুষেরা অসচেতনভাবে বাইরে বের হয়েছিল। গৃহিনীরা বাড়িতে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে এসব সংক্রমণ কমানোর জন্য এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেবার প্রয়োজন।

সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের না হতে বারবার বলা হচ্ছে। জনগণ যদি নিজে না মানে তাহলে এই সময়ে জোর করে মানানো একটু কঠিন ব্যাপার।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..