জেনে রাখুন। চেনা-জানা পথ সব সময় সহজ হয়। সাহস ও ধৈয্য’ রাখুন এ করোনাকালীন সময়ে –

রাজিব আহমেদ জনি : জেনে রাখুন, চেনা-জানা পথ সব সময় সহজ হয়, সাহস ও ধৈয্য’ রাখুন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক ধৈয্য”শীলদের পছন্দ করেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরলাম –

শতকরা ৯৫-৯৬ % করোনা রোগীর ক্ষেত্রে :

আপনি যদি করোনা আক্রান্ত হয়েই যান তাহলে সব’প্রথম আল্লাহ পাক এর উপর আস্থা রেখে এই ৯৫-৯৬% এর ভেতর আপনি নিজেও একজন এমনই বিশ্বাস রেখে সামনে এগুবেন। করোনা একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগের চিকিৎসার জন্য কোন কার্যকরী এন্টিভাইরাল এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তাই মূলত উপসর্গ ভিত্তিক চিকিৎসা দেয়া হয়। যেসকল উপসর্গ ও জটিলতা ডেভেলপ করে সে সকল উপসর্গের ও জটিলতার চিকিৎসা দেয়া ও মনে সাহস রাখা করোনা রোগের চিকিৎসার মূল সূত্র।

অধিকাংশ করোনা রোগী অর্থাৎ ৯৫-৯৬ শতাংশেরও বেশি রোগীর সাধারণত মাইল্ড ডিজিজ হয়। সাধারণ সর্দি কাশি গলা ব্যাথা জ্বর হয়। এরা খুব দ্রত ভালো হয়ে যায়। এদের হাসপাতালে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। বাসায় বসে সাধারণ কিছু ঔষধ খেলেই এরা সুস্থ হয়ে যায়। এছাড়া কারো কারো স্বাদ চলে যায় বা ঘ্রাণ পায় না। এক্ষেত্রে মাছ মাংস ডিম দুধ সবজি ফল – এগুলো বেশি বেশি খাবেন। ভিটামিন-সি, জিংক, ভিটামিন-ডি, ভিটামিন- বি এগুলো আছে এমন খাবার ও এ জাতীয় ভিটামিন ঔষধ খাবেন ।

এগুলো কিন্তু করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা নয়। তবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সারা দিনে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন। ডাক্তারের সাথে পরামশ’ করে ছোট খাট কিছু টেসট ( CBC, CRP, S.Creatinine , Cheast X-Ray PA View, Vitamin D Level ও ডায়াবেটিক রোগীরা HBA1c টেস্টটা করিয়ে নিবেন। এছাড়া যদি সম্ভব হয় এ টেস্টগুলোও করিয়ে নিলে ভাল হয়,যেমনঃ Renal Function Test, Ferritin, Serum, SGPT ) করিয়ে নিজেকে ফলো আপে রাখুন কোথায় যাচ্ছে আপনার শারীরিক পরিস্থিতি। আপনার শরীর খারাপ অনুভূতি হওয়ার তারিখটা মনে রাখুন, নিজেকে একটি ঘরে মিনিমাম ১৪ দিনের জন্য সবার থেকে আলাদা করে রাখুন ও সাথে একটি ভাল মানের পাল্ স অক্সিমিটার রাখুন।

প্রত্যেক রোগীরই একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের ক্লোজ মনিটরিংয়ে থাকা উচিত, যাতে করে কোন জটিলতা শুরু হওয়া মাত্রই চিকিৎসা শুরু করা যায়।

শতকরা ৪-৫% করোনা রোগীর ক্ষেত্রেঃ

ফুসফুসে সমস্যা-

যেমন কারও কারও অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দিতে পারে। ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে অক্সিজেন কমে গেলে অক্সিজেন দিতে হয়। পালস অক্সিমিটার দিয়ে অক্সিজেন মাপা যায় এবং এটা ৯৩ এর নিচে নেমে গেলে অক্সিজেন দিতে হবে। এই অক্সিজেন দেওয়ার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ভালো। বাসায় অক্সিজেন দেয়াটা নিরাপদ নয়। বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হতে পারে। তাছাড়া কার কখন কি মাত্রায় অক্সিজেন দিতে হবে সেটা অভিজ্ঞ ডাক্তার ছাড়া নির্ণয় করা সম্ভব নয়। অতিমাত্রায় অক্সিজেন দিলে ফুসফুসের ক্ষতিও হতে পারে। এছাড়া করোনা রোগীর নিউমোনিয়া হওয়ারও একটা আশংকা থাকে ( এ ক্ষেত্রে Cheast Citi Scan এর মাধ্যমে ফুসফুস নিউমোনিয়ার কারনে কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হলো তা সহজেই নিরুপন করা যায়) ।

রক্ত জমাট বাধা-

কোভিডের আরেকটি মারাত্মক উপসর্গ হলো রক্ত জমাট বেধে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হওয়া ( D-Dimmer নামক টেস্টের মাধ্যমে রক্তের জমাট কি পরিমান আছে তা সহজেই নিরুপন করা যায়) । যেমন হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা ফুসফুসের রক্তনালী বন্ধ হয়ে পালমোনারি এম্বোলিজম হয়ে রোগী খুবই খারাপ হয়ে যেতে পারে। তাই রক্ত পাতলা রাখার ইনজেকশন দেয়া হয় কতিপয় কোভিড রোগীদের আগেভাগেই। এবং এটা অবশ্যই অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে। কার এটা লাগবে, কার লাগবে না সেটা কেবল একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারই নির্ণয় করতে পারবেন।

কিডনী জটিলতা-

কোভিড রোগীদের কিডনি আক্রান্ত হতে পারে( EGFR নামক টেস্টের মাধ্যমে কিডনীর অবস্থা সহজেই নিরুপন করা যায়) । এতে কারো কারো ডায়ালাইসিস পর্যন্ত লাগতে পারে। তাই কোভিড রোগীদের কিডনি ফাংশনও মনিটরিংয়ে রাখতে হবে। যদি কিডনিতে সমস্যা দেখা দেয় তাহলে কিডনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অধীনে চিকিৎসাধীন থাকতে হবে।

হাটে’র সমস্যা-

অনেক কোভিড রোগীদের হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। হার্টের সমস্যার মধ্যে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিওর ইত্যাদি হতে পারে। এমনকি শকে চলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই হার্টের পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে এবং একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে থাকতে হবে।

আমরা যেহেতু জানি না কোন কোভিড রোগীর মাইল্ড ডিজিজ হবে আর কার ক্রিটিকাল ডিজিজ হবে তাই প্রত্যেক কোভিড রোগীকেই খুবই যত্নের সাথে রাখতে হবে এবং ক্লোজ মনিটরিংয়ে রাখতে হবে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। এবং প্রতিদিন নজরদারিতে রাখতে হবে। যদি কোন ধরনের জটিলতা দেখা দেয় বা নুতন কোন উপসর্গ দেখা দেয় তাহলে দ্রুত সেটার চিকিৎসা দিতে হবে। শুরুতেই জটিলতা নির্ণয় করতে পারলে ও দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারলে এমনকি বাসায় বসেও সফলভাবে অনেক কোভিড

রোগীর চিকিৎসা শেষ করা সম্ভব।
ইন শা আল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.