1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক এবং পরিপূর্ণ বাঙালি : ড.কলিমউল্লাহ রামু চেইন্দা এলাকায় ২০,০০০ পিস ইয়াবাসহ একজন’কে গ্রেফতার। ভৈরবে র‍্যাবের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল সহ ৭জন গ্রফতার বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যশোর জেলা সংসদের একাবিংশ সম্মেলন জীবননগর থানা পুলিশের হাতে ফেন্সিডিলসহ আটক ১ বোনারপাড়ায় রেল কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বামনডাঙ্গা রেল শ্রমিকের বিক্ষোভ সমাবেশ যশোরে চোরাই মোবাইলসহ গ্রেফতার ২ পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু সোনাগাজীতে “স্মৃতি চির অম্লান” বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করেন- লিপটন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও বাংলার বিশ্বব্যাপ্তি : ড.কলিমউল্লাহ

‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর ক্রীড়াঙ্গন এবং মাননীয় উপাচার্যের অবদান’

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০
  • ৩৯৩ বার

খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আমার সেই ছোটবেলা থেকেই। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র জীবনে প্রায়ই খেলাধুলা করতাম কিন্তু খেলাকে পেশা হিসাবে নেয়ার চিন্তাটা তখন আর মাথায় ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেখে শিক্ষকতা পেশাটাকে ভালোবেসে ফেলি। ২০১৩ সালে প্রভাষক হিসেবে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও, নিজ শহর রংপুরে প্রতিষ্ঠিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার ইচ্ছাটা অপূর্ণ থেকে যায়। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে আমার দুটি ইচ্ছাই মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার এর হাত ধরেই পূরণ হয়। যদিও পূর্বে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও হতাশা ছাড়া কিছুই পাইনি। স্যার আমাকে সরাসরি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া নিয়ে কাজ করার ইচ্ছাও পূর্ণ করেন। এ কারণে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর ক্রীড়াঙ্গনকে আমি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। সেজন্য স্যার এর প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার ১৪ জুন, ২০১৭ তারিখে যোগদান করেন। যোগদান করার পর থেকেই তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর সার্বিক বিষয়ে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম খোঁজ খবর রাখেন। যার ফলে কিছু দিনের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি স্যারের প্রবল আগ্রহের বিষয়টি কারো অজানা থাকলো না। তিনি লক্ষ্য করলেন এক দশক আগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর প্রতিষ্ঠিত হলেও ক্রীড়াঙ্গনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর উল্লেখযোগ্য কোন অংশগ্রহণ ও অর্জন নেই। তিনি একান্তভাবে চাইলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুনাম বয়ে আনবে। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরকে পুনর্গঠিত করলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনিই প্রথম শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক নিয়োগ প্রদান করলেন। ‌

মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলা কেন্দ্রীক সুস্থ প্রতিযোগিতার ধারা চালু হয়েছে। বিভিন্ন ইভেন্টে আন্ত: বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ‍সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে সফল ক্রীড়াঙ্গন তৈরির প্রত্যাশা বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যারের নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় শারীরিক শিক্ষা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু কাপ ১ম আন্ত: বিভাগ (ছাত্র) ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা, ২০২০-এর আয়োজন করে।

আন্তঃবিভাগ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা আায়োজনের উদ্দেশ্যই ছিল এর মাধ্যমে খেলোয়াড় বাছাই করে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া পরিষদ আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা । গত ১৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ব্যাডমিন্টন ছাত্র প্রতিযোগিতা, ২০২০-এ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর ব্যাডমিন্টন দল অংশগ্রহণ করে, উক্ত প্রতিযোগিতায় সারাদেশ থেকে ২৫ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাডমিন্টন দল অংশগ্রহণ করে।

ব্যাডমিন্টন এর পর শারীরিক শিক্ষা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর ফুটবল দল গঠন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত ১০১ টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে এবারের আসরে সব মিলে ১২ টি ইভেন্টে প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। উক্ত প্রতিযোগিতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যে উক্ত স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করার জন্য মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

শুধু ছেলেদের খেলাধুলা নয় মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যারের একান্ত ইচ্ছায় মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার জন্মভূমিতে প্রতিষ্ঠিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ প্রমীলা ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রচলিত খেলাধুলার বাইরে উপাচার্য স্যারের আগ্রহে ফেন্সিং টিম গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এবং তদানুযায়ী ফেন্সিং ক্লাব গঠনের লক্ষ্যে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও ব্যয়বহুল এই ফেন্সিং খেলার সরঞ্জামাদি ক্রয়ের লক্ষ্যে ই-জিপির মাধ্যমে ইতোমধ্যে টেন্ডারের আহ্বান করা হয়েছে। শুধু তাই নয় প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে উপাচার্য মহোদয় একজন আন্তর্জাতিক মানের ফেন্সিং খেলোয়াড়কে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর পদে নিয়োগ প্রদান করেন। উপাচার্য মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে একমাত্র বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-ই বাংলাদেশ ফেন্সিং এসোসিয়েশনের সদস্য পদ লাভ করেছে। ফেন্সিং প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর এর মাধ্যমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর ছাত্রীদের আত্মরক্ষার কৌশল রপ্ত করার জন্য প্রতিদিন সকালে তায়কোয়ানডো প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক হিসাবে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখি তা বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় উপাচার্য স্যার কে শুধু পাশে পেয়েছি বললে ভুল হবে, মূলত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর ক্রীড়াক্ষেত্রে এগিয়ে যাক এটা স্যারেরই চাওয়া। এজন্য মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যারের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। সর্বোপরি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার প্রাণপ্রিয় ছাত্র-ছাত্রী যারা খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে তাদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। এছাড়া, শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সকল ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানাই।

লেখক:
মো: মাসুদ-উল-হাসান
পরিচালক,
শারীরিক শিক্ষা বিভাগ

সহকারী অধ্যাপক,
মার্কেটিং বিভাগ,
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..