চৌদ্দগ্রামে মুছির ভন্ড কবিরাজি ব্যবসা জমজমাট

,

জামাল উদ্দিন স্বপন

হারাধন দাস। মারা গেছেন তিন বছর আগে। প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে ‘কুফুরী’ কবিরাজ পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে বাবুল দাস চালিয়ে যাচ্ছেন কবিরাজি’র কাজ। যোগ্যতা না থাকলেও বাবার খ্যাতি কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মানুষের লাখ লাখ টাকা। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ইউনিয়ন পরিষদের পঞ্চাশ গজের মধ্যে অবস্থিত রবিদাস বাড়িতে দেদারছে চলছে কবিরাজের এমন কর্মকান্ড। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিনিয়ত ভন্ড কবিরাজ বাবুল দাসের কর্মকান্ড চললেও নীরব ভুমিকা পালনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়ন পরিষদ ও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে বাবুল দাস তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে কবিরাজি ব্যবসা চালিয়ে আসছে। স্বামী-স্ত্রীর অমিল, পিতা-পুত্রের অমিল, পরকীয়া বন্ধ, ছেলে-মেয়েকে বাধ্য করাসহ জটিল সব সমস্যা সমাধানের কথা বলে গ্রামের নারীদের টাকা লুটপাট করে। বাবুল দাস প্রত্যেক কাজে ৫-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কন্ট্রাক্ট করে। বেশিভাগ নারী-পুরুষ তার সাথে কন্ট্রাক্ট করে। সম্প্রতি অনুসন্ধানের জন্য চৌদ্দগ্রামের এক সিনিয়র সাংবাদিকের স্ত্রী ছেলের চাকরির জন্য বাবুল দাসের নিকট যায়। তখন সাংবাদিকের স্ত্রীর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে বাবুল দাস। এ টাকা দেয়ার পরও কোন জায়গায় তার ছেলের চাকরি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকের স্ত্রী।
কনকাপৈত ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাফর ইকবাল বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানা যাবে’।
কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কায়সার হামিদ বলেন, ‘আগে বিষয়টি জানতাম না। আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। পরবর্তীতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published.