1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahmed : Sohel Ahmed
শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাগেরহাটের রামপালে ০৯ (নয়) কেজির অধিক তামারসহ চোর চক্রের ০৩ জন সদস্য আটক জাপানি মেয়েসহ আত্মগোপনে থাকা বাবাকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব সুস্থ-সবল-জ্ঞান-চেতনাসমৃদ্ধ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ মানুষের দেশ গড়তে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু : ড.কলিমউল্লাহ শিক্ষাকে বাণিজ্যিক পণ্য বানাবেন না: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ আলো থেকে আর অন্ধকারে ফিরে যাবে না – ওবায়দুল কাদের শেরপুরে ক্ষেতজুরে সূর্যমুখী ফুল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রতিবেশির জায়গা দখল করে বসতবাড়ি নির্মান করছে প্রভাবশালীরা বিশ্বনাথে উপজেলা আ’লীগের ভালবাসায় সিক্ত ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র রফিক হাসান সাংবাদিক আলমগীর নূরকে অপহরণ,হত্যা প্রচেষ্টা; সন্ত্রাসী ও গডফাদারদের গ্রেপ্তার দাবী সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে কালিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ব্রাক্ষণবাড়িয়া সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ।

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০
  • ১২৭৪ বার

 

স্টাফরিপোর্টারঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের বিরুদ্ধে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি, কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ, সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত রাস্তা ও দেয়াল নির্মাণের বিষয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

রফিক উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন । তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগমের স্বামী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ইকবাল আজাদ হত্যার মামলার প্রধান আসামি।

সরাইল উপজেলার সৈয়দ টুলাগ্রামের মোশারফ উদ্দিন ও কুট্টাপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদ এ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।

তাদের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিভিন্ন প্রকল্প কাগজে–কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে দরপত্র ও পিআইসি কমিটির মাধ্যমে নামে-বেনামে প্রকল্প দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এ উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর। তিনি নিজ বাড়ির জন্য উপজেলা ডাক বাংলোর পশ্চিম পাশ দিয়ে সরকারি জায়গার ওপর দিয়ে সরকারি খরচে ২০-২৫ ফুট প্রশস্তের রাস্তা এবং রাস্তার পশ্চিম পাশে বিনা প্রয়োজনে দেয়াল নির্মাণ করেছেন।
এডিপির প্রকল্পগুলো দরপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ঠিকাদার পেলেও চেয়ারম্যানের ভাই-ভাতিজা ও সহযোগীরা প্রভাব কাটিয়ে কাজ নিয়ে যান। করোনার এই সময়ে উপজেলার নানা শ্রেণির মানুষের জন্য প্রথম দফায় স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী কিনতে ৮০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় আরও ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। কিন্তু ইউএনওকে হাত করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সেই টাকা আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর।

লিখিত অভিযোগ থেকে আরও জানা গেছে, ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় উপজেলার হালুয়াপাড়া সেতু থেকে আরিফাইল রাস্তার সদর স্কুলসংলগ্ন স্থানে রাস্তার প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ, ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় বিভিন্ন ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের মধ্যে নলকূপ স্থাপন, ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিভিন্ন ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের মধ্যে শৌচাগারের চাকতি (রিং স্ল্যাব) সরবরাহ, ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় পাকশিমুল লম্বা ভিটা মসজিদের সামনে ঘাটলা নির্মাণ, ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় কালীকচ্ছ মধ্য রাস্তার শাহজাহানের বাড়ির সামনে পানি নিষ্কাশনের নালা নির্মাণ, ২ লাখ টাকায় অরুয়াইল দক্ষিণ বাজার বিএডিসি–সংলগ্ন চেত্রা নদী ও তিতাস নদের পাড় পর্যন্ত গাইড ওয়াল ও র‌্যাম্প নির্মাণ, ২ লাখ টাকায় অরুয়াইল বাজারের দক্ষিণ পাশে জনগণের ওঠা–নামার জন্য সিড়িসহ ঘাটলা নির্মাণ, ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় উপজেলার লোপাড়া তিতাস রোডের বারেক মিয়ার বাড়ির উত্তর পাশে প্রতিরক্ষা দেয়ালের অবশিষ্ট অংশ নির্মাণ এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় চুন্টা দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের দক্ষিণ পাশের প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ প্রকল্পের ও কাজের কোনো অস্তিত্ব নেই।

চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর এ সমস্ত প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া দরপত্র প্রকল্প-১–এর প্যাকেজ-৬ প্রকল্প কালীকচ্ছ নন্দীপাড়া তকদির চেয়ারম্যানের পুকুরের রাস্তার পাশে রিটার্নিং দেয়াল নির্মাণেরও কোনো অস্তিত্ব নেই।

অভিযোগকারী মোশারফ উদ্দিন ও আবুল কালাম আজাদ বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিনের আমলে খুন, মারামারি, সরকারি টাকা আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে সরাইল অশান্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে খুন, গুম ও মামলার শিকার হতে হয়। তাঁরা বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে। তাই জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, ‘এডিপির প্রকল্প দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদার কাজ করে থাকেন। আমি কীভাবে টাকা আত্মসাৎ করব? আমি কোনো অপকর্মের সাথে জড়িত না। আমি চাই, জেলা প্রশাসক স্বচ্ছতার সঙ্গে বিষয়টি শতভাগ তদন্ত করুক। যারা অভিযোগ করেছে, তারা আমার শত্রু না, বন্ধু মনে করি।’ তিনি আরও বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। ঠিকাদার কাজ করছেন। আর তাঁর বাড়ির রাস্তা পাকা নয়, মাটির কাঁচা রাস্তা। দেয়ালটা হলো বাসভবনের দেয়াল।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সরাইল উপজেলা প্রকৌশলী নিলুফা ইয়াছমীনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এস এম মোসা বলেন, সুরক্ষাসামগ্রী দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো দিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। যাচাই-বাছাই করে এগুলো অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যদি কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন না হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন বেশ কয়েকটি প্রকল্প সরেজমিনে বাস্তবায়ন হতে দেখেছেন। সবগুলো ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন অভিযোগটি দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..