1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক এবং পরিপূর্ণ বাঙালি : ড.কলিমউল্লাহ রামু চেইন্দা এলাকায় ২০,০০০ পিস ইয়াবাসহ একজন’কে গ্রেফতার। ভৈরবে র‍্যাবের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল সহ ৭জন গ্রফতার বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যশোর জেলা সংসদের একাবিংশ সম্মেলন জীবননগর থানা পুলিশের হাতে ফেন্সিডিলসহ আটক ১ বোনারপাড়ায় রেল কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বামনডাঙ্গা রেল শ্রমিকের বিক্ষোভ সমাবেশ যশোরে চোরাই মোবাইলসহ গ্রেফতার ২ পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু সোনাগাজীতে “স্মৃতি চির অম্লান” বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করেন- লিপটন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও বাংলার বিশ্বব্যাপ্তি : ড.কলিমউল্লাহ

মনের পশুকে দাও কুরবানী

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০
  • ১৬৩ বার

মোঃ হাবিবুর রহমান : কুরবানী শব্দের আরবী হল কুরবান। কুরবান ঐ বস্তুকে বলা হয় যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা হয়, তা পশু জবেহ করার মাধ্যমে হউক বা যে কোন দান খয়রাতের মাধ্যমে হতে পারে।- আল্লাহর সন্তোষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নির্দিষ্ট জানোয়ার জবেহ করাকে কুরবানী বলে। প্রকৃত পক্ষে এ ঘটনা ছিল ইব্রাহিম (আঃ) আত্মত্যাগ কঠিন পরীক্ষা- ওই পরীক্ষা ইব্রাহীম (আঃ) উত্তীর্ণ হলেন নিজ পুত্র ইসমাইল (আঃ) কে আল্লাহর হুকুমে কুরবানী দিতে সেচ্চায় প্রস্তুতি গ্রহণ করে, আমাদের এই কুরবানী প্রকৃতপক্ষে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর গুরুত্ব পূর্ণ ঘটনার স্মৃতিচারণ।

মানুষকে নিজ স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে আত্মত্যাগী হবার মহৎ অনুপ্রেরণায় ইসলামে কুরবানী বিধান এসেছিল। কিন্তু আমরা এই ধরণীর মায়ার বাঁধনে পতিত হয়ে ভুলে গেছি আত্মত্যাগ। আমরা আমাদের অর্জিত সম্পদের দাসত্ব করছি বলে হৃদয়ে শুধু অর্জন গাঁথা দান বা ত্যাগের ধারনা প্রায় শুন্যের কোঠায়। দানের পরিবর্তে গ্রহন, ত্যাগের পরিবর্তে লাভের স্পৃহায় মানুষ মানবিকতা ভুলে গিয়ে পার্শবিকতা রুপ ধারণ করেছে। হেন অবস্থায় মানব হৃদয়ে পার্শবিকতার বিনাশ না হলে মানবিকতা প্রকাশ সম্ভব নয়।

আল্লাহর রাহে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়ার দীপ্ত শপথের নাম কুরবানী। কুরবানীকারী ভাবতে হবে পশুর গলায় ছুরি চালানো নয় এ ছুরি চালানো হচ্ছে কুরবানী দাতার প্রবৃত্তির গলায়। কুরবানীকারী ভারাক্রান্ত মনে ভাবতে হবে, যে সে তার নিজ সন্তানকে কুরবানী দেয়ার পরিবর্তে পশুকে কুরবানী দিতেছে। আল্লাহর প্রেমে নিজ সন্তানকে কুরবানী করিলে যে ভারাক্রান্ত শোকের ছায়া নেমে আসতো সেই অনুভূতি পশুর বেলায় থাকতে হবে। অন্যথায় কুরবানী স্বার্থকতা পাওয়া মুস্কিল। কবির ভাষায় ”তাকোয়ার অর্জনে হতে মহিয়ান, নিজ ছেলে মনে করে দাও কুরবান”। মে কুরবানীতে তাকোয়ার আবেগ অনুভূতি নেই আল্লাহর দৃষ্টিতে সেই কুরবানী কোন মূল্য নেই।

বনের পশুকে কুরবানীর মাধ্যমে মনে মায়ার দাগ কাটলে হৃদয় আসবে শূদ্ধতা, এ শুদ্ধতা লাভের জন্যই তাকোয়া যা অর্জনের জন্য কুরবানী ‘ঈদূল আজহা’। মানুষ আত্মস্বার্থ ত্যাগ, তাকোয়া ভুলে গিয়ে প্রতিযোগিতামূলক গরু, মহিষ, ভেড়া, উট, দুম্বা জবাই করে উদর পূর্তি ভুরি ভোজে আনন্দ উপভোগ করে। আত্মীয় স্বজনের নিকট নিজের নাম ফুটানোর জন্য বলে থাকেন- আমি কত লক্ষ টাকার কুরবানী দিয়েছি। বাস্তবতা হল কুরবানী প্রতিযোগীতা মাংশ ভোজের স্পৃহা বিদ্যমান।

আমার জীবনের প্রত্যক্ষ একটি দৃশ্যের সামান্য একটু ব্যক্ত করে, আমার সমমনা হৃদয় কারীদের হৃদয় প্রদান করে মনের দাগ কাটা যন্ত্রনা একটু লাগব করতে চেষ্টা করবো। কোন এক বছর জনৈক ধনী ব্যক্তি একটি বৃহৎ মহিষ কুরবানীর জন্য ক্রয় করেন। ঈদুল আজহার নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে কুরবানীর জন্য নিয়মতান্ত্রিক ভাবে মহিষটি বেঁধে শোয়ানোর পর মৌলভী সাহেব জবেহ করার নিমিত্বে গলায় ছুরি চালালেন। কিঞ্চিত গলা কাটার পর মহিষটি হঠাৎ পায়ের বাঁধন ছিঁড়ে শোয়া থেকে উঠে প্রাণে বাঁচার জন্য অচেনা পথে দৌড়াতে থাকে অবশেষে ঘটনার স্থান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে এক জঙ্গলে প্রাণ বাঁচানোর জন্য আশ্রয় নেয়। কিন্তু হায়রে বিধি! বাঁচার জন্য বনে আশ্রয় নিলে ও মাংশভোজি রাক্ষুসে দল মহিষটির পিছু ছাড়েনি। সদল বলে জঙ্গলেই তাকে পাকড়াও করিল। এ সময় ঐ মৌলভী সাহেব দ্বারা আংশিক গলা কাটার স্থান থেকে রক্তের প্রবাহ ধারা ঝরেই যাচ্ছিল। সবাই পাশে গিয়ে মহিষকে বেঁধে ফেললো এবং ওই সময় যেন তার প্রতিবাদের শক্তি ছিল না, তার দুই আঁখিতে জল টলমল করছিল। এমনি মুহূর্তে তার গলার ছুরি চালি জীবন প্রদীপের ইতি টানিলে।

মানুষ শ্রেষ্ট জীব তখনই প্রমানিত হয় যখন সে শ্রষ্ঠার নিকট আত্ম-সমর্পণ করে এবং তাই যদি হয় তখন সে যা খুশী তাই করতে পারে না।

পশু কুরবানী সময় ভাবতে হবে, আমার মধ্যে-অসত্য, অপকর্ম অন্যায় উশৃঙ্খলতা হিংসা বিদ্বেষ সর্ব অনিময় ও পার্শবিকতা কুরবানী দিয়ে, আত্বশুদ্ধি গ্রহন করতে পেরেছি কিনা, পশু কুরবানীর মাধ্যমে আমাদের মনের পশুত্বকে বিসর্জন দিয়ে আত্বশুদ্ধির পথ প্রসারিত ও তাকোয়া অর্জিত হলে ঈদুল আজহার সার্বিক স্বার্থকতা সফল হবে এবং প্রত্যাশা সবের মনে জাগ্রত হওয়া উচিৎ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..