“নতুন উদ্যোমে এগিয়ে চলেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর “

 

প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা সংকট ও সমস্যা জর্জরিত ছিল রংপুর অঞ্চলের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।শিক্ষক নিয়োগ, উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের অনাস্থা, ক্লাস বর্জন, উপাচার্যের ভবন ঘেরাওসহ নানা আন্দোলনের কারণে গণমাধ্যমে বারবার শিরোনাম হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। তবে নতুন উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার এর নেতৃত্বে নতুন উদ্যমে সেশনজট কাটিয়ে, গবেষণা ও নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে এগিয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

গত দশক পর্যন্ত শিক্ষা ক্ষেত্রে রংপুর অঞ্চলের পরিচয় তুলে ধরতে গেলে সবার আগে বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার নাম চলে আসে। বেগম রোকেয়া শুধু রংপুর অঞ্চলেরই নয়, পুরো বাংলাদেশের অহংকার। তার নামে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ছিলো ওই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের।

২০০৮ সালে অবশেষে রংপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ওই অঞ্চলের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করলেও ২০০৯ সালে ৪ এপ্রিল মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর ।

২০০৯ সালের ৪ এপ্রিল রংপুর ডিসির মোড়ের সন্নিকটে টিচার্স ট্রেনিং কলেজে প্রতিষ্ঠাকালীন ৬ টি বিভাগে ৩০০ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন শিক্ষক, ৩ জন কর্মকর্তা ও ৯ জন কর্মচারী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি।

২০১১ সালে ৮ জানুয়ারী তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত দিয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি নতুন যাত্রা শুরু করে। এর পর বিশ্ববিদ্যালয়টি চলতে থাকে নতুন উদ্যোমে। বাড়তে থাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য।

সততা, আদর্শ-নীতি, পরিশ্রম ও আধুনিক চিন্তাধারার অনুসারী একজন অনন্য ব্যক্তি, যিনি হচ্ছেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ ভিসি হিসেবে ২০১৭ সালের ১৪ জুন যোগদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের গ্রেড-১ প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার । তিনি যোগদানের পর, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।

ইতোমধ্যে তার হাত ধরে এগিয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। তাঁর যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত আর দক্ষতার সমন্বয়ের ফলে আবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সার্বিক উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এ। মাত্র তিনমাসের মধ্যেই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির সবচেয়ে বড় সমস্যা সেশনজট দূর করার উদ্যোগ নেন তিনি। বর্তমানে নতুন ব্যাচের সেশনজট কাটিয়ে আগের ব্যাচগুলোকেও সময় সাপেক্ষে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আশায় বুক বাঁধছেন সেশনজটের হতাশায় পড়ে থাকা পুরাতন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্বদ্যিালয়ে যোগদানের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ করার ঘোষণা দেন প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার। শুধু ঘোষণা নয়,বরং কাজে তা করে দেখিয়েছেন তিনি। কয়েকটি বিভাগে আসনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবারের মত নেগেটিভ মার্কিং চালু করে পূর্বঘোষিত ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’এর দিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

লেখাপড়ার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলাম কার্যকলাপে ছাত্রছাত্রীদের সক্রিয় রাখার জন্য নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। বেগম রোকেয়া ও সাখাওয়াত হোসেন প্রমিলা ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছেন তিনি। যার ফলে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা পেয়েছে অসাধারণ সম্মাননা।
চালু করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর’র কার্যক্রম। তিন প্লাটুন বিএনসিসি এর অনুমোদন দিয়ে পুরাদমে ট্রেনিং এর যাবতীয় সু-ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যেখানে ছেলেদের জন্য দুই প্লাটুন ও মেয়েদের জন্য এক প্লাটুন।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের সকল সমস্যা দেখবার জন্য ‘ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রের’ পরিচালক ও সহকারী পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে যা সাবেক উপাচার্যদের সময় ছিলনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ক্যাম্পাসকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নির্মাণ করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কাজকে এগিয়ে নিতে স্থাপিত হচ্ছে দশ তলা ভবন বিশিষ্ট
ড. ওয়াজেদ রিসার্চ এন্ড ট্রেইনিং ইন্সটিটিউট, শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের নির্মাণ কাজ চলমান, ভার্চুয়াল ক্লাসরুম, যানবাহনের গ্যারেজ স্থাপন, ক্যাম্পাসের আনসার কর্মীদের জন্য স্বতন্ত্র আবাসস্থল নির্মাণ ইত্যাদি কার্যক্রম চালু সহ আরো বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা করেছেন এবং সেগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেছেন। তাছাড়া
নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে অনেকদিন পড়ে থাকা ক্যাফেটেরিয়াকে সচল করেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার ।

বিসিএস ক্যাডারসহ সরকারী বিভিন্ন চাকরীতে কৃতিত্বের সাথে স্থান করে নিচ্ছে এখানকার শিক্ষার্থীরা। সারাদেশের প্রতিটি জেলা থেকে এখানে এসে পড়াশোনা করছে আট হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বদ্ধ পরিকর।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী হিসেবে বিশ্বাস করি যে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার এর নেতৃত্বে আমাদের প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণশিখরে পৌঁছাবে। ইনশাআল্লাহ!

মোঃ আলমগীর কবির
ইলেকট্রিক লাইনম্যান,
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.