1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উদ্বাস্তু পুনর্বাসনে বঙ্গবন্ধু অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন: ড.কলিমউল্লাহ বঙ্গবন্ধু স্বপ্নচারী এবং দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব ছিলেন: ড.কলিমউল্লাহ বিজিবির রাতভর অভিযানে ভোরে ৯ গরু জব্দ, আরো ৫১টি গরু পাহাড়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও সার্জন,ভুয়া এমবিবিএস ও এমডি পদধারী প্রতারক ডাক্তার আটক র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের জন্য ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঈদগাঁও বাজারে চাঁদা দাবির অভিযোগ! বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হারাগাছ সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত। রংপুরের গংচড়ায় বিধবা ভাতা ও একটি টিনের ঘরের জন্য আকুতি জানিয়েছেন রুনা লায়লা গ্লোবাল টিভির সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসী মুন্নার গ্রেফতারের দাবিতে সাভারে বিভিন্ন কর্মসূচী

নিরবে আলো ছড়াচ্ছে ভাসমান হাসপাতাল ‘জীবন তরী’

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২০
  • ১৫৯ বার

 

আব্দুল্লাহ আল হাসিব:
নদীমাতৃক দেশ আমাদের বাংলাদেশ। এ দেশের নদীর পার ধরে ভেসে বেড়াচ্ছে একটি হাসপাতাল। ভাবতে অবাক লাগলেও এটি চালু আছে প্রায় দুই দশক ধরে। ভাসমান একটি জাহাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত এই দাতব্য হাসপাতালটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে।

এটি বাংলাদেশের মাওয়া, আশুগঞ্জ, দাউদকান্দি, কুলিয়ারচর, ফেঞ্চুগঞ্জ, মার্কুলি, ভুয়াপুর, দৌলতদিয়া, রহিমাবাদ, মোল্লাহাট, গোবরা, নওয়াপাড়া, নরসিংদী, চাঁদপুর ও সর্বশেষ গোপালগঞ্জসহ দক্ষিনাঞ্চলের একাধিক স্থানে নোঙর ফেলে সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ মানুষের সেবা দিয়ে আসছে। গ্রামের মানুষের চিকিৎসার জন্য ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক এটি চালু হয়।

সংস্থাটি ১৯৯৩ সালের ২৫ জুলাই ট্রাস্ট হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ১৯৯৯ সালের এপ্রিল মাসে ‘জীবন তরী’ নামে পরিচিত বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের একটি ভাসমান হাসপাতাল চালু করে। দেশের প্রধান প্রধান নদী ধারের মানুষ, যারা শহর বা নগরে খুব কমই যেতে পারে, তাদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বর্তমানে এ হাসপাতালটি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্মভূমি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদীর ঘাটে নোঙ্গর করে কাজ শুরু করেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, রোগীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ৫০ টাকা দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করছেন। আবার সারিতে দাঁড়িয়ে ভাসমান হাসপাতালের সিঁড়ি দিয়ে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, অন্য হাসপাতালের মতো এখানে তিন শয্যাবিশিষ্ট অপারেশন-পরবর্তী রোগীদের জন্য একটি কক্ষ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি অপারেশন থিয়েটার, রোগীদের জন্য ১২টি পৃথক শয্যা, এক্স-রে এবং প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য আলাদা কক্ষ এবং বহিঃবিভাগীয় রোগীদের জন্য অপেক্ষা করার একটি কক্ষ রয়েছে।

এছাড়া জরুরী রোগীদের আনা-নেয়ার জন্য ভাসমান এ হাসপাতালে বাঁধা রয়েছে দুটি স্পিডবোড, নদীর পাড়ে রাখা হয়েছে একটি এ্যাম্বুলেন্স।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নদীবাহিত এলাকায় বসবাসকারী সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র রোগীদের স্বল্প খরচে নাক, কান, গলার রোগের চিকিৎসা ও অপারেশন এবং চক্ষু রোগের চিকিৎসা, অপারেশন ও সহায়ক সামগ্রীর ব্যবস্থা, অর্থোপেডিক চিকিৎসা, কৃত্রিম হাত ও পা সংযোজন, ঠোঁটকাটা, তালুকাটা, আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসা ও প্লাস্টিক সার্জারিসহ অন্যান্য সেবা দেয়া হয়। এছাড়া এখানে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে ধাত্রী প্রশিক্ষণ, প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করা হয়ে থাকে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগের উপর নির্ভর করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে অপারেশনসহ অন্যান্য চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। সরকারী ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।

জীবন তরীর উদ্যোগ যত ছোটই হোক না কেন, দিন দিন অসুস্থ মানুষের জীবনে আশার আলো দেখাচ্ছে। সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা একজন রোগী বলেন, ‘মানুষ হাসপাতালে যায় চিকিৎসা নিতে, কিন্তু হাসপাতাল রোগীর বাড়ির ঘাটে আসে, তা আগে দেখিনি। এ যেন পরম পাওয়া’।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..