কলারোয়ায় সরকারি ঔষধ আত্মসাতের সময় জনতার হাতে ধরা পড়েছে মিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আব্দুল আলিম।

 

আঃজলিল বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সরকারি ঔষধ আত্মসাতের সময় জনতার হাতে ধরা পড়েছে কলারোয়া উপজেলার ৭ নং চন্দনপুর ইউনিয়নের বয়ারডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আব্দুল আলিম।

শনিবার (০৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী চন্দনপুর ইউনিয়নের বয়ারডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক হতে ১ কিলোমিটার দূরে চন্দনপুর ইটভাটা সংলগ্ন রাস্তায় এই ঘটনাটি ঘটেছে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি ঔষধ আত্মসাত করে স্থানীয় ফার্মেসী সহ বাইরের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করতো।পরে স্থানীয়রা সন্দেহ জনক ভাবে আব্দুল আলিমের উপর নজর রাখতে থাকে।

এরই জের ধরে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ঔষধ আত্মসাত করে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্লিনিক থেকে ১ কিলোমিটার দূরে ভাটার নিকট রাস্তায় স্থানীয় লোকজন সিএইচসিপি আব্দুল আলিম ও তার ভগ্নিপতিকে চ্যালেঞ্জ করলে তার ব্যাগ থেকে প্রচুর পরিমানে সরকারি ঔষধ জব্দ করে।

অভিযুক্ত আব্দুল আলিম ও সরকারি ঔষধ বহনকারীকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম মনির কাছে হস্তান্তর করলে তিনি স্থানীয়দের ঐ সিএইচসিপি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কথা বলেন।

তবে অভিযুক্ত সিএইচসিপি আব্দুল আলিমের ব্যবহৃত মুঠো ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

৭ নং চন্দনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান,আমি আজ সকালে অফিস করছিলাম।এমন সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি আমাকে ফোন করে বলেন কিছু সরকারি ঔষধ জব্দ করা হয়েছে।
এবং আপনি গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে দেন।

পরবর্তীতে আমি গ্রাম পুলিশ সহ সেখানে উপস্থিত হই এবং সরকারি ঔষধ সহ ঐ ব্যক্তিকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসি।এরপর কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানাই ।
তিনি তাৎক্ষনিক ভাবে ৩ সদস্যের একটি তদন্তকারী টিম পাঠিয়ে দেন।আমি অভিযুক্তদের তাদের হাতে তুলে দেই পরবর্তীতে কার্যক্রম আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান বলেন,স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমাকে ঘটনাটি জানালে আমি মেডিকেল অফিসার সহ ০৩ সদস্যের একটি টিম সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম ।তারা দুপুর ২ টায় ফিরে এসেছে। আগামীকাল এ ব্যাপারে আমাকে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

এব্যাপারে জানতে চাইলে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী জেরীন কান্তা বলেন, বিষয়টি জেনেছি এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান সাহেবকে থানায় মামলা দায়ের করার জন্য বলেছি অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ দিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ এভাবে আত্মসাতকারী ও কালোবাজারে বিক্রয়কারী সিএইচসিপি আব্দুল আলিমের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.