1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভৈরবে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন সুজন কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ রাজারহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত রাজারহাটে সিংহীমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ নতুন জঙ্গি সংগঠন পুলিশ সদস্যদের হত্যার মিশনে মাঠে নেমেছে: র‌্যাব বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি, কমতে পারে রাত ও দিনের তাপমাত্রা রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজার সামনে চেকপোস্ট বনানীতে জঙ্গি সন্দেহে একটি আবাসিক হোটেল অভিযান রাজধানীর বাজারে চালের দাম বাড়লেও কমেছে সবজির দাম

উপাচার্য মহোদয়কে সহযোগিতাই পারে বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০
  • ২৯২ বার

 

উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। আমি এই অঞ্চলের সন্তান হওয়ায় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যাপারে আমার আগ্রহ ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর সম্পর্কে যে কোন সংবাদ পত্রিকায় আসলে খুব আগ্রহ নিয়ে পড়তাম। বিশ্ববিদ্যালয়টি সম্পর্কে প্রায়ই পত্রিকায় নেতিবাচক খবর দেখলে মন খারাপ হতো। তবুও এই আশা লালন করতাম যে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একদিন সকল প্রতিবন্ধকতা ছাপিয়ে অনন্য উচ্চতায় আসীন হবে।

বিভাগে প্রায় সর্বোচ্চ ফলাফল নিয়ে পড়ালেখা শেষ করি। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরীর আবেদন করতে থাকি। বেশ কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ একাডেমিক ফলাফল, গবেষণা প্রবন্ধ, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং খুব ভালো ভাইভা দেওয়ার পরেও ( খুব ভালো বলছি কারণ বোর্ডের কোন কোন সদস্য বলতেন আই এ্যাম স্যাটিজফাইড) অজানা কারণে অকৃতকার্য হতে থাকি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নে ধীরে ধীরে মরিচা ধরতে শুরু করে। এমন সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়ে। খুব কম আশা নিয়ে আবেদন করি কারণ এর মধ্যে বুঝে গেছি শুধু ভালো রেজাল্ট, প্রবন্ধ ও ভালো ভাইভা দিয়ে এদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরী হবেনা। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে ফোন পাই এবং জানানো হয় যে আমি কৃতকার্য হয়েছি। নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও বিশ্বাস হচ্ছিল না যে আমার চাকুরী হয়েছে কারণ আমার জন্য তো কেউ সুপারিশ করেন নাই। একই সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বিভাগে মোট ১২ জন যোগদান করি। আমাদের সবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের ঘটনা প্রায় এরকমই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান অধ্যাপক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হওয়ায় আগে থেকে চিনলেও এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন করে পরিচিত হই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার এর সাথে। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কল্পনা করলে যেমন একজন রাশভারী, গম্ভীর মানুষের অবয়ব আমার চোখে ভাসত, তার থেকে ভিন্ন একজন মানুষ তিনি। সাবলীলভাবে আমাদের সাথে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেন, অতি সাধারণভাবে কথা বললেন। যোগদানের পর ছয় মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করার সুবাদে উপাচার্য মহোদয়ের সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ হলো। এর পর থেকে এই মানুষটিকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভাবে আবিষ্কার করতে থাকি।

আমাদের প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার প্রতিদিন সকালে এবং সন্ধ্যায় দেখা করতেন। এছাড়াও হাজার ব্যস্ততার মাঝেও আমাদেরকে সময় দিতেন। তিনি দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা, জীবনবোধ আমাদেরকে বলতেন। আমরা নতুন যোগদানকৃত শিক্ষকদেরকে উপাচার্যের মত একজন ব্যস্ত মানুষ এত সময় দিচ্ছেন এটা দেখে প্রথম প্রথম অবাক হতাম। পরবর্তীতে বুঝলাম তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অনন্য একটি উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার মিশন নিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় বুঝেছেন এই মিশন সফল করা সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী একসাথে একটি টিমওয়ার্ক করলে এবং টিমের প্রত্যেকটি সদস্য দক্ষ, পেশাদার, দায়িত্ববান এবং সৎ হলে। ছয় মাসের এই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্যার আমাদেরকে দক্ষ, পেশাদারি এবং সৎ একাডেমিশিয়ান হিসেবে গড়ে তুলবার প্রয়াস করেছেন খুব আন্তরিকভাবে। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আমাদেরকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফিল্ড ভিজিট এ যেতে হত। উপাচার্য মহোদয় হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের সাথে যেতেন। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে অনেক কিছু শেখার আছে এটা স্যার আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বুঝাতেন। বাবা মা যেমন চান তার সন্তান দিন দিন দক্ষ হয়ে উঠুক ঠিক তেমনি তিনি প্রত্যেকটা মূহুর্তে চাইতেন আমরা দক্ষ হয়ে উঠি। এ ব্যাপারে স্যারের বিন্দুমাত্র আন্তরিকতার হেরফের দেখিনি কখনো। পরিশ্রমসাধ্য এই প্রশিক্ষণে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর সব ধরনের সমস্যা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনতেন এবং সেগুলোর সমাধান করার প্রাণান্তকর চেষ্টা করতেন।

মাননীয় উপাচার্য স্যার এর কাজের পরিধি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপৃত। দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন গঠনমূলক কার্যক্রমের সাথে তিনি যুক্ত। ইতিহাস, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাজনীতি ও প্রশাসন ছাড়াও মিথোলজি, থিওলোজি, সোফিজম, পাশ্চাত্য লিটারাচার সহ বিভিন্ন বিষয়ে গভীর জ্ঞান সম্পন্ন এই মানুষটির সাথে মেশার সুযোগ হলে তাঁর সম্পর্কে জানার আগ্রহ দিন দিন বাড়তে থাকবে।
হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষা সফরে যান এবং তাদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করেন অতি সাধারণের মতই। তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সবার আগে বিবেচনা করেন। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনায় যে কোন সিদ্ধান্ত যেমন নিতে পারেন আবার যে কোন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন খুব নমনীয়ভাবে। তিনি ভালোবাসা, স্নেহ মমতার বটবৃক্ষ হয়ে যৌক্তিকভাবে সবাইকে ছায়া দিতে চান।

তিনি একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। আমার দেখা একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব যিনি জীবনকে নিবিড় ভাবে ভালোবাসেন। জীবনকে ভালোবাসেন বলেই সমাজের অন্যান্য মানুষদের থেকে আলাদা ভাবে দেখেন সবকিছু। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ তাঁর কাজের মূল্যায়ন ইতিবাচকভাবে করছেন। সবাই তাদের অভিজ্ঞতাগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করছেন। এর মাধ্যমে উপাচার্য মহোদয় আরো কাজের উৎসাহ পাবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।

লেখক:
এ.বি.এম.নুরুল্লাহ
প্রভাষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..