1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভৈরবে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন সুজন কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ রাজারহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত রাজারহাটে সিংহীমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ নতুন জঙ্গি সংগঠন পুলিশ সদস্যদের হত্যার মিশনে মাঠে নেমেছে: র‌্যাব বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি, কমতে পারে রাত ও দিনের তাপমাত্রা রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজার সামনে চেকপোস্ট বনানীতে জঙ্গি সন্দেহে একটি আবাসিক হোটেল অভিযান রাজধানীর বাজারে চালের দাম বাড়লেও কমেছে সবজির দাম

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার-দুর্জয় গতিতে

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩৩৩ বার

 

প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে একটি সুপরিচিত নাম। তিনি তাঁর ব্যক্তিত্ব, গুণ ও কর্মে সুধীজনসহ আপামর মানুষের কাছে সমাদৃত হতে পেরেছেন। তাঁর অনন্য ও অসাধারণ নেতৃত্বে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এগিয়ে চলেছে দুর্বার ও দুর্জয় গতিতে। তিনি একজন সুদক্ষ প্রশাসক ও একাডেমিক বিশেষজ্ঞ। তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বেরোবি, রংপুর-কে একটি মানসম্মত প্রতিষ্ঠান “সেন্টার অব এক্সিলেন্স” হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাজেট স্বল্পতা, অভ্যন্তরীন জটিলতা ও অন্যান্য প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সঠিক কর্মকৌশল প্রণয়ন করে ইতোমধ্যে তিনি সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। তাঁর অসংখ্য ইতিবাচক কর্মসূচি ও পদক্ষেপের মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়াদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এবং বেরোবি, রংপুর-এর উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
১. নবনিযুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাঃ
বাংলাদেশ তথা বিশ্বের সকল দেশেই প্রতিটি চাকুরির ক্ষেত্রে নবনিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। চাকুরি ক্ষেত্রে প্রবেশের সময়ে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া দক্ষ জনবল গঠনের অন্যতম শর্ত। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য কোনো প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু ছিল না (যদিও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য পিটিআই, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য বিএড, এমএড কোর্স এবং মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য নায়েম ট্রেইনিং কোর্স চালু রয়েছে)। বিশ্বের অনেক দেশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ শিক্ষকদের জন্য ছয় মাস, কর্মকর্তাদের জন্য চার মাস এবং কর্মচারীদের জন্য দুই মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও। কয়েকটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে অবগত হয়েছি, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন অতি শীঘ্রই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।

২. ই-ফাইলিং, ই-টেন্ডার ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ডিজিটালাইজেশনঃ
করোনা মহামারি বদলে দিয়েছে আমাদের জীবন-জীবিকা, পরিবেশ-প্রকৃতি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা-অর্থনৈতিক কাঠামো। দৈনন্দিন জীবন যাপন ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড সম্পাদনে অধিকাংশ মানুষই আজ ডিজিটাল ব্যবস্থার দ্বারস্থ হচ্ছে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ “ডিজিটাল বাংলাদেশ” গড়ার ঘোষণা দেয়। সেসময়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিকে যারা গ্রহণ করতে পারেনি, তারা আজ রাজনীতিতে মানুষের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় এর নির্দেশনায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ষোলো আনা “ডিজিটাল বাংলাদেশ” হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। ডিজিটালাইজেশনের সুফল হিসেবে করোনা মহামারি কালেও বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে তার আপন গতিতে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার “ডিজিটাল বাংলাদেশ” ধারণা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে সফলভাবে সংযোজিত করতে পেরেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও। ২০১৭ সালের ১৪ জুন উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেই তিনি প্রশাসনিক কার্যক্রমের সর্বস্তরে ডিজিটাল ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। পুরো ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতায় আনায়ন, ই-ফাইলিং ও ই-টেন্ডার চালুকরণ, ক্যাম্পাস রেডিও সম্প্রচার, ফাইল ট্র্যাকিং এবং দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষক কর্মকর্তাদের জন্য মোবাইল ভাতার বরাদ্দকরণ। ফলশ্রুতিতে করোনা মহামারী কালে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রমোশন/আপগ্রেডেশন প্রদানসহ প্রশাসনিক সকল কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।
৩. রাজধানী ঢাকাতে লিয়াঁজো অফিস স্থাপনঃ
বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ঢাকার গুরুত্ব অপরিসীম। কেন্দ্রীভুত শাসনব্যবস্থায় ঢাকাতেই সাধারণত সদর দপ্তরগুলো অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অর্থিক বরাদ্দ, লোকবল নিয়োগের জন্য পদ সৃষ্টি ও অনুমোদন, বিধি-অনুমোদন, উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন, ইত্যাদি প্রয়োজনে ইউজিসি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সাপ্তাহিক/মাসিক সভা, যোগাযোগ অনির্ধারিত কিন্তু নিয়মিত কর্মকান্ডের অংশ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও গবেষণা কর্মকাণ্ডের জন্য যেসকল বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন তাদের অনেকেই ঢাকায় অবস্থান করেন। এসকল পরিস্থিতি বিবেচনায়, ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিস একটি সর্বোত্তম বিকল্প ব্যবস্থা বলা যেতে পারে। লিয়াজোঁ অফিসের ফলশ্রুতিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর ইউজিসি ও মন্ত্রণালয়ের কাজগুলো দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে পারছে এবং অধিক সংখ্যক বিষয় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের মতামত ও পরামর্শে এগিয়ে যেতে পারছে। তাছাড়া বিকল্প অফিস থাকায় বিভিন্ন চাপ উপেক্ষা করে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর হয়েছে।

৪. পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকরকরণঃ
অধিকাংশ ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করতে সাধারণত ইচ্ছুক থাকেন না। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর ১২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকর করতে পেরেছে। মহামান্য আচার্য ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে উপ-উপাচার্য এবং কোষাধক্ষ্য নিয়োগ লাভ করেছেন। প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, এবং বিভিন্ন দপ্তরে পরিচালক নিয়োগদান করে সকলের অংশগ্রহণে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এগিয়ে চলেছে। ক্ষমতা ও দায়িত্ব বিকেন্দ্রীকরণ করে বর্তমান উপচার্য আরেকটি অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।
৫. গবেষণা-শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণঃ
বর্তমান উপাচার্য যোগদান করে অবহেলিত ড. ওয়াজেদ রিসার্চ এন্ড ট্রেইনিং ইন্সটিটিউট সক্রিয় করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও সম্প্রসারণ পরিচালক নিয়োগ এবং গবেষণা বাজেট বর্ধিত করায় অধিক সংখ্যক শিক্ষক গবেষণাকর্ম পরিচালনা করতে উৎসাহিত হয়েছেন। বিভিন্ন অনুষদ এবং বিভাগ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পিয়ার রিভিউড জার্নাল প্রকাশ করে বেরোবি, রংপুর গবেষণা ও প্রকাশনার দিক থেকে অদ্বিতীয় অবস্থানে পৌঁছেছে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত চারবছর মেয়াদের জন্য একজন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। উপাচার্যের যোগদানের দিন উপাচার্য দপ্তর “ফুলেল শুভেচ্ছা সাগরে” পরিণত হয়। কিন্তু তিনি যতই ভালো কাজই করেন না কেন কার্যকালের চতুর্থ বছর তাঁর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নানামুখী পক্ষ বিপক্ষ সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে তৎপর হয়ে উঠবে এ সময়। শিক্ষক নেতাদের চাপ, কর্মকর্তাদের চাহিদা, কর্মচারীদের আবদার এবং প্রভাবশালীদের তদবির উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়া রীতিমত মহাযুদ্ধে জয়ী হওয়ার মত বিষয়। সিংহভাগ সময় ব্যয় করতে হয় উপর্যুক্ত স্টেকহোল্ডারদের ভারসাম্য বজায় রাখতেগিয়ে। কেউ কেউ হয়তো বাড়তি সুবিধা পায়নি, কারো নিয়োগ তদবির কাজে লাগেনি বা হয়তো প্রাপ্য অধিকার সময়মত পাইন, ফলে অনেকের মনে জালা-পোড়া থাকতে পারে। তবুও আহবান করছি আসুন শিক্ষার্থীদের জন্য ভাবি। করোনা মহামারির ক্ষতির কিছু অংশ পূরণে সবাই মিলে কাজ করি। উল্লেখিত ইতিবাচক কর্মকান্ডের জন্য বর্তমান উপাচার্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। সামনের দিনগুলোতে সকলের প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে সকলে মিলে একযোগে কাজ করি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষকদের বাক স্বাধীনতা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার সুযোগটুকু দেশের কল্যাণে কাজে লাগিয়ে স্বাধীনতা লাভের মর্যাদা অটুট রাখি। পাশাপাশি বেরোবি, রংপুর হয়ে উঠুক উত্তরবঙ্গ তথা বাংলাদেশের জন্য “জ্ঞানী মানুষ তৈরীর কারখানা”, কেবল চাকুরি ক্ষেত্র নয়।

আপেল মাহমুদ
সহযোগী অধ্যাপক (শিক্ষা ছুটিতে),
একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্ বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..