1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৯:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিএসএনপিএস কমিটি গঠন:সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক সাঃ সম্পাদক শামছুল আলম,সহ সাঃ সম্পাদক ছাবির উদ্দিন রাজু গাজীপুর ভবানীপুর এলাকার শামীম টেক্সটাইল মিলে তুলার গুদামে আগুন ‘জলবায়ু পরিবর্তনে ৭১ লাখ বাংলাদেশি বাস্তুচ্যুত’- ডব্লিউএইচও ভৈরবে আলোচিত তানজিনা হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী বিএমএসএফ প্রতিষ্ঠাতার কণ্যা জেরিন এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ লাভ বিএমএসএফ নিজস্ব গঠনতন্ত্রে পরিচালিত ট্রাস্টিনামা দলিলের অন্তর্ভুক্ত নয় -সাধারণ সভায় নেতৃবৃন্দ সামাজিক সংগঠন জাগ্রত সিক্সটিনের উপহার পেল পঙ্গু রহিম মিয়া অভিযাত্রিক সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ এর  ২২৬১ তম সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত রংপুরে কৃষকের মুখে হাসি ফুলকপির  ফলন ভালো  হওয়ায় যশোর সীমান্তে এক কিশোরের সাইকেলে পাওয়া গেল ১৫ পিচ স্বর্ণের বার

যোগ্য নেতৃত্বে এগিয়ে যাক বেরোবি, রংপুর, এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।’

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩৩৫ বার

উত্তরের বাতিঘর হিসেবে খ্যাত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর কে যিনি সময়ের সাথে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, যার কর্মস্পৃহা ও সৃজনশীল চিন্তাধারা উত্তরের এ প্রতিষ্ঠানটিকে একটি সময়োপযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে তিনি হলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার। ২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হতে হয়েছে। অনিয়ম আর দুর্নীতিতে পরিপূর্ণ এক অবস্থা থেকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন বর্তমান উপাচার্য মহোদয়। ২০১৭ সালের ১৪জুন বিশ্ববিদ্যালয়টির চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক উন্নয়নে। স্যারকে সব সময় দেখেছি কথার চেয়ে তিনি কাজে বিশ্বাসী। তিনি নিজে আগে কাজ করেন এবং তার পর তা প্রকাশ করেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যারই প্রথম শিক্ষকদের জন্য ৬ মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। ইউজিসি আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য যোগদানকৃত সকল শিক্ষকের জন্য বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তথা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন তিনি।

বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের কারণেই স্যারের কিছুটা সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছে এবং স্যারকে কিছুটা জানার সুযোগ হয়েছে। স্যারকে যত জেনেছি তত বেশী অবাক হয়েছি। অবাক হয়েছি স্যারের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ দেখে। আমাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশই ছিল বাংলাদেশকে জানা। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আমরা বাংলাদেশের অনেক ঐতিহাসিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান পরিদর্শন করেছি। তবে বেশীর ভাগ স্থানেই স্যার আমাদের সাথে পরিদর্শনে যেতেন এবং প্রতিটি স্থানের গুরুত্ব আমাদের সামনে তুলে ধরতেন। স্যারের সঙ্গে আমরা কুমিল্লার শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, ভোজ বিহার, চারপত্র মুড়া, ময়নামতি জাদুঘর পরিদর্শন করি। আবার প্রাচীন গৌড় হিসেবে পরিচিত চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার ছোট সোনা মসজিদ, দরাসবাড়ি মসজিদ, খুনিয়া মসজিদ, মুঘল তাহাখানা ইত্যাদি স্থান পরিদর্শন করি। এছাড়া স্যারের সাথে মহাস্থানগড় পরিদর্শন করি। সেখানে স্যার ফ্রান্স থেকে আসা প্রত্নতাত্ত্বিক খনন টিমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ এ ধরনের প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এর কিছুদিন পরেই স্যার আমাকে সাথে নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এরপর থেকে স্যার প্রতিনিয়ত আমাকে মনে করিয়ে দেন আমি কেন দ্রুত প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ শুরু করছি না। একজন ভিন্ন ঘরানার মানুষ হয়েও বাংলাদেশের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের প্রতি স্যারের আগ্রহ আমাকে হতবাক করেছে।
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এর পক্ষ থেকে আমি স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

বিভাগের সব ধরনের প্রয়োজনে সবসময় স্যারকে পাশে পেয়েছি। আমরা যখনই কোথাও কোন ফিল্ড ওয়ার্কে যেতাম স্যারের সর্বদা সাহায্য পেতাম। শুধু তাই নয় স্যার ভার্চুয়ালি কানেকটেড হয়ে আমাদের ফিল্ড ওয়ার্কের খোঁজ-খবর নিতেন এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতেন। স্যারকে আমরা সবসময় একজন শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য হিসেবে দেখতে পাই। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সেশনজট। স্যার সেশনজট নিরসনের বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। যার ফলে বেশ কিছু বিভাগ যেমন নিজেদের সেশনজট মুক্ত ঘোষণা করেছে তেমনি বাকি বিভাগগুলোও সেশনজট অনেকটা কমিয়ে এনেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে উপাচার্য মহোদয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- শিক্ষার্থীদের জন্য মেধা বৃত্তির ব্যবস্থা করা, আবাসিক হল নির্মাণ, প্রতিটি বিভাগে ভার্চুয়াল ক্লাসরুম স্থাপন, সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসকে ওয়াই-ফাই আওতাধীন করা, ক্যাফেটেরিয়া চালুকরণ, মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন, আইসিটি সেল গঠন, ক্যাম্পাস রেডিও স্থাপন, উইমেন পিস ক্যফে স্থাপন, শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বাস ক্রয়, ই-ফাইলিং, ই-টেন্ডারিং, ভেইকল ট্র‍্যাকিং সিস্টেম চালুকরণসহ ইত্যাদি। এছাড়া স্যারের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে জার্নাল প্রকাশিত হচ্ছে এবং এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রধান ফটক নির্মাণের দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্প্রতি প্রধান ফটক নির্মানের কাজে হাত দিয়েছেন মাননীয় উপাচার্য মহোদয়। এছাড়া সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বর্ধনের ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন স্যার। ক্রীড়া অঙ্গনেও স্যারের নজর সুদূরপ্রসারী। স্যারের সহযোগীতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর প্রথমবারের মতো আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এছাড়া আন্তর্জতিক মানের খেলা ফেন্সিং এখানে শুরু হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ খেলাধুলার প্রতি স্যারের সহযোগীতা ক্যাম্পাসকে আরো প্রাণবন্ত করেছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছেন মাননীয় উপাচার্য মহোদয়। এই করোনাকালীন মহামারীর সময়ও স্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। শিক্ষকদের আপগ্রেডেশন প্রদান, পারিতোষিক নিয়মিতকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা প্রদানের জন্য দ্রুত এগিয়ে চলছে বিভিন্ন বিভাগে ল্যাব প্রস্তুতকরণের কাজ ও ল্যাবের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের কাজ।
উপাচার্য মহোদয়কে সবসময় একজন বিশ্ববিদ্যালয় বান্ধব উপাচার্য হিসেবে পেয়েছি। স্যারের হাত ধরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ যে আধুনিকতা ও অগ্রসরতার ছোঁয়া লেগেছে তা অব্যাহত থাকুক এবং স্যারের সুযোগ্য নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হোক। যোগ্য নেতৃত্বে এগিয়ে যাক বেরোবি, রংপুর, এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।
সোহাগ আলী
প্রভাষক
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও
সাধারন সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ক্লাব ও
সদস্য, নব প্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ,
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..