1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
ভারতের বৃহত্তম নিষিদ্ধ পল্লী এবং নিলান্জনা। - লাল সবুজের দেশ
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন

ভারতের বৃহত্তম নিষিদ্ধ পল্লী এবং নিলান্জনা।

  • আপডেট টাইম: রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১
  • ৩৭ বার পঠিত

 

লিয়াকত হোসেন খোকন

সোনাগাছি হ’ল ভারতের
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা মহানগরীতে অবস্থিত
ভারতের বৃহত্তম নিষিদ্ধ পল্লী।
এই পল্লীতে বসবাস করে লক্ষাধিক যৌনকর্মী।
এই পল্লীটি উত্তর কলকাতার মার্বেল প্যালেসের উত্তরে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, শোভাবাজার

বিডন স্ট্রিটের সংযোগস্থলের নিকটে অবস্থিত।
নিষিদ্ধ পল্লীটির যৌনকর্মীরা দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতি নামে একটি সমিতির অধীনে গণস্বাস্থ্য ও
সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালায়।
অষ্টাদশ

ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালি বাবু সম্প্রদায় এই সোনাগাছিতে নিজ নিজ উপপত্নীদের প্রতিপালন করতেন।
সোনাগাছি অঞ্চলের বেশ
কিছু ভবন নির্মিত হয়েছিল ব্রিটিশ শাসনামলে বা ব্রিটিশ যুগে।
কথিত আছে, প্যারিসের বিখ্যাত যৌনকর্মীরাও
কলকাতার সোনাগাছি অঞ্চলের খ্যাতি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন।
শোনা যায়, তারা নাকি সোনাগাছির মেয়েদেরকে বলতো,
রূপ ও সৌন্দর্যে সেরা সোনাগাছির ললনারা। বিশ্বের বিস্ময় ওরা।
সোনাগাছি অঞ্চলটি আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে আছে।
বন্ধু পায়নি তার প্রিয়তমাকে জীবন সাথী রূপে।
সেই বন্ধুটি ধরল মদ –
বোতলের পর বোতল –
নিদারুণ দুঃখ নিয়ে অন্তর্জালায় জ্বলতে জ্বলতে
গিয়েছিল সোনাগাছিতে
সেখানে তার দেখা হয় আরেক চন্দ্রমুখীর সঙ্গে
যখন খুশি তখন যায়
সুখ পায় আনন্দ পায়।
বন্ধুটি আমায় নিয়ে গেল
সোনাগাছিতে
ঘটনাটি ১৯৮২ সাল হবে হয়তো
আমি যাব না, কিন্তু এক অর্থে জোরপূর্বক আমাকে
নিয়ে দেখাল তার চন্দ্রমুখীকে
আমি তো অবাক – এ তো শ্রীদেবীর মতো
সুন্দরী –
চোখের চাহনি দেখে প্রথম দর্শনে
রীতিমতো প্রেমে পড়ে গেলাম
বন্ধুটি চন্দ্রমুখীর হাতে একশো এক রূপী তুলে দিয়ে
জানালো,
আমি চললাম,
আমার বন্ধুকে আপন করে নিও।
কিন্তু চন্দ্রমুখীকে দেখে, কেমন যেন শ্রদ্ধা জেগে উঠলো আমার বিচলিত ভীরু মনের গহনে
দুয়ার দিয়ে দিল – আমি বললাম, খুলে দাও।
কথা হ’ল চন্দ্রমুখীর সঙ্গে –
জানতে চাইলাম, তোমার আসল নাম কি?
একটু হেসে – নীলাঞ্জনা
কথা দিয়েছিল সে আসবে দার্জিলিং
দিন তারিখ সব বলা ছিল –
যাবার সময় নীলাঞ্জনা বলেছিল – চলে আসবো।
নীলাঞ্জনা চিঠিতে লিখেছিল –
তুমি দেখো, সেই তারিখ মতো সকাল সকাল দার্জিলিং পৌঁছবো এসে –
গাড়িতে বা ট্রেনে আমি’ত একা নই,
আরো কত লোকইত যাবে
কোনো ভয় নেই।
পথঘাট সব চিনি,
তুমি ভাবনা কোরো না
লাল রঙের মাদ্রাজি শাড়ি জুড়িয়ে
বেণী দুলিয়ে আসব – ঠিক আসব।
কিন্তু দুর্ভাগ্য,
সেই তারিখে সকালে নয়, দুপুরে নয়
সন্ধ্যায় নয়
গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে
পৈশাচিক উল্লাসে মত্ত কয়েকজন
নীলাঞ্জনাকে রেখে গেল হোটেলের সন্মুখে
হ্যারিকেনের আলোয় তার ক্ষতবিক্ষত মুখ
দেখে আঁতকে উঠলাম
কারা এমন সর্বনাশ করলিরে –
ভষ্ম হয়ে যা তারা
বাজ পড়ুক তাদের মাথায়!
অবিরাম কাঁদতে লাগলো নীলাঞ্জনা।
যারা তাকে এনেছিল
অন্ধকারে তারা তেমনি করে পালিয়ে গেল।
এটুকু বলা হতে না হতেই
চৈত্রের আকাশ অন্ধকার করে ঘনিয়ে এলো মেঘ,
হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া উঠলো হু হু করে
অন্ধকার আকাশের বুক এফোঁড় ওফোঁড় করে
চমকে উঠলো বিদ্যুৎ!
সঙ্গে সঙ্গে –
কড় কড় কড়াৎ করে প্রচন্ড গর্জনে
কাছেই কোথাও বাজ পড়লো।
আমি দেখলাম,
বিশ্বাস কর তোমরা,
আমি যেন দেখলাম
লালটুকটুকে মাদ্রাজি পরে নীলাঞ্জনা
চৈত্রের আকাশের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত
ছুটে বেড়াচ্ছে মশাল জ্বালিয়ে।
তারপর –
আমি সেই যে চলে এসেছি
আর যাইনি নীলাঞ্জনার সামনে
১৯৮২ সাল – তারপরে কেটে গেল ৩৮ টি বছর
নীলাঞ্জনা, তুমি কি বেঁচে আছ!
যদি বেঁচে থাকো – ঠিকানা দিও
তোমার সাথে দেখা করতে লজ্জা করে – তবুও দেখা করবো
তুমি যে আমার বোন বা ভগ্নী!

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 lalsabujerdesh.com
Theme Customized By BreakingNews