1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মুক্তির অপেক্ষায় নতুন ছবি ‘প্রসেনজিৎ ওয়েডস ঋতুপর্ণা’ সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৪৪০ পঞ্চগড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক যশোরে ‘নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬১ জেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯০ জন বড়াইগ্রামে মধ্যরাতে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়েছে স্বামী বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্যপণ্যের পাইকারি বাজারে আগুন পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে নারী-শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু  ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০ সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে বিএনপি জ্বালাও পোড়াওয়ের রাজনীতি শুরু করেছেঃ  রংপুরে সমাজকল্যান মন্ত্রী

যে সব তারকাদের দেখেছি আমি চোখে…

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১
  • ১৭৭ বার

 

লিয়াকত হোসেন খোকন

এই ঊনসত্তর বয়সকালে এসে বার বার
মনে পড়ে শৈশবে দেখা হিন্দি ছবির –
সুরাইয়া, নিরূপা রায়, লীলা চিৎনিশ, নাদিরা, নিম্নি, বীণা রায়, মালা সিনহা, স্মৃতিরেখা বিশ্বাস,
স্বর্ণলতা, মমতাজ শান্তি, নূরজাহানসহ তখনকার বহু তারকার কথা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে
অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি করায় অতীত হিন্দি ছায়াছবি আমাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করেছিল ঃ
সে-জন্য ১৯৮০ সালে ২৮ বছর বয়সে;
১৯৮৪ সালে ৩২ বছর বয়সে মুম্বাইতে (তখন নাম ছিল বোম্বে)

এবং ১৯৯২ সালে ৪০ বছর বয়সে লাহোরে গিয়ে উপমহাদেশ ভাগাভাগির আগেকার কয়েকজন নায়িকার সাথে দেখা হওয়া ও
তাদের হাতস্পর্শের সেই মধুক্ষণ এই জীবনে আর কোনোদিনই ফিরবে না!

হিন্দি ছবির নায়িকা সুরাইয়া মারা যান
২০০৪ সালের ৩১ এ জানুয়ারি মুম্বাইতে ;
নূরজাহান ২০০০ সালের ২৩ এ ডিসেম্বর করাচিতে ; নিরূপা রায় ২০০৪ সালের ১৩ ই অকটোবর ;
বীণা রায় ২০০৯ সালের ৯ ই ডিসেম্বর ;
লীলা চিৎনিশ ২০০৩ সালের ১৪ ই জুলাই ;
বেগমপারা ২০০৮ সালের ৯ ই ডিসেম্বর;
চিরসবুজ নায়ক অশোক কুমার মারা যান
মুম্বাইতে ২০০১ সালের ১০ ই ডিসেম্বর।

স্বর্ণলতা ২০০৮ সালে এবং
মমতাজ শান্তি ১৯৯৩ সালে লাহোরে মারা যান।

নূরজাহান ছাড়া বাকি ১১ জন তারকার
সাথে দেখা ও তাদের কিছু কথা বুকে এসে এখনো ঠেকে। এখন তো মুম্বাই, তখন ছিল বোম্বে। মালাবার হিলের এক ফিল্ম স্টুডিয়োর সামনে
দাঁড়িয়ে রয়েছি – সেটা ১৯৮০ সালের কথা।

হঠাৎ দেখি গাড়ি থেকে নামলেন এককালের নায়ক যাকে বলা হতো চিরসবুজ নায়ক
সেই অশোক কুমার। তখনি মনে পড়ল তাঁর অভিনীত –
সাবিত্রী, আনজান, জন্মভূমি, হসপিটাল,
মহল, বন্ধন, হাওড়া ব্রিজ ছবিগুলোর কথা। খুব কাছে গিয়ে হিন্দিতে কিছু কথা বলার চেষ্টা
করতেই অশোক কুমার একটু হেসে ‘বাংলায় বলো, তুমি কি বাংলাদেশ থেকে এসেছ?’
বললুম –
হ্যাঁ। উনি আমাকে বুকে জড়িয়ে
বললেন – আজকাল তো ফিল্ম প্রডিউসারও আমার দেখা পায় না। তুমি পেয়ে গেলে বাংলাদেশ থেকে এসেই! বাঃ! কোথায় উঠেছ? বললুম রেল স্টেশনের কাছে একটা হোটেলে…।

মিনিট চারেক কথা বলেছিলাম
অশোক কুমারের সাথে – তা আজও চোখে ভাসে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মনে পড়বে।

সুরাইয়া ঃ

১৯৮০ সালেই মুম্বাইয়ের মেরিন ড্রাইভে বিখ্যাত নায়িকা-গায়িকা সুরাইয়ার ‘কৃষ্ণামহল’ ফ্ল্যাটে ভালোলাগা ওই নায়িকার সাথে দেখা
করেছিলাম। তখন তাঁর বয়স প্রায় ৫০।
সুরাইয়াকে দেখে ভাবলাম, এ কোনো স্বপ্ন নয়তো। এ কী দেখছি! মনে হলো, বিয়েশাদি না করলে কী হবে, উনি তো বেশ সুখেই আছেন।

উনি হেসে বার বার হিন্দিতে যা
বলেছিলেন তা
বাংলায় হলো – “কতদূর থেকে আপনি আমাকে
দেখতে এসেছেন – এজন্য নিজেকে বড়োই ভাগ্যবতী মনে করছি।” ‘দিল্লাগী’, ‘সনম’, ‘জিৎ’, ‘আফসার’, ‘বিদ্যা’ ছবির কথা বলতেই উনি বার বার হাসছিলেন। সে হাসিতে যেন মুক্ত ঝরছিল সেইক্ষণে।

২০০৪ সালের ৩১এ জানুয়ারি ঢাকায় বসে ওঁর মৃত্যুসংবাদ শুনে দু-চোখের জল থামিয়ে রাখতে পারিনি।

১৯৮৪ সালে মুম্বাই গিয়ে দেখা
করেছিলাম এককালের চিত্রনায়িকা নাদিরা, নিম্নি, বেগমপারা, স্মৃতিরেখা বিশ্বাস, বীণা রায়ের সাথে।

মালা সিনহা বলেছিলেন, আমার এক চাচাতো বোন থাকে বাংলাদেশে – ওর স্বামী গানটান করে।

নিম্মি ঃ

কী সুন্দরীই না ছিলেন নিম্নি। ‘বরসাত’ ছবিতে
উনাকে দেখার কথা বলতেই
বারবার হাসলেন। উনি বললেন- আমাকে বুঝি তোমার খুব ভালো লেগেছিল।

নিম্মির হাসি এখনো যেন ক্ষণে ক্ষণে
চোখের পাতায় ভেসে ওঠে।
উনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, আগ্রা তোমার কাছে কেমন লাগে? বললুম, বড্ড ভালো। হাসলেন –
ওখানেই তো আমার জন্ম।
আন’ ছবির নায়িকা নাদিরার দেখা
পেয়েছিলাম নিম্নির বাসাতেই।
মুরমুর কে না দেখা’ বলতেই উনি হাসলেন।
বাঃ! তুমি তো আমাকে নিয়েই ভাবো।

নিরূপা রায় ঃ

নিরূপা রায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলাম
আরব সাগরের তীরে তাঁর ফ্ল্যাটে। উনি জানিয়েছিলেন, অশোক কুমারের সাথে ১৭টি ছবিতে অভিনয় করেছিলাম। জন্ম আমার গুজরাটের বালাসোরে। ওখানে কখনো গিয়েছ? বললাম, আহমেদাবাদ ও সুরাটে। উনি হাসলেন –
বাঃ তুমি তো খুব শৌখিন।

বেগম পারা ঃ

বেগমপারাকে বলা হতো হিন্দি ছবির প্রথম যৌবনবেদনাময়ী তারকা।
যখন তার বয়স ৫৬ কী ৫৭ তখন দেখেছিলাম বেগমপারাকে।
ঐ বয়সে ভীষণ মোটা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
‘নীলকমল’, ‘শকুন্তলা’, ‘চাঁদ’ ছবিতে দেখার কথা জানাতেই উনি হাতটা বাড়িয়ে দিলেন।
সেই হাতের স্পর্শ আজও হাতে এসে লাগে।
উনি বার বার বলছিলেন, তুমি দুষ্টু ছেলে,
না হলে সুদূর বঙ্গাল মূলক থেকে
এতদূরে আসবেই বা কেন?
আপনাকে পিন আপ গার্ল বলা হতো কেন?’
শুনেই আস্তে করে আমার গালে একটা চড় দিলেন বেগমপারা। সেই চড় এখনো গালে এসে লাগে।

পাশেই বসা ছিলেন স্মৃতিরেখা বিশ্বাস।
উনি বললেন, আমি বাঙালি –
আমার সাথে বাংলায় কথা বলো।
আমার জন্মস্থান কিন্তু বাংলাদেশের খুলনা জেলার ভরসাপুর গাঁয়ে এক ক্রিশ্চিয়ান পরিবারে। স্মৃতিরেখাকে দেখে বার বার
মনে পড়েছিল – ‘জিপসী মেয়ে’,
‘চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন’, ‘চীনের পুতুল’,
দ্বন্ধ’ প্রভৃতি ছবির কথা।

বীণা রায় ঃ

বীণা রায়ের সঙ্গে আলাপ করে
জেনেছিলাম – তিনি পাঞ্জাবি মেয়ে। ‘ইনসানিয়াত’, ‘আনারকলি’ আর ‘কালিঘাটা’ ছবি তিনটির কথা বলতেই বীণা রায় বার বার অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন আমার পানে।

লীলা চিৎনিশ ঃ

১৯৮৪ সালে লীলা চিৎনিশ তখন তো
বৃদ্ধা – তাকে দেখে বললাম, আমি তো স্বপ্ন দেখছি না-বোম্বে টকিজের গ্ল্যামারাস গার্লকে দেখা এও তো এক কপাল। ‘কঙ্গন’, ‘বন্ধন’, ‘ঝুলা’
ছবির কথা বলতেই লীলা চিৎনিশ
উন্মনা হয়েছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..