1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করেছিলেন বঙ্গবন্ধু: ড.কলিমউল্লাহ বাংলাদেশ বিপুল পর্যটন সম্ভাবনাময় একটি দেশ – প্রধানমন্ত্রী উখিয়ায় ৭ কোটি টাকার ইয়াবার বিশাল চালানসহ ইয়াবা সম্রাট আলমগীর আটক চন্দনাইশ থেকে প্রায় ৫৩ লক্ষ টাকার ইয়াবা উদ্ধার, ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক রংপুরে জাতীয় দলের স্বপ্নাকে বরণ করতে জেলা প্রশাসকের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত রংপুরে অসাধু চক্রের দৌড়াত্ম, অনিয়ম অব্যবস্থাপনা ও জনদূর্ভোগের প্রতিবাদ জানিয়ে চিকিৎসকদের মানববন্ধন সিলেট জেলা পরিষদ নির্বাচনে তালা প্রতীক পেলেন ইমাম উদ্দিন চৌধুরী দুর্গাপুরে সাবেক এমপি জালাল তালুকদারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠিত নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে “প্রিয় রাঙামাটি” সামাজিক সংগঠনের সাথে  সৌজন্য সাক্ষাৎ অভয়নগরে সড়ক দূর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লাশ কাটা ঘর আজ নিজেই লাশ!

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২১
  • ৫৫৯ বার

 

স্টাফ রিপোর্টার।।
লাশ পঁচার উৎকট গন্ধ। চারদিকে ময়লার স্তুপ। স্যাঁতস্যাঁতে ঘরের ভেতর লাশ কাটা হয়। লাশ রাখার ফ্রিজটি নষ্ট। যন্ত্রপাতি নেই। স্ট্রেচারে জং ধরে আছে। পানির টেপ নষ্ট। জনবলের অভাব। বাইরের ভ্যানে থাকা লাশ টেনে হিচড়ে নিয়ে রাখতে হয় কাটাছেঁড়ার ঘরে। যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশ ঘরটি নিজেই লাশ হয়ে আছে।
সরেজমিনে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশ কাটা ঘরে গিয়ে দেখা যায, তিনটি কক্ষ। প্রথম কক্ষটিতে চলে লাশ হিসেবনিকেশের কাজ। তারপরের কক্ষটিতে চলে লাশ কাটাছেঁড়ার কাজ। যেখানে অযত্ন অবহেলায় স্ট্রেচারগুলোতে জং ধরে আছে। পানির টেপ নষ্ট। ওই কক্ষের একমাত্র শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রটিও ( এসি) বিকল। তারপাশের কক্ষটি হিমাগার। যেখানে লাশ রাখা হয়। হিমাগারের ভেতর একমাত্র ফ্রিজটি যার ভেতর চারটি লাশ রাখা যায়, সেই ফ্রিজটি বছরখানেক ধরে বিকল। কক্ষটিতে কাজ না থাকায় ময়লা হয়ে আছে। লাশ কাটার পর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না করায় উৎকট গন্ধ বের হয় কক্ষের ভেতর থেকে।

একটি লাশের ময়নাতদন্ত হতে কমপক্ষে ২/৩ ঘণ্টা লাগে। সেখানে জনবলের সংকটে একটি লাশের মযনাতদন্ত হতে ৫/৬ ঘন্টা লাগে। এ কারণেই লাশ কাটা ঘরের সামনে স্বজনদের ভিড় লেগেই থাকে। একদিকে স্বজন হারানো অন্য দিকে ময়নাতদন্তের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা যেন নরক যন্ত্রণায় পড়েন স্বজনরা। বাবার মৃত দেহ ময়নাতদন্ত হবে। ছেলে আরিফ অন্তত ৭ ঘণ্টা পর বাবার লাশ নিয়ে মেঘনা উপজেলার নিজের বাড়ির দিকে রওনা করে। আরিফ বলেন, লোক নেই। একজন ডোম আমার বাবার লাশটি টেনেহিঁচড়ে লাশ কাটার কক্ষে নিয়ে যেতে থাকে। সহ্য করতে পারিনি। পরে আমি নিজে আমার লাশটি ডোমের সাথে ধরে লাশ কাটার কক্ষে নিয়ে গেছি।
অভাবের সংসার। প্রতিনিয়ত অভাব সইতে না পেরে গৃহবধূ আসমা ফাঁসি দিয়ে মারা যায়। সকাল ৭ টায় লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে আনা হয়। বিকেল ৫টায় লাশের ময়না তদন্ত শেষ হয়। তার উপর পুলিশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি, লাশ কাটা মিলে এক দুর্বিষহ সময় পার করে আসমার বড় ছেলে সাইফুল। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে সাইফুল বলেন, মা মারা গেছে তাকে আর ফিরে পাবো না। তবে ময়নাতদন্ত করতে এসে কি যে ভোগান্তিতে পড়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আর কেউ যেন আমার মত ভোগান্তির শিকার না হয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি মাসে মাসে অন্তত ২শ লাশ আসে। যেগুলোর বেশির ভাগই অর্ধগলিত। সেসব লাশ সংরক্ষণে কোন ব্যবস্থা নেই। এছাড়াও লাশের দুর্গন্ধ দূর করারও কোন ক্যামিকেল নেই লাশ কাটার ঘরে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের ডোম মাহে আলম বলেন, ‘ভাই আমি একজনই। কিতা করতাম কন। আমি একলাই লাশ কান্ধে কইরা লাশকাটা ঘরে লইয়া যাই। কোনো সুই নাই, সুতা নাই। আমার হাতমুজা নাই। টেফের ভিতরে পানি নাই। লাশের গন্ধে মাঝে মইধ্যে নিজেই বেহুঁশ হইয়া যাই। লাশের ঘরের ফ্রিজডাও নষ্ট।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বছরে গড়ে ১২০০ মরদেহ আসে এই মর্গে।

নাম প্রকাশ করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, বছর খানেক আগে এই লাশকাটা ঘরের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির জন্য আবেদন করা হলেও কাজ হয়নি। কোনো যন্ত্রপাতি দেয়নি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. শারমিন সুলতানা বলেন, ফরেনসিক বিভাগে কমপক্ষে সাতজন লোকবল দরকার। তাদের মধ্যে একজন অধ্যাপক, একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক, একজন প্রভাষক, দুজন মেডিক্যাল অফিসার ও একজন ডোম সহকারী।

তিনি বলেন, ‘সেখানে আমি একজন সহকারী অধ্যাপক ও দুজন প্রভাষক দিয়ে কোনো রকম কাজ করছি। ২০১৫ সাল থেকে এভাবেই চলছে। এর মধ্যে যদি কোর্টে হাজিরা থাকে, তখন লাশকাটা ঘরের সামনে স্বজনদের ভিড় লেগে যায়। লাশকাটা ঘরে যন্ত্রপাতির সমস্যা হয়তো সমাধান করা যাবে। কিন্তু লোকবলের সমস্যা সমাধান না করলে ভবিষ্যতে কাজ করা দুরূহ হয়ে যাবে। খুব সমস্যায় আছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..