1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের নিয়ম, নিয়ত এবং ঈদের সুন্নত। - লাল সবুজের দেশ
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মোঃ আলী হোসেন শিশির (সি,আই,পি) কে সম্বর্ধনা সাংবাদিক হত্যাচেষ্টাকারীদের দ্রুত বিচারের মূখোমূখি করুন : বিএমএসএফ শ্রীপুরে মিজানুর রহমান খান মহিলা ডিগ্রী কলেজ’র পরবর্তি সভাপতি নিগার সুলতানা ঝুমা। নীলফামারী ডোমারে আনসার ও গ্রামপ্রতিরক্ষা বাহিনীর বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালিত । কেশবপুরে করোনা ভাইরাস সংক্রামন রোধে বুধবার থেকে সপ্তাহব্যাপী কঠোর লকডাউন সোনাগাজী উপজেলার সকল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের (আংশিক) কমিটি ঘোষণা বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ নতির কোলে চড়ে ভোট দিলেন বৃদ্ধা আলেমা রংপুর র‌্যাব-১৩, কর্তৃক মোবাইল চোর চক্রের সংঘবদ্ধ ৩ জন গ্রেফতার। মানিকগঞ্জে জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামালের ১১০তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে International webinar অনুষ্ঠিত

ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের নিয়ম, নিয়ত এবং ঈদের সুন্নত।

  • আপডেট টাইম: রবিবার, ১৬ মে, ২০২১
  • ৩৮ বার পঠিত

 

ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের বিবরণ –

পবিত্র মাহে রমজান শরীফে এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখে তার পরের দিন যে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ পড়া হয় তাকে ঈদ উল ফিতরের নামাজ বলে। এই নামাজ সমস্ত এলাকাবাসীর একত্রে মসজিদে বা ময়দানে পড়তে হয়। ঈদের নামাজ পড়া ওয়াজিব। এই নামাজের ওয়াক্ত প্রাতঃকাল হতে দ্বিপ্রহরের আগ পর্যন্ত। যদি ওই দিন শুক্রবার হয় তাহলে ঈদের নামাজ পড়ার পর আবার জুমা’আর নামাজও পড়বে। কেননা জুম’আর নামাজ পড়া ফরয।

ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের তাকবীর –
“তাকবীরে তাশরীক”

اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

উচ্চারণ » আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের নিয়ত –

উচ্চারণ » নাওয়াইতুআন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকায়াতাই সালাতিল ঈদিল ফিতরি মাআ ছিত্তাতি তাকবিরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তাআলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।

ঈদ উল ফিতরের নামাজ আদায়ের নিয়ম –

নিয়তঃ নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে নামাজের নিয়ত করে ইমাম সাহেব তাকবীর বলে অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলে তাহরীমা ( হাত বাঁধা ) বাঁধবে। মুক্তাদীগণও তাকবীরে তাহরীমা বাঁধবে।

ছানাঃ তাকবীরে তাহরীমা বাধার পর ছানা পাঠ করবে।

(সুবহানাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদীকা ওয়া তাবারাকাছমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়ালা ইলাহা গয়রুক)

অতিরিক্ত তাকবীর (আল্লাহু আকবার): ছানা পাঠ করার পর ইমাম সাহেব উচ্চস্বরে অতিরিক্ত তিনটি তাকবীর বলবেন। মুক্তাদীগণও মনে মনে তাকবীর বলবে। প্রথম দুই তাকবীরের সময় হাত কর্ণমূল পর্যন্ত উঠিয়ে আবার ছেড়ে দেবে। তৃতীয় তাকবীরের সময় পুনরায় তাহরীমা বাঁধবে ( কিরআতের জন্য হাত বাঁধা )

কিরাত: শেষ তাকবীর অর্থাৎ তৃতীয় তাকবীর বলে পুনরায় তাহরীমা বাধার পর ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করে অন্য একটি সূরা মিলিয়ে পাঠ করবে। মুক্তাদীগণ মনোযোগ সহকারে তেলাওয়াত শুনবে এবং সূরা ফাতিহা শেষ হওয়ার পর মনে মনে আমিন বলবে।

রুকু – সিজদাহঃ কিরায়াত শেষ হওয়ার পর যথারীতি অন্যান্য নামাজের মতো রুকু এবং সিজদা শেষ করবে। সিজদাহ শেষ করে সরাসরি উঠে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকাআতের কিরাআতের জন্য হাত বাঁধবে।

দ্বিতীয় রাকাতে অতিরিক্ত তাকবীরঃ দ্বিতীয় রাকাতের কিরাআত শেষ হওয়ার পর ইমাম সাহেব উচ্চস্বরে অতিরিক্ত তিনটি তাকবীর বলবেন। মুক্তাদীগণও মনে মনে তিনটি তাকবীর বলে কর্নমূল পর্যন্ত হাত উঠিয়ে প্রত্যেকবার হাত ছেড়ে দেবে। এই অতিরিক্ত তিনটি তাকবীরের কোন তাকবীর এই হাত বাঁধবে না। তৃতীয় অতিরিক্ত তাকবীর টি বলে হাত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দিয়ে আল্লাহু আকবার বলে সরাসরি রুকুতে চলে যাবে।

তারপর যথারীতি পূর্বের মত রুকু ও সিজদা করে অন্যান্য নামাজের মত বৈঠকে তাশাহুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ শরীফ, দোয়া মাছুরা পাঠ করে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করবে। নামাজ শেষ হওয়ার পর ইমাম সাহেব খুতবাহ পাঠ করবেন। সকলে মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনবেন, সম্মিলিতভাবে ইমাম সাহেবের সাথে হাত তুলে দোয়াই শরিক হবেন।

ঈদের দিনের সুন্নত ও মুস্তাহাব সমূহ-

(১) মেসওয়াক করা সুন্নত। (২) গোসল করা সুন্নত। (৩) সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। (৪) কিছু খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নত। বিজোড় সংখ্যায় যেকোনো মিষ্টিদ্রব্য খাওয়া উত্তম; খেজুর অতি উত্তম। (৫) ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া উত্তম। এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া অন্য রাস্তা দিয়ে আসা মুস্তাহাব। (৬) ঈদগাহে যাওয়ার পথে নিচু স্বরে তাকবির (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ) পড়া সুন্নত। (৭) সাধ্যমতো উত্তম পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব। (৮) নামাজের জন্য ঈদগাহে যাওয়ার আগে সদকায়ে ফিতর আদায় করা সুন্নত। (দাতা ও গ্রহীতার সুবিধার্থে রমজানেও প্রদান করা যায়)। (৯) ঈদের দিন চেহারায় খুশির ভাব প্রকাশ করা ও কারো সঙ্গে দেখা হলে হাসিমুখে কথা বলা মুস্তাহাব। (১০) আনন্দ-অভিবাদন বিনিময় করা মুস্তাহাব। (ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৬, ৫৫৭, ৫৫৮; হেদায়া : ২/৭১; বোখারি : ১/১৩০, ইবনে মাজাহ : ৯২)
ঈদের নামাজ দুই রাকাত আর তা ওয়াজিব। এতে আজান ও ইকামত নেই। যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব, তাদের ওপর ঈদের নামাজও ওয়াজিব। ঈদের নামাজ ময়দানে পড়া উত্তম। তবে মক্কাবাসীর জন্য মসজিদে হারামে উত্তম। শহরের মসজিদগুলোতেও ঈদের নামাজ জায়েজ আছে। (বুখারি : ১/১৩১; ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৫, ১/৫৫৭; আল মুহাজ্জাব : ১/৩৮৮)

সূর্য উদিত হয়ে এক বর্শা (অর্ধ হাত) পরিমাণ উঁচু হওয়ার পর থেকে শুরু হয়ে দ্বিপ্রহর পর্যন্ত বাকি থাকে। তবে ঈদুল ফিতরের নামাজ একটু দেরিতে পড়া সুন্নত; যেন নামাজের আগেই বেশি থেকে বেশি সদকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যায়। (ফাতহুল কাদির : ২/৭৩, আল মুগনি : ২/১১৭)

নামাজ শেষে খুতবা প্রদান ইমামের জন্য সুন্নত; তা শ্রবণ করা নামাজির জন্য ওয়াজিব। (ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৯, ৫৬০)
কারো ঈদের নামাজ ছুটে গেলে শহরের অন্য কোনো জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। পরিশেষে যদি নামাজ ছুটেই যায় তাহলে এর কোনো কাজা নেই। তবে চার রাকাত এশরাকের নফল নামাজ আদায় করে নেবে এবং তাতে ঈদের নামাজের মতো অতিরিক্ত তাকবির বলবে না। (ফাতাওয়া শামি : ১/৫৬১)

সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।

সম্পাদনায়- (হাফেয) খন্দকার আবু সুফিয়ান।
এম এ(হাদীস), রাষ্ট্রবিজ্ঞান(অনার্স)।
অষ্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2020 lalsabujerdesh.com ।
Theme Customized By BreakingNews