মুর্শিদাবাদে সম্প্রীতির নতুন নজির

 

লিয়াকত হোসেন খোকন

মুর্শিদাবাদ থেকে ফেসবুক বন্ধু আশিষ খান
জানিয়েছে, সম্প্রীতির নতুন নজির। ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা থানার কাপাসডাঙা গ্রামের – ওই গ্রামের নব্বই বছরের সারথি হাজরা গত ১৭ মে সোমবার মারা গেলে পাশের গ্রামের হিন্দু পরিবারের কেউ এগিয়ে আসছিল না। বিকেলে গ্রামের সবাই জানতে পারেন, সারথি হাজরা মারা গেছেন – দলে দলে গ্রামের লোকজন ছুটে যান সারথি হাজরার বাড়িতে।
তাঁর সৎকারে এগিয়ে এলেন কাপাসডাঙা গ্রামের মুসলমান পরিবারের এলাহী শেখ, ইফতেখার আহমেদরা। মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার খাট রঙিন কাগজে সাজানো হয়। এলাহীরা নিজের কাঁধে তুলে নেন তাদের বড়মার প্রাণহীন দেহ। রীতিমতো শোভাযাত্রা করে গ্রাম ঘুরে মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়।
কাপাসডাঙা গ্রামে হিন্দু – মুসলমান কোনও বিষয় নেই।
খাট, ফুল – মালা সব এলাহীরাই এনেছিলেন। সৎকার করার যাবতীয় খরচও দিয়েছেন। গত লকডাউনের সময় কাপাসডাঙার গ্রামে অসম বা আসামের হিন্দু দম্পতিকে এক মাস রেখেছিলেন মুসলিম পরিবার। কোনও জাতের ভেদাভেদ নেই – আছে হাতে হাত ধরে বাঁচা।
লকডাউনের সময় এমনই সম্প্রীতির ছবি দেখা গেল কাপাসডাঙা গ্রামে। গ্রামের সবাই বৃদ্ধা সারথি হাজরাকে ডাকতেন বড়মা বলে। তাঁর মৃত্যুর শোকযাত্রায় গ্রামবাসীরা বড়মার অন্তিম যাত্রা বলে ব্যানার, পোস্টার নিয়ে মিছিলও করেন। মুসলিম অধ্যুষিত কাপাসডাঙায় কয়েক পুরুষ ধরে বাস করত এই হিন্দু পরিবারটি। বাড়ির মহিলা করতেন ধাত্রী মা অর্থাৎ দাইমার কাজ। বাড়ির পুরুষরা করতেন চৌকিদারের কাজ সারথি হাজরা গত ৫০ বছর ধরে প্রসূতিদের নাড়ি কাটার কাজ করে গেছেন। কোনও রকম জাতপাতের ব্যাপার ছিল না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.