1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উদ্বাস্তু পুনর্বাসনে বঙ্গবন্ধু অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন: ড.কলিমউল্লাহ বঙ্গবন্ধু স্বপ্নচারী এবং দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব ছিলেন: ড.কলিমউল্লাহ বিজিবির রাতভর অভিযানে ভোরে ৯ গরু জব্দ, আরো ৫১টি গরু পাহাড়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও সার্জন,ভুয়া এমবিবিএস ও এমডি পদধারী প্রতারক ডাক্তার আটক র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের জন্য ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঈদগাঁও বাজারে চাঁদা দাবির অভিযোগ! বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হারাগাছ সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত। রংপুরের গংচড়ায় বিধবা ভাতা ও একটি টিনের ঘরের জন্য আকুতি জানিয়েছেন রুনা লায়লা গ্লোবাল টিভির সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসী মুন্নার গ্রেফতারের দাবিতে সাভারে বিভিন্ন কর্মসূচী

আজ অবিভক্ত ভারতবর্ষের নেতা সুভাষ চন্দ্র বসু – এর জন্মদিন

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৪৯ বার

স্বীকৃতি বিশ্বাস

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সশস্ত্র বিপ্লবীদের নয়নের মনি, দুশোরও অধিক কাল অবধি চালিত ব্রিটিশ সরকারের ত্রাস,ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অমর কিংবদন্তি নেতা,স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে উজ্জ্বল ধ্রুব তারা, মহান চরিত্রের অধিকারী যিনি নিজের সমগ্র জীবন স্বাধীনতার জন্য উৎসর্গ করেছিলেন তিনি আর কেউ নয়- সুভাষ চন্দ্র বসু।তিনি নেতাজী নামে সমধিক পরিচিত।

সুভাষ চন্দ্র বসু ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি বর্তমান ওড়িশা রাজ্যের কটক শহরে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বিশিষ্ট বাঙালি আইনজীবী জানকী নাথ বসু ও মাতা প্রভাবতী দেবী। তিনি ছিলেন পিতা-মাতার চৌদ্দ সন্তানের মধ্যে নবম।তাঁদের আদি নিবাস ছিল বর্তমান ভারতের পশ্চিম বঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার কোদালিয়া।
সুভাষ চন্দ্র বসু ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত কটকের একটি ইংরেজি স্কুলে পড়াশোনা করেন।তারপর ভর্তিকরা হয় কটকের রাভেনশ কলেজিয়েট স্কুলে। ১৯১১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় কলকাতা থেকে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে দর্শন শাস্ত্রে সম্মানসহ বিএ পাস করেন। এরপর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজউইলিয়াম হলে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হন। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ভাল নম্বর পেয়ে প্রায় নিয়োগপত্র পেয়ে যান কিন্তু বিপ্লব সচেতন দৃষ্টিভঙ্গির জন্য নিয়োগ পত্র প্রত্যাখ্যান করেন।
এই সময় অমৃতসর হত্যাকান্ড ও ১৯১৯ সালে দমনমূলক রাওলাট আইন ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের বিক্ষুব্ধ করে তোলে।
ভারতে ফিরে সুভাষ চন্দ্র বসু ‘ স্বরাজ’ নামক সংবাদ পত্রে লেখালেখি শুরু করেন এবং বঙ্গীয় প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রচারের দায়িত্বে নিযুক্ত হন।তাঁর রাজনৈতিক গুরু ছিলেন বাংলায় মহান জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ।
১৯২৪ সালে দেশবন্ধু যখন কলকাতা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন তখন সুবাস চন্দ্র তার অধীনে কর্মরত ছিলেন। ১৯২৫ সালে অন্যান্য জাতীয়তাবাদীদের সাথে তাঁকেও বন্ধী করে মান্দালয়ে নির্বাসিত করা হয়।এখানে তিনি যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন। সুভাস চন্দ্র ছিলেন একজন সেকুলার।স্বামী বিবেকানন্দের ভাবাদর্শ তাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল আর তাই তিনি ধ্যানে অনেক সময় অতিবাহিত করতেন।১৯২৮ সালে পার্ক সার্কাস স্ট্রিটে তিনি বিভি গঠন করেন যদিও উদ্দেশ্য ছিল সমাজ সেবা।
১৯৩০ সালে তিনি কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন।১৯৩৪ সালে লবণ সত্যাগ্রহ বন্ধ করলে তিনি ও বীঠলভাই ইউরোপ থেকে বোস প্যাটেল ইস্তাহার দেন।প্রায় ২০ বছরের মধ্যে সুভাষ চন্দ্র মোট ১১ বার গ্রেফতার হন। তাঁকে ভারত ও রেঙ্গুনের বিভিন্ন জায়গায় রাখা হয়েছিল। ১৯৩৩ সালে তাঁকে ইউরোপে নির্বাসিত করা হয়।১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম প্রেম এমিলি শেঙ্কলের সাথে ভিয়েনায় পরিচয় হন এবং ১৯৩৭ সালে ব্যাড গ্যাস্টিনে বিয়ে করেন।
সুভাষ চন্দ্র বসুর পিতার মৃত্যুর পরে ব্রিটিশ সরকার শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনের জন্য কিছু সময়ের জন্য কলকাতায় আসার অনুমতি দেয়।
১৯৩৮ সালে তিনি গন্ধীর বিরোধিতার মুখে সর্ব্ব ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বারের জন্য কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে গন্ধী অন্যজনকে সমার্থন দেন এবং হেরে যান। এ পরাজয় মেনে না নিতে পারায় গান্ধীবিভিন্ন রাজনৈতিক কলাকৌশল অবলম্বন করতে থাকেন ফলে তিনি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল অল ইন্ডিয়া ফরোয়ার্ড ব্লক গঠন করেন।
সুভাষ চন্দ্র বসুর সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি ” তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি স্বাধীনতা দেব”। ৪ জুলাই ১৯৪৪ সালে বার্মায় একটি র‍্যালিতে বলে ছিলেন। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ তাঁকে দেশ রত্ন উপাধি দেন। আজাদ হিন্দ ফৌজের অভিযান ব্যর্থতাশ পর্যবসিত হলেও সুভাষ চন্দ্রের শৌর্য ও আপোষহীন রণনীতি তাঁকে ভারতব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা দান করে।

ভারত বর্ষে নেতাজীর তুমুল জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একদল উঁচু তলার নতা ও ইংরেজ সরকার মিলিতভাবে ষড়যন্ত্র করে নেতাজীকে সরিয়ে দেয় তাই ভারত সরকার নেতাজীর মৃত্যুর কারণ আজ আবধি সামনে আনেনি।
অবিভক্ত ভারত বর্ষের বিদ্রোহী এই নেতার জন্মদিনে হাজারো সেলাম।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..