1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উদ্বাস্তু পুনর্বাসনে বঙ্গবন্ধু অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন: ড.কলিমউল্লাহ বঙ্গবন্ধু স্বপ্নচারী এবং দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব ছিলেন: ড.কলিমউল্লাহ বিজিবির রাতভর অভিযানে ভোরে ৯ গরু জব্দ, আরো ৫১টি গরু পাহাড়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও সার্জন,ভুয়া এমবিবিএস ও এমডি পদধারী প্রতারক ডাক্তার আটক র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের জন্য ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঈদগাঁও বাজারে চাঁদা দাবির অভিযোগ! বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হারাগাছ সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত। রংপুরের গংচড়ায় বিধবা ভাতা ও একটি টিনের ঘরের জন্য আকুতি জানিয়েছেন রুনা লায়লা গ্লোবাল টিভির সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসী মুন্নার গ্রেফতারের দাবিতে সাভারে বিভিন্ন কর্মসূচী

ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে বোরো মৌসুমে চরম বিপাকে ফুলবাড়ীর চরাঞ্চলের চাষীরা

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৪২ বার

 

বিপুল মিয়া,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিজেল চালিত শ্যালোমেশিন দিয়ে বোরো চাষ করা প্রায় ১২ হাজার কৃষক ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছে। অনেকে বোরো চাষের জমির পরিমান কমিয়ে দিয়েছেন। বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পাড় করলেও চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা পুরন নিয়ে হতাশ প্রকাশ করেছেন চাষীরা।
এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিধার্ণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৯৩৯ হেক্টর জমিতে। এ যাবদ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে। গভীর নলকুপের সংখ্যা ৮৬ টিতে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ,অগভীর নলকুপ / বিদ্যুত নির্ভর সেচযন্ত্রর সংখ্যা ১ হাজার ৩২০ টিতেও প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ,ডিজেল চালিত সেচযন্ত্র (শ্যালোমেশিন) এর সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার টিতে চাষাবাদ ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। উভয় সেচের সুবিধাভোগি কৃষকের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার জন।
কৃষকদের দেয়া তথ্য মতে সাধারণ দোথআশ মাটিতে বোরো চাষে সেচ দিতে হয় গড়ে ৩০টি। এতে হেক্টর প্রতি ডিজেল লাগে ২২৫ লিটার। অপরদিকে চরাঞ্চলের জমিতে মৌসুমে গড়ে ৫০ টি সেচ দিতে হয়। এতে হেক্টর প্রতি ডিজেল লাগে ৩৭৫ লিটার।

বর্তমান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ডিলাররা কৃষকদের প্রতি লিটার ৮০ টাকায় দরে ডিজেল বিক্রি করছেন। অন্য দিকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারসহ চরাঞ্চলের বাজারগুলো খুচরা বিক্রেতারা কৃষকদের কাছে ৮৫ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করছেন। গত বছর ডিলাররা প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি করতো ৬৫ টাকা এবং খচর বাজারে ব্যবসায়ী বিক্রি করতো ৭০ টাকা। এ বছর বোরোও চলতি মৌসুমে ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিজেল চালিত সেচযন্ত্রে চাষ করা জমিতে হেক্টর প্রতি মোটা অংকের বাড়তি খরচ হবে উপজেলার কৃষকদের। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কৃষকদের গুনতে হবে প্রায় দ্বিগুন টাকা।

কৃষকরা জানান, ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ জমিতে হেক্টর প্রতি প্রায় ৪ হাজার টাকা এবং চরাঞ্চলে প্রায় ৬৬০০ টাকা সেচ দিতে বেশী ব্যায় করতে হচ্ছে। এছাড়া হাল চাষেরও দাম বেড়েছে। ইঞ্জিন চালিত যন্ত্র দিয়ে হাল চাষে আগের চেয়ে হেক্টর প্রতি ক্ষেত্র বিশেষে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবমিলিয়ে হেক্টর প্রতি ৫৫০০ টাকা থেকে ৭৭০০ টাকা বেশী ব্যয় হচ্ছে এবার। বাড়তি ব্যায়ের ফলে অনেকে বোরো চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক কৃষক।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোরকমন্ডল গ্রামের কৃষক ওসমান গণি জানান, প্রতি বছর ৫ বিঘা জমিতে ডিজেল চালিত সেচ যন্ত্র দিয়ে বোরো চাষ করলেও এবার ডিজেলের দাম বাড়ায় ৩ বিঘা জমি বোরো চাষাবাদ করেছেন তিনি। তিনি আরও জানান প্রতি লিটার ডিজেল ৮৫ টাকা দরে স্থানীয় বাজারে ক্রয় করে এবছর বোরোও লোকসান গুনতে হবে বাহে !
একই ইউনিয়নের চর-গোরকমন্ডল এলাকার কৃষক ছামাদ আলী বলেন আমাদের চর এলাকার এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে কমপক্ষে ৫০ লিটার ডিজেল লাগে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো চাষ নিয়ে আমরা খুবই দুচিন্তায় আছি। ডিজেলের দাম বাড়ায় সব কিছুই বেড়েছে। আগে ছোট ট্রক্টরগুলো বিঘা প্রতি জমি চাষ করতে ২০০ টাকা নিতো । ডিজেলের দাম বাড়ায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়তে দিতে হচ্ছে।
চর-মোরকমন্ডল চরাঞ্চলের কৃষক ছাইদুল ইসলামসহ অনেকেই জানান,তাদের এলাকার জমিতে প্রতিদিন সেচ দিতে হয়। ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে অনেকে বোরো চাষ নিয়ে শংসয় প্রকাশ করছেন। তারা আরও জানান, আমাদের এলাকা থেকে ফুলবাড়ী সদর প্রায় ১৫ কিলোমিটার ও বালারহাট বাজার ৮ কিলোমিটা। তারই বাধ্য হয়ে স্থানীয় আনন্দবাজার ও বিডিআর বাজার ৮৫ টাকা মূল্যে প্রতি লিটার ডিজেল কিনতে হয়। ধানের দাম না বাড়লে বড় লোকসানে পড়তে হবে।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পাওয়ার টিলার মালিক ছাইদুল ইসলাম বলেন, আগে বিঘা প্রতি হালচাষে ৬০০ টাকা নিতাম। ডিজেলের দাম বাড়ায় এখন ৮০০টাকা নিচ্ছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন জানান,ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে বোরো চাষে কিছুটা খরচ বাড়বে। তবে ডিজেল চালিত সেচযন্ত্র দিয়ে যেসব কৃষক বোরো চাষ করবেন তাদেরকে অলটারনেটিভ ওয়াটারিং এন্ড ড্রাইং (এ.ডব্লিউ.ডি) ভেজানো ও শুকনো পদ্ধতি বোরো চাষের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এতে পানির অপচয় হবে না। ফলে ব্যায় অনেকটা কমে আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..