1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উদ্বাস্তু পুনর্বাসনে বঙ্গবন্ধু অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন: ড.কলিমউল্লাহ বঙ্গবন্ধু স্বপ্নচারী এবং দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব ছিলেন: ড.কলিমউল্লাহ বিজিবির রাতভর অভিযানে ভোরে ৯ গরু জব্দ, আরো ৫১টি গরু পাহাড়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও সার্জন,ভুয়া এমবিবিএস ও এমডি পদধারী প্রতারক ডাক্তার আটক র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের জন্য ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঈদগাঁও বাজারে চাঁদা দাবির অভিযোগ! বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হারাগাছ সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত। রংপুরের গংচড়ায় বিধবা ভাতা ও একটি টিনের ঘরের জন্য আকুতি জানিয়েছেন রুনা লায়লা গ্লোবাল টিভির সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসী মুন্নার গ্রেফতারের দাবিতে সাভারে বিভিন্ন কর্মসূচী

বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর মৃত্যু দিবস-

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৩৬ বার

স্বীকৃতি বিশ্বাস
যাঁরা বলেন বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা
সম্ভব নয় তাঁরা হয় বাংলা জানেন না
অথবা বিজ্ঞান বোঝেন না- অমর উক্তির জনক বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্র নাথ বসু ১৮৯৪ সালের ১ জানুয়ারি উত্তর কলকাতার গোয়া বাগান অঞ্চলে স্কটিশ চার্জ কলেজিয়েট স্কুলের পাশে ২২ নম্বর ইশ্বর মিত্র লেনে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতা সুরেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন পূর্ব ভারতীয় রেলওয়ের হিসাবরক্ষক এবং মাতা আমোদিনী দেবী ছিলেন আলীপুরের খ্যাতনামা ব্যবহারজীবি মতিলাল রায়চৌধুরীর কন্যা।সত্যেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন সাত ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। তাদের পরিবারের আদি নিবাস ছিল ২৪ পরগণার কাঁড়োপাড়ার সন্নিকটে বড়জাগুলিয়া গ্রামে।

সত্যেন্দ্রনাথ বসুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় সাধারণ স্কুলে। পরে বাড়ির কাছে নিউ ইন্ডিয়ান স্কুলে ভর্তি হন। তারপর হিন্দু স্কুলে এন্ট্রান্স ক্লাসে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯০৯ সালে কৃতিত্বের সাথে পঞ্চম স্থান অধিকার করে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯১১ সালে প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে প্রথম স্থান অধিকার করে আই.এস.সি পাশ করেন। এই কলেজে অধ্যায়নকালে প্রথীতযশা অধ্যাপক আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু ও আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের সান্নিধ্যে আসেন। ১৯১৩ সালে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে স্নাতক এবং ১৯১৫ সালে মিশ্র গণিতে আবারও প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯১৫ সালে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত কলকাতা কলেজে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন।এখানে তিনি বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা- এর সাথে মিশ্র গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন।
১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে রিডার হিসাবে যোগদান করেন। তিনি ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ।

১৯২৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাকালীন সময়ে সত্যেন্দ্র নাথ বসু প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তেজস্ক্রিয় তা নীতি ক্লাসিক্যাল পদার্থ বিজ্ঞানের সাহায্য ছাড়াই প্রতিপালন করে একটি গবেষণা প্রবন্ধ রচনা করেন এবং সদৃশ্য কনার সাহায্যে দশার সংখ্যা গণনার একটি চমৎকার উপায় বের করেন। এই নিবন্ধনটি ছিল মৌলিক এবং কোয়ান্টাম পরিসংখ্যানের ভিত্তি রচনাকারী।কিন্তু প্রবন্ধটি প্রকাশ করবার প্রাথমিক চেষ্টায় ব্যর্থ সরাসরি আলবার্ট আইনস্টাইনের কাছে পাঠান এবং আলবার্ট আইনস্টাইন প্রবন্ধটির গুরুত্ব বুঝতে পেরে নিজেই জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে বসুর পক্ষে zeitschrift fur physics সাময়িকীতে প্রকাশের উদ্যোগ নেন। এই স্বীকৃতির জন্য বসু ভারতের বাইরে গবেষণার সুযোগ লাভ করেন এবং ২ বছর ইউরোপে থেকে লুই ডি ব্রগলি, মারি ক্যুরি এবং আইনস্টাইনের সাথে কাজ করার সুযোগ পান।

১৯২৭ সালে ইউরোপ থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন এবং তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। সত্যেন্দ্রনাথ বসু ১৯৪৫ সালে দেশ ভাগের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ঢাকায় ছিলেন। যখন দেশভাগ আসন্ন তখন তিনি কলকাতায় ফিরে গিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন।
১৯৫৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহনের পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এমেরিটাস অধ্যাপক হিসাবে নিয়োগ দেয়।ভারত সরকারের আমন্ত্রণে তিনি বিশ্ব ভারতীতে যোগ দেন এবং ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৯ সালে ভারত সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসাবে নিযুক্ত করেন।
১৯২৯ সালে সত্যেন বসু ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের পদার্থ বিজ্ঞান শাখার সভাপতি ও ১৯৫৪ সালে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন।১৯৫৮ সালে লন্ডনের রয়েল সোসাইটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে সম্মান সূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেন।১৯৫৯ সালে ভারত সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক পদে মনোনীত করেন। বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে দেশিকোত্তম এবং ভারত সরকার পদ্মবিভূষণ উপাধিতে ভূষিত করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে সত্যেন বসু অধ্যাপক পদ রয়েছে। ১৯৮৬ সালে কলকাতা শহরে সত্যন্দ্রনাথ বসু জাতীয় মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চ্চার ক্ষেত্রে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। তার নেতৃত্বে কলকাতায় ১৯৪৮ সালে বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ গঠিত হয়। এই পরিষদের মুখপাত্র হিসাবে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান ভিত্তিক পত্রিকা ‘ জ্ঞান ও বিজ্ঞান ‘ প্রকাশিত হয়। ১৯৬৩ সালে জ্ঞান ও বিজ্ঞান – এ কেবলমাত্র মৌলিক গবেষণা নিবন্ধ নিয়ে ‘ রাজশেখর বসু সংখ্যা ‘ প্রকাশ করে দেখান যে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের মৌলিক নিবন্ধন রচনা সম্ভব।

অসামান্য প্রতিভার অধিকারী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ১৯৭৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী কলকাতায় মৃত্যু বরণ করেন।
অবিভক্ত ভারতবর্ষের প্রথীতযশা এই বিজ্ঞানীর মৃত্যু দিবসটি অনেকটাই নিরবে নির্ভীতে চলে
গেল কর্মসূচি ছাড়াই। আমাদের আগামী প্রজন্মকে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চ্চার এই জনককে আগামী প্রজন্মের নিকট পরিচিত করে দেওয়া একান্ত দায়িত্ব । সেজন্য সত্যন্দ্রনাথ বসুর জন্মদিন ও মৃত্যু দিবসে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..