1. admin@lalsabujerdesh.com : ডেস্ক :
  2. lalsabujerdeshbd@gmail.com : Sohel Ahamed : Sohel Ahamed
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উদ্বাস্তু পুনর্বাসনে বঙ্গবন্ধু অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন: ড.কলিমউল্লাহ বঙ্গবন্ধু স্বপ্নচারী এবং দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব ছিলেন: ড.কলিমউল্লাহ বিজিবির রাতভর অভিযানে ভোরে ৯ গরু জব্দ, আরো ৫১টি গরু পাহাড়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও সার্জন,ভুয়া এমবিবিএস ও এমডি পদধারী প্রতারক ডাক্তার আটক র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের জন্য ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঈদগাঁও বাজারে চাঁদা দাবির অভিযোগ! বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হারাগাছ সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত। রংপুরের গংচড়ায় বিধবা ভাতা ও একটি টিনের ঘরের জন্য আকুতি জানিয়েছেন রুনা লায়লা গ্লোবাল টিভির সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসী মুন্নার গ্রেফতারের দাবিতে সাভারে বিভিন্ন কর্মসূচী

লতা মঙ্গেশকর এক মহাকাব্য।।

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৯৭ বার

 

আমাদের গান শোনা লতা মঙ্গেশকরের গান দিয়ে। সেই কবে ” প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে আমারও দুয়ার প্রান্তে ” – নব যৌবনে এই গানটি ছিল আমাদের প্রিয়। প্রেমে পড়ার আগে ও পরে এই গানটি ছিল সবার মুখে মুখে। হাজার হাজার গান গেয়ে লতা মঙ্গেশকর শুধু ভারতবাসীর হৃদয়ে নয়, তিনি ছিলেন বিশ্বের মাঝে সবার প্রিয় কণ্ঠশিল্পী।
লতা মঙ্গেশকরকে এতই ভালো লাগত, যে জন্য একসময় মনের কোণে উঁকি দিল, লতাজি’র জন্মস্থান মধ্যপ্রদেশের
ইন্দোর যাব, দেখব ইন্দোর শহরটি কেমন। সে তো প্রায় ৩৫ বছর আগের কথা। ইন্দোরে গিয়ে যাকে জিজ্ঞেস করি, আপনারা কি নিয়ে গর্ব করেন? বালক -যুবা -বৃদ্ধার একই জবাব, ” আমরা ইন্দোরবাসী গর্ব করি লতাজি’কে নিয়ে, কারণ লতাজি’র জন্মস্থান এই ইন্দোরে। ”
একটি বালক তো মন খুলে দরদ দেখিয়ে শুনিয়েছিল, লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া বরষাত ছবির – ” হাওয়া মে উড়তা যায়ে….. মল মল কাজি মোরা ” গানখানি। ইন্দোরের এক রেস্তোরাঁয় ঢুকে একের পর এক লতা মঙ্গেশকরের গান বাজানো শুনে দারুণভাবে মুগ্ধ হয়েছিলাম। যাওয়ার সময় রেস্তোরাঁর মালিককে জিজ্ঞেস করলাম, লতা মঙ্গেশকরের গান ছাড়া অন্য কোনো শিল্পীর গান কি আপনারা বাজান না?
হাসতে হাসতে রেস্তোরাঁর মালিক হিন্দিতে যা বলেছিলেন তার বাংলা অর্থ হল – ” সবার গান আমরা ভালবাসি, কিন্তু লতাজি’র জন্মস্থান আমাদের ইন্দোরে বলে আমি শুধু নই অধিকাংশ রেস্তোরাঁয় ও ঘরে ঘরে বাজানো হয় লতাজি’র গান। অবশেষে, প্রত্যাশা রইল , প্রিয় লতাজি স্বর্গবাসী হোক।
লতা মুঙ্গেশকর এক মহাকাব্য। তাঁর জন্মস্থান ইন্দোরে গিয়েছিলাম – শুধু তাঁরই জন্য। প্রিয়শিল্পী লতাজির জন্মস্থান ইন্দোর দেখবো বলে। সেই স্মৃতি এই ক্ষণে জাগে বারেবারে………….!
লতা মুঙ্গেশকর এক ইতিহাস। হিন্দি, বাংলা, গুজরাটি, তেলেগু, তামিল, পাঞ্জাবি কত-না ভাষায় তিনি হাজার হাজার গান করেছেন। তাঁর অনবদ্য কণ্ঠমাধুর্য ধ্বনিত হয় প্রতিটি গানেই। যে-জন্য লতার গান শুনে এখনো সব বয়সের শ্রোতা মুগ্ধ হন। তাঁর গান শোনার মোহ ফুরাবার নয়।
বাংলায় লতা মুঙ্গেশকর গেয়েছেন – ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে দূরের তারার পানে চেয়ে, আমার নয়ন দুটি শুধুই তোমারে চাহে’, ‘যারে যারে উড়ে যারে পাখি’, ‘না যাও না এখনো বাকি’, ‘ও পলাশ ও শিমুল, কেন এ মন মোর রাঙালে’, ‘সাতভাই চম্পা জাগোরে জাগোরে ঘুম ঘুম থেকো না ঘুমেরি ঘোরে’সহ কতশত হাজারো গান। এসব গান বেজে উঠলে পথচারীরা আজও থমকে দাঁড়ায়। যুবকরা গানটি না শুনে সম্মুখে যেতে পা বাড়ায় না। লতারই গাওয়া হিন্দি গান ‘তাক ধিনা ধিন বরষাত মে’, ‘হাওয়া মে উড়তা যায়ে’, ‘চুপ চুপ খড়ে হো জরুর’, ‘বচপন মোহব্বত কো’, ‘আয়েগা আনেওয়ালা’, ‘না মিলতা গম’, ‘আজা রে পরদেশি’, ‘কহি দীপ জ্বলে জহি’, ‘মেরা মন দোলে’, ‘ইচিক দানা বিচিক দানা’, ‘ইন হি লগনে – দো পাট্টা’, ‘জিন্দেগি উসিকি হ্যাঁয়’ এরকম হাজার হাজার গান উপমহাদেশজুড়ে এখনো সংগীতপ্রেমিকদের প্রিয় গানের তালিকায় রয়ে গেছে।
লতার জন্ম ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে ১৯২৯ সালের ২৮ শে সেপ্টেম্বর। লতার বাবা দীননাথ মুঙ্গেশকর গোয়ার মঙ্গেশী মন্দিরে ঝাড় দেওয়া, বাসন মাজা, প্রদীপ জ্বালানোর কাজ করতেন। পাশাপাশি তিনি গানও করতেন। তাই লতার সংগীতশিক্ষা শুরু হয় তাঁর বাবার কাছে। পিতার মৃত্যুর পরে ওস্তাদ আমান আলির কাছে গান শেখেন তিনি। শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নেন ভেন্তি রাজারওয়ালারের কাছে। পিতার মৃত্যুর পর লতাদের সংসারে দেখা দিল অভাব-অনটন।
সেই দুর্দিনে সংসারের হাল ধরেন কিশোরী লতা।
‘পহেলা মঙ্গলা গউর’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন। সেটা ছিল ১৯৪১ সালের কথা। ১৯৪২ সালে ‘কিটি হাসল’ ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি কণ্ঠ দেন। গানটি হলো – ‘নাচু ইয়া গড়ে খেলু’। হিন্দি ছবিতে প্রথম কণ্ঠ দেন ‘আপ কি সেবা’য়। গানটি ছিল ‘পাও লাগুকর জোরি’। মা, ছোটো বোনদের ও এক ভাইয়ের মুখে দু-মুঠো খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য ১৯৪১ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত আরও যে-সব ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – মজে বল (১৯৪৩), গজা বাই (১৯৪৪), ছত্রপতি শিবাজি (১৯৪৫), বড়ি মা (১৯৪৫), জীবন ঘানা (১৯৪৬), শুভদ্রা (১৯৪৬), মন্দির (১৯৪৮) প্রভৃতি।
ফিল্মে অভিনয় করা ও গান গাইবার আগে ১৯৩৭ সালে পুনার অল ইন্ডিয়া রেডিয়োতে গানও করতেন। পুনার আগে বাবার সঙ্গে গোয়ায় থাকতেন। পুনায় থাকাকালীন গান গাইবার জন্য ট্রেনে চড়ে মুম্বাইতে আসতে হতো তাঁকে। তখন ছিল তার বড়োই কষ্টের দিন। মারাঠি ছবির অভিনেতা মাস্টার বিনয়ক তাঁর দুর্দিনে পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। লতাকে ছবিতে অভিনয় করার ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট সহযোগিতা করেন। গান গাওয়ার ব্যাপারেও তাঁকে উৎসাহ দেন এই মাস্টার বিনয়ক।
১৯৪৬ সালে মাস্টার বিনয়ক মারা যাবার পর সংসারে অন্ধকার দেখলেন লতা। আবার সেই টাকা উপার্জনের চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়লেন। সে-সময়ে হিন্দি চিত্রজগতে লতার নাটকীয় আবির্ভাব ঘটে। সংগীত পরিচালক নৌশাদ আলী এবং গোলাম হায়দার যথাক্রমে ‘চাঁদনি রাত’ (১৯৪৬) এবং ‘মজবুর’ (১৯৪৬) ছবিতে লতাকে দিয়ে গান করালেন। কিন্তু লতার সত্যিকার জয়যাত্রা শুরু হলো ২১এ এপ্রিল ১৯৪৭ সালে। সে-দিন তাঁর গান গাওয়া ‘দুলারি’ ছবিটি মুক্তি পায়। তারপরে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার ছবিতে তিনি গান করেছেন। সব গানই সুপারহিট হয়েছে।
সি, রামচন্দ্র, অনিল বিশ্বাস, নৌশাদ আলী, শচীন দেব বর্মণ, শংকর, জয়কিষণসহ তখনকার সব বিখ্যাত সুরকার চাইতেন লতাকে। লতাকে দিয়ে গান গাওয়াতে সবাই আগ্রহ দেখাতেন। ‘মুনিমজি’ ছবিতে লতা মুঙ্গেশকর গেয়েছিলেন ‘সাজন বিনা নিদন আয়ি’। এই গানটি গাওয়ার পর থেকে শচীন দেব বর্মণ মনেপ্রাণে চাইতেন লতা তাঁর সুরারোপিত প্রতিটি ছবিতে থাকুক। অন্যান্য সংগীত পরিচালকের মতো শচীন দেব বর্মণের ছেলে রাহুল দেব বর্মণও চাইতেন লতাকে দিয়ে গান করাতে। শচীন দেব বর্মণের সঙ্গে একসময় সম্পর্কে ফাটল ধরায় লতা তাঁর সুরে গান গাইতে আর আগ্রহ দেখালেন না। অবশেষে লতাকে বহু অনুরোধ করিয়ে রাহুল দেব বর্মণ সুরারোপিত ছবিতে গান গাওয়ার জন্য আগ্রহী করে তুলেছিলেন শচীন দেব বর্মণ। শচীন দেব বর্মণের ফার্স্ট চয়েস ছিল লতা মুঙ্গেশকর। সংগীত পরিচালক নৌশাদ আলী জীবদ্দশায় বলেছিলেন, “লতার প্রতিভার স্বীকৃতি দিয়েছে গোটা ভারতবর্ষ। ভারতীয়দের কাছে লতা সংগীতের এমন এক দেবী যার সমকক্ষ অন্য কেউ নয়। অতীত, বর্তমান এমনকি ভবিষ্যতেও লতার কাছাকাছি কেউ আসতে পারবে বলে মনে হয় না।”
লতা ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন কয়েকবার। ১৯৬৯ সালে লতাকে ভারত সরকার উপাধি দেয় ‘পদ্মভূষণ’। আর ১৯৮৯ সালে ভারতীয় সংগীতের ক্ষেত্রে সারাজীবনের অবদানের জন্য লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট হিসেবে লতা মুঙ্গেশকরকে দেওয়া হয় ‘দাদা সাহেব ফালকে’ পুরস্কার। লতা মুঙ্গেশকর যখন ফিল্মে গান গাওয়া শুরু করেন তখন শীর্ষে ছিলেন আমীর বাঙ্গ কর্ণাটকী, জোহরা আম্বালওয়ালি, পারুল ঘোষ, শামসাদ বেগম, নূরজাহান প্রমুখ। সুরাইয়া ও গীতা দত্ত এই দুজন ছিলেন লতার সমসাময়িক শিল্পী। লতা সিনিয়র, সমসাময়িক ও জুনিয়র শিল্পীদের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা দিয়ে সংগীতভুবনে বিচরণ করেছেন। কারো সঙ্গে তিনি কখনো ঝামেলায় জড়াননি। করেননি কারো সঙ্গে হিংসা।
১৯৮৭ সালে লাহোর থেকে মুম্বাই সফরে এসেছিলেন নূরজাহান। দীর্ঘ ৪০ বছর পরে নূরজাহানকে কাছে পেয়ে একই মঞ্চে পাশাপাশি দুজনে গান করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে নায়িকা-গায়িকা সুরাইয়া উপস্থিত হয়েছিলেন। নূরজাহানকে তখন নিজ বাসভবনে নৈশভোজে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। সেই নূরজাহান আর সুরাইয়া এরা আজ কেউই বেঁচে নেই।
“লতা মুঙ্গেশকরের এখন বৃদ্ধকাল। অথচ তার কণ্ঠ ১৭ বছর বয়সি মেয়ের মতো” – একথা এখনকার সুরকাররাও বলেন। ‘লতা গান গায় না, সুরের ছবি আঁকে’ – কবিতার মতো এই মন্তব্য করেছেন সংগীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকা। শচীন দেব বর্মণ মারা যাবার কয়েক বছর আগে বলেছিলেন – “আগামী একহাজার বছরেও দ্বিতীয় লতা মুঙ্গেশকর পৃথিবীতে আসবে না।” ট্র্যাজেডি কিং দিলীপ কুমার লতার কণ্ঠস্বরকে বলেছেন – “এ কণ্ঠ যে ঈশ্বরের দান। ”
লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া আরও উল্লেখযোগ্য গান হলো –
কত যে কথা ছিল ; প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে ; সাতভাই চম্পা জাগোরে ; আকাশ প্রদীপ জ্বলে দূরের তারার পানে চেয়ে ; আজ তবে এইটুকু থাক , বাকি কথা পরে হবে ; আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাব ; ও আমার প্রাণ সজনী চম্পাবতী কন্যা ; ও তুই নয়ন পাখি আমার যে , বলো কোথায় যাবি যে ; আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন ; আমি বলি তোমায় দূরে থাকো , তুমি কথা রাখো না ; ও পলাশ ও শিমুল , কেন এ মন মোর রাঙালে ; ও প্রজাপতি প্রজাপতি পাখনা মেলো ; ও বাঁশি , হায় বাঁশি কেন গায় আমারে কাঁদায় ; ও মোর ময়না গো , কার কারণে তুমি একেলা ; ওগো আর কিছু তো নাই ; ওরে মনপাখি , কেন ডাকাডাকি , তুই থাক না যে গোপনে ; কত নিশি গেছে নিদহারা ওগো ; কী যে করি দূরে যেতে হয় তাই ; কী লিখি তোমায় , প্রিয়তম ; কেন কিছু কথা বলো না ; কেন গেল প্রবাসে বলো বধূয়া ; ঝিলিক ঝিলিক ঝিনুক খুঁজে পেলাম – তোমায় তা দিলাম ; না , যেও না , রজনী এখনো বাকি ; নিঝুম সন্ধ্যায় পান্থ 🐦 পাখিরা ; প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে ; মন লাগে না তুমি বিনা ; রঙিলা বাঁশিতে কে ডাকে ; যাবার বেলায় পিছু থেকে ডাক দিয়ে ; যারে উড়ে যারে পাখি ; সাত ভাই চম্পা জাগো রে জাগো রে ; কে প্রথম কাছে এসেছি ; দে দোল দোল দোল তোল পাল তোল – ইত্যাদি ইত্যাদি ।

লিয়াকত হোসেন খোকন
রূপনগর, ঢাকা, বাংলাদেশ ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..