ভৈরব তাহেরীয়া সুন্নী যুব সংগঠনের ০৫ ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী -২০২১ অনুষ্ঠিত। .. ইসলাম শান্তির ধর্ম।ইসলাম ধর্মে জঙ্গীবাদের স্থান নেই… গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী

লাল সবুজের দেশ রিপোর্ট ঃ

আজ ভৈরব জিল্লুর রহমান পৌর মিলনায়তনে আল্লামা পীর মুফতী গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী সাহেবের প্রতিষ্টিত দাওয়াতে ঈমানী বাংলাদেশে অধীনে তাহেরীয়া সুন্নী যুব সংগঠনের ০৫ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন এ দেশে ইসলাম এসেছে সুফীবাদ তথা আল্লাহর ওলিদের মাধ্যমে।

এ দেশে প্রিয় নবীর বিরুদ্ধে কোন অবমাননা বরদাস্ত করা হবে না।
উক্ত অনুষ্ঠানে সংগঠনের চেয়ারম্যান আল্লামা তাহেরী সাহেব বলেন-একমাত্র নাজাত প্রাপ্ত দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত।

ইসলাম শান্তির ধর্ম।ইসলাম ধর্মে জঙ্গীবাদের স্থান নেই।এ দেশে ধর্মের নামে অধর্মের চর্চা চলতে পারে না।সাম্প্রাদায়িক সম্প্রীতি এবং ইসলামের সঠিক ভাবধারাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হলে সকল উলামায়ে কেরাম ও পীর মাশায়েখদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন -ভৈরব পৌর মেয়র

ইফতেখার হোসেন বেনু,  শেফায়েত উল্লাহ, হাজী আসাদুজ্জামান, কবিরুজ্জামান রুমান, দেশের বিশিষ্ট আলেম ওলামাগনের মধ্যে বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন Continue reading “ভৈরব তাহেরীয়া সুন্নী যুব সংগঠনের ০৫ ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী -২০২১ অনুষ্ঠিত। .. ইসলাম শান্তির ধর্ম।ইসলাম ধর্মে জঙ্গীবাদের স্থান নেই… গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী”

চুনারুঘাটে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জশনে জুলুছ অনুষ্ঠিত শহর প্রদক্ষিণ।

 

আব্দুল জাহির মিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ

চুনারুঘাটে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত আয়োজিত পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) সম্পূর্ণ হয়েছে।

চুনারুঘাট আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সভাপতি আব্দুল জাহিরের সভাপতিত্বে ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।ছাড়াও বক্তব্য রাখেন চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদির লস্কর,এডভোকেট আকবর হোসেন জিতু,এ সময় বক্তারা ঈদে মিলাদুন্নবী’ রাস্ট্রীয়ভাবে পালনের স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা আরো বলেন,বিশ্বনবী সম্প্রীতির মহান শিক্ষক। তিনি আমাদের সম্প্রীতির মহান শিক্ষা দিয়েছেন৷ অন্য ধর্মের লোককে গালি দিতে নিষেধ করেছেন। আর আমরা এই মহান শিক্ষা ভুলে হানাহানিতে লিপ্ত।

ঈদে মিলাদুন্নবীর মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন লিটন,আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সাবেক সভাপতি মরহুম আবুল হোসেন আকল মিয়ার বড় ছেলেনাজমুল ইসলাম বকুল সহ সুন্নী নেতৃবৃন্দ।

মাহফিল শেষে জশনে জুলুছ শহর প্রদক্ষিণ করে।

রাজারহাটে পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত।

 

ইব্রাহিম আলম সবুজ রাজারহাট কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পবিত্র ঈদ-ই-মিল্লাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পবিত্র ঈদ-ই-মিল্লাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরে তাসনিম এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন রাজারহাট থানা অফিসার ইনচার্জ রাজু সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান আশিকুর ইসলাম সাবু, রাজারহাট উপজেলা মসজিদের খতিব মাওলানা আখলাক হোসেন সহ অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম, এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ সহ বিভিন্ন মসজিদের পেশ ইমাম গণ। পরিশেষে পবিত্র ঈদ-ই-মিল্লাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষে দেশ ও জাতীর কল্যাণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন, উপজেলা মসজিদের খতিব মাওলানা আখলাক হোসেন।

আদম (আ.)-এর শরীর ও প্রাণ যখন ভিন্ন স্থানে ছিল তখনো আমি নবী ছিলাম।

 

লেখকঃ মোঃ সাইদুল ইসলাম

মহান আল্লাহর যত সৃষ্টি আছে তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, সবচেয়ে মর্যাদামণ্ডিত সৃষ্টি হলেন তাঁর পিয়ারা হাবিব হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)।

তিনি ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার সুবহে সাদিকের সময় মক্কা নগরীতে আগমন করেন।

তিনি এসেছেন রাহমাতুল্লিল আলামিন হিসেবে। এই আগমনে বিশ্বের বুকে উদ্যাপিত হয় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। তাঁর ওপর নাজিল হয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল কোরআন।

যদিও আগমন তাঁর সব নবীর পরে কিন্তু তাঁর নবুয়াত সবার আগে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবায়ে কিরাম আরজ করলেন ইয়া রসুলুল্লাহ! আপনার জন্য নবুয়াত কখন থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে? তিনি বললেন, আদম (আ.)-এর শরীর ও প্রাণ যখন ভিন্ন স্থানে ছিল তখনো আমি নবী ছিলাম। (তিরমিজি)। তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে আমরা যতই বলি, যতই লিখি, যতই শুনি, তা কখনই শেষ হবে না, পরিপূর্ণ হবে না।কবি বলেন, ‘খোদা কি আজমত কিয়া হ্যায়, মুহাম্মাদ মুস্তফা জানে মাকামে মুস্তফা কিয়া হ্যায়, মুহাম্মদ কা খোদা জানে। ’

অর্থাৎ, ‘মহান আল্লাহর বড়ত্ব-মহত্ত্ব শুধু মুহাম্মদই (সা.) ভালো জানেন।

আর মুহাম্মদ (সা.)-এর শান-মানও আল্লাহতায়ালাই ভালো বোঝেন। ’

আমাদের মতো স্বল্প জ্ঞানের মানুষের পক্ষে হিজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রকৃত শান-মান বর্ণনা করা সম্ভব নয়। আর কতটুকুই বা আমরা বলব, তা মূলত মহাসমুদ্রের এক বিন্দু পানির চেয়ে অনেক কমই বলা হবে।

তাই তো শেখ সাদি (রহ.) বলেছেন, ‘বাদ আজ খোদা বুজুর্গ, তুই কিসসা মুখতাসার’। অর্থাৎ ‘হে সরকারে কায়েনাত! আপনার মর্যাদা আর কতটুকুই বলতে পারব, সংক্ষেপে এতটুকুই বললাম, আল্লাহর পরেই আপনার স্থান। ’

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘একদিন ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! পূর্ব থেকে পশ্চিম, সমগ্র ভূখণ্ড আমি তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি কিন্তু আপনার মতো মর্যাদাসম্পন্ন আর কাউকে পাইনি। আপনার সম্মানে আপনার বংশ হাশিমকে এত মর্যাদা দেওয়া হয়েছে যে, হাশিম বংশের পিতার চেয়ে কোনো মর্যাদামণ্ডিত পিতা আমি পৃথিবীর বুকে পাইনি। ’ (মাদারিজুন নুবুয়াত)। একদিন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) প্রিয় নবী (সা.)-এর শান ও মান বর্ণনা করছিলেন। তিনি বললেন, ‘আল্লাহতায়ালা অন্যসব নবী (আ.) থেকে হুজুর পাক (সা.)-কে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। একজন প্রশ্ন করলেন, কীভাবে, ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিন। ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, অন্যসব নবী (আ.) সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, “আমি কোনো রসুলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষা ছাড়া প্রেরণ করিনি”। ’ (সূরা ইবরাহিম : ৪)। আর হুজুর (সা.) সম্পর্কে বলেছেন, ‘আপনাকে সব মানুষ ও জাতির জন্যই রসুল করে পাঠিয়েছি। ’ (সূরা সাবা : ২৮)।

রসুল (সা.)-এর শান-মান সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুহাম্মদ! আপনি বলুন, (দুনিয়ার মানুষ) তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমি নবীকে অনুসরণ করে চল। তাহলে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাগুলো মাফ করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাকারী ও পরম দয়াময়। ’ (সূরা আলে ইমরান : ৩১)। তাহলে দেখা যাচ্ছে, আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে এবং আমাদের জীবনকে সুন্দর করে নিতে চাইলে প্রিয় নবী (সা.)-এর আনুগত্য, অনুসরণ ও ভালোবাসা একান্তই অপরিহার্য। নবী (সা.)-এর আনুগত্য করতে গিয়ে, তাঁর সুন্নাহর পথে চলতে গিয়ে কোনোরকম বেয়াদবি যেন প্রকাশ না হয় সে সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসী বান্দারা! তোমাদের কণ্ঠস্বর যেন আমার হাবিবের পবিত্র কণ্ঠস্বরের ওপরে না ওঠে। তোমরা একে অন্যের সঙ্গে যেভাবে কথা বল, আমার বন্ধুর সঙ্গেও সেভাবে কথা বলো না। যদি এমনটি কর তবে তোমাদের আমলগুলো বরবাদ হয়ে যাবে তোমরা টেরও পাবে না। ’ (সূরা হুজুরাত : ২)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুহাম্মদ! আপনার প্রভুর কসম! ততক্ষণ পর্যন্ত তারা মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নিজেদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদে আপনাকে ন্যায়বিচারক না মানবে। ’ (সূরা নিসা : ৬৫)।

রসুল (সা.)-এর শান-মান সম্পর্কে আল্লাহ আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর সালাত পাঠায়। অতএত হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত সালাম পাঠাও। ’ (সূরা আহজাব : ৫৫)। সেই নবীর দরুদ বেশি পড়ে তাঁর সুন্নাহ অনুযায়ী আমাদের জীবন সাজাতে হবে। তাঁর নামেই মৃত্যুর পর আমাদের কবরে রাখা হবে। হজরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা মৃত ব্যক্তিদের কবরে রাখবে তখন সবাই বলবে বিসমিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রসুলিল্লাহি। ’ (মুসনাদে আহমাদ)। আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রিয় নবী (সা.)-এর শান-মান জানার-বোঝার-আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসের দৃষ্টিতে ঈদে মিলাদুন্নবীর গুরুত্ব ও তাৎপর্য।

 

খন্দকার আবু সুফিয়ান

দাড়িয়ে মিলাদ পড়া, নবী সঃ এর আগমনে  আনন্দ মিছিল করা, ঈদ কয়টি, সাহাবীদের মিলাদুন্নবী পালনসহ বিস্তারিত দলীল দেওয়া হয়েছে এই লেখায়-

بسم الله الرحمن الرحيم -الحمد لله رب العالمين – والصلوة والسلام على اشرف الانبياء والمرسلين- وعلى اله واصحابه اجمعين-
এটি সত্য যে ঈদে মীলাদুন্নবী ﷺ -এর সময় শয়তান ও তার সহযোগীরা ছাড়া সবাই দিনটিকে উদযাপন করেন; কেননা, শয়তান চার বার উচ্চস্বরে কেঁদেছিল –
★১-প্রথমবার যখনআল্লাহতা’লা তাকে অভিশপ্ত আখ্যা দেন;
★২-দ্বিতীয়বার যখন তাকে বেহেশ্ত থেকে বের করে দেয়া হয়;
★৩-তৃতীয়বার যখন মহানবী ﷺ -এর বেলাদত তথা ধরাধামে শুভাগমন হয়;
★৪-এবং চতুর্থবার যখনসূরা ফাতেহা নাযেল তথা অবতীর্ণ হয়।
দলীল: [ইবনে কাসীর কৃতঃআল-বেদায়া ওয়ান্ নেহায়া, ২য় খণ্ড, ১৬৬ পৃষ্ঠা]।

(১)=== পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে মীলাদ ও ক্বিয়াম-

নামাযের মধ্যে আল্লাহর জন্য ক্বিয়াম(দাঁড়ানো) করা ফরয এবং মীলাদ মাহফিলে নবী করীমের সম্মানে ক্বিয়াম করা মুস্তাহাব। মিলাদ শরীফে যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র বেলাদত বা দুনিয়াতে শুভ পদার্পণের বর্ণনা করা হয়, তখন দাঁড়িয়ে নবী করীমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা মুস্তাহাব। ক্বিয়াম মুস্তাহাব বা সুন্নাত হওয়ার ব্যাপারে পর্যাপ্ত দলীল ক্বোরআন, সুন্নাহ্ ও মুজতাহিদগণের ফাত্ওয়াগ্রন্থাবলীতে পাওয়া যায়। অনেক ফাতওয়া ক্বিয়ামের পক্ষে লেখা হয়েছে। নবীর দুশমন ইবনে তাইমিয়া ও তার অনুসারীরাই কেবল ক্বিয়ামের বিরোধিতা করে থাকে এবং ক্বোরআন-সুন্নাহর অপব্যাখ্যা করে খোঁড়া যুক্তিপ্রমাণ পেশ করার অপপ্রয়াস চালায়।

♦ যেমন- সূরা আলে ইমরানের ৮১-৮২ আয়াতের বর্ণনা ও তাফসীর অনুযায়ী আল্লাহ পাক স্বয়ং সম্মানিত নবীগণকে নিয়ে রোযে আযলে মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়ামের আয়োজন করেছিলেন। সেদিন সমস্ত সম্মানিত নবী ও রসূলকে একত্রিত করে (সম্মেলন করে) ওই সম্মেলনেই আল্লাহ্ পাক আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর দুনিয়াতে শুভাগমন করার কথা ঘোষণা করেন এবং তাঁদের নুবূয়তের ঘোষণাও করেন ওই সময়েই। আম্বিয়া-ই কেরাম আল্লাহর দরবারে সেদিন ক্বিয়াম করে নবী করীমের আগমন বার্তা শুনেন এবং তাঁকে বরণ করে নেয়ার অঙ্গীকার করেন। আল্লাহ্ তা‘আলা বারবার তাদেরকে অঙ্গীকার করান এবং নবী করীমের আগমনের সাথে সাথে তাঁদের শরীয়তের বিলুপ্তির কথাও ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, সেদিনের মীলাদুন্নবীর ঘোষণা ও বর্ণনাকারী ছিলেন স্বয়ং আল্লাহ্ তা‘আলা। তিনি মাহফিল করেছিলেন নবীগণকে নিয়ে। নবীগণ আল্লাহর দরবারে মীলাদ মাহফিলে দণ্ডায়মান অবস্থায় নবী করীমের শুভাগমনের সুসংবাদ শ্রবণ করেন এবং তাঁকে বরণ করে নেয়ার অঙ্গীকার করেন।

সূরা আলে ইমরানের ৮১-৮২ আয়াতে চারটি বিষয়েরই উল্লেখ আছে চারভাবে। যথা- ১. ‘ইবারাতুন্ নাস’ দ্বারা অঙ্গীকার, ২. ‘দালালাতুন্ নাস’ দ্বারা মাহফিল, ৩. ‘ইশারাতুন নাস’ দ্বারা মীলাদ মাহফিল এবং ৪. ‘ইক্বতিদ্বাউন নাস’ দ্বারা ক্বিয়াম। উসূলে ফিক্বাহ্-এর কিতাব ‘নুরুল আনওয়ার’-এ চার প্রকারের নাসের কথা উল্লেখ করেছেন মোল্লা জীবন রহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি।

সূরা আল-ই ইমরানের ৮১-৮২ নং আয়াত-

وَاِذْ اَخَذَ اللّٰہُ مِیْثَاقَ النَّبِیّیْنَ لَمَآ اٰتَیْتُکُمْ مِّنْ کِتٰبٍ وَّ حِکْمَۃٍ ثُمَّ جَآءَ کُمْ رَسُوْلٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَکُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِہٖ وَلَتَنْصُرُنَّہٗ ط قَالَ اَأَقْرَرْتُمْ وَاَخَذْتُمْ عَلٰی ذٰلِکُمْ اِصْرِیْ ط قَالُوْا اَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْہَدُوْا وَاَنَا مَعَکُمْ مِّنَ الشَّاہِدِیْنَ o فَمَنْ تَوَلّٰی بَعْدَ ذٰلِکَ فَاُوْلٰءِکَ ہُمُ الْفَسِقُوْنَ o

তরজমা: হে প্রিয় হাবীব! আপনি স্মরণ করুন ওই দিনের ঘটনা (রোজে আযল) যখন আল্লাহ্ তা‘আলা নবীগণের নিকট থেকে এ মর্মে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, ‘যখন আমি তোমাদেরকে কিতাব এবং হিকমত (অর্থাৎ নুবূয়ত) দান করবো, অতঃপর তোমাদের কাছে এক মহান রাসূলের শুভাগমন হবে, যিনি তোমাদের প্রত্যেকের নুবূয়তের সত্যায়ন করবেন, তখন তোমরা সকলে অবশ্যই তাঁর উপর ঈমান আনবে এবং সর্বোতভাবে তাঁকে সাহায্য-সহযোগিতা করবে। তোমরা কি এ কথা স্বীকার করলে? এবং এ অঙ্গীকারে কি অটল থাকবে? তাঁরা (নবীগণ) বললেন, ‘হ্যাঁ, আমরা স্বীকার করলাম।’ আল্লাহ্ বললেন, ‘তোমরা পরস্পর সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম।’ এরপর যে কেউ পিছপা হয়ে যাবে, তারা হবে ফাসিক্ব তথা কাফির।’ [সূরা আল-ই ইমরান, আয়াত ৮১-৮২]

এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয়গুলো হলোঃ ১. আয়াতের ‘ইবারাতুন নাস’ (বচনগুলো) দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, অন্যান্য নবীগণ থেকে আল্লাহ্ তা‘আলা অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন। ২. ‘দালালাতুন্ নাস’ (মর্মার্থ) দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, সমস্ত নবী সেদিন মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, ৩. ‘ইশারাতুন নাস’ (ইঙ্গিত) দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, মূলতঃ এ মাহফিল ছিলো নবী করীমের শুভাগমন বা মীলাদ শরীফের সু-সংবাদের মাহফিল এবং ৪. ইক্বতিদ্বাউন নাস (দলীলের দাবী) দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ওই সময় নবীগণ ক্বিয়ামরত অবস্থায় ছিলেন। কারণ ওই দরবারে বসার কোন অবকাশ নেই এবং পরিবেশটিও ছিল আদবের। সুতরাং মীলাদ ও ক্বিয়াম অত্র আয়াত দু’টি দ্বারাই প্রমাণিত হচ্ছে। শুধু ‘ইবারত মান্য করে অন্য তিনটি অমান্য করা বৈধ নয়। কারণ চার প্রকারেই ক্বোরআন থেকে হুকুম-আহকাম বের হয়; শুধু ‘ইবারত দ্বারা আসল জিনিস প্রমাণ করা যায় না। এর উদাহরণ হলো- আল্লাহ্ তা‘আলা হযরত আদম আলায়হিস্ সালাম ও বিবি হাওয়াকে শুধু গাছের নিকটবর্তী হতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু দালালাত ও ইশারা দ্বারা হযরত আদম আলায়হিস্ সালাম বুঝে নিয়েছিলেন যে, মূলতঃ ফল খেতেই নিষেধ করা হয়েছে। নিষেধের দাবীও ছিলো তাই।

♦তাছাড়া, হুযূর পুরনূর নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের চার হাজার বছর পূর্বে হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস্ সালাম মীলাদ ও ক্বিয়াম করেছেন মর্মে প্রমাণ মিলেঃ

যেমন, ইবনে কাসীর ‘আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া’ গ্রন্থের ২য় খণ্ড ২৬১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের চার হাজার বছর পূর্বে মীলাদ ও ক্বিয়াম করেছিলেন হযরত ইবরাহীম আলায়হিস্ সালাম ও হযরত ইসমাঈল আলায়হিস্ সালাম। তাঁরা পিতা-পুত্র দু’জন মিলে এক মাসে খানা-ই কা’বা তৈরী করে উদ্বোধন করার সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর মীলাদ সংক্রান্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন দাঁড়িয়ে। তা হচ্ছে ক্বোরআন মজীদের সূরা বাক্বারার ১২৯নং আয়াতঃ

رَبَّنَا وَابْعَثْ فِیْہِمْ رَسُوْلاً مِّنْہُمْ یَتْلُوْ عَلَیْہِمْ اٰیٰتِکَ وَیُعَلِّمُہُمُ الْکِتٰبَ وَالْحِکْمَۃَ وَیُزَکِّیْہِمْ ط اِنَّکَ اَنْتَ الْعَزِیْزُ الْحَکِیْمُ o

অর্থাৎ (হযরত ইব্রাহীম বললেন,) ‘হে আমাদের রব! তুমি এ আরব দেশে আমার পুত্র ইসমাঈলের বংশে তোমার প্রতিশ্রুত ওই মহান রাসূলকে প্রেরণ করো, যিনি তোমার আয়াতসমূহ তাদেরকে পাঠ করে শুনাবেন, তাদেরকে কিতাব ও সুন্নাহর বিশুদ্ধ জ্ঞান শিক্ষা দেবেন এবং বাহ্যিক ও আত্মিক অপবিত্রতা থেকে তাদেরকে পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই তুমি মহা প্রতাপশালী, মহা জ্ঞানের আধিকারী।’ [সূরা বাক্বারা, আয়াত- ১২৯]

ইবনে কাসীর এ আয়াতের পটভূমি বা শানে নুযূল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, এ দো‘আ-অনুষ্ঠান ছিলো কা’বা ঘরের উদ্বোধন উপলক্ষে মীলাদ ও ক্বিয়ামের মাধ্যমে। এ অনুষ্ঠানে পিতা-পুত্র উভয়ইে ক্বিয়ামরত অবস্থায় ছিলেন। ‘আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া’ গ্রন্থের ইবারত হচ্ছে-دَعَا اِبْرَاہِیْمُ عَلَیْہِ السَّلَامُ وَہُوَ قَاءِمٌ

অর্থাৎ হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস্ সালাম দো‘আ করেছেন এমতাবস্থায় যে, তিনি দণ্ডায়মান ছিলেন।

[আল বেদায়া ওয়ান্ নেহায়া: ২য় খণ্ড, পৃ. ২৬১ঃ হযরত ইবরাহীম আলায়হিস্ সালাম শীর্ষক অধ্যায়]

ইবনে কাসীর ক্বিয়াম বিরোধীদের নিকট অতি শ্রদ্ধেয়। কেননা, তিনি ছিলেন ইবনে তাইমিয়ার শাগরিদ, তবে কিছুটা উদারপন্থী। তিনিও মীলাদ-ক্বিয়ামের পক্ষে উক্ত মন্তব্য করেছেন। তাই ক্বিয়াম বিরোধী লোকেরা তাঁর উদ্ধৃতি গ্রহণ করতে পারেন।

এতে একটি বিষয় প্রমাণিত হলো যে, কোন শুভ কাজের শুরুতে বা সমাপ্তিতে বিশেষতঃ উদ্বোধনীতে মীলাদ ও ক্বিয়াম করা হযরত ইবরাহীম আলায়হিস্ সালামেরই সুন্নাত। তিনি আমাদের ধর্মীয় পিতা। তাঁর অনেক সুন্নাতই ইসলামে বহাল রাখা হয়েছে। যেমন- দাঁড়ি রাখা, গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, ওযূতে নাকে পানি দেওয়া, গরগরা করা এবং খত্না করা ইত্যাদি।

♦হুযূর করীমের শুভ জন্মের ৫৭০ বছর পূর্বে হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম মীলাদ ও ক্বিয়াম করেছিলেন। যেমন-হুযূর করীমের শুভাগমনের বর্ণনা করেছিলেন হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম। ওই সময়ে তিনি ও তাঁর উম্মত হাওয়ারী সকলেই তা’যীমী ক্বিয়াম করেছিলেন। এ ঘটনা অর্থাৎ মীলাদ-ক্বিয়ামের অনুষ্ঠানটি হয়েছিলো নবী করীমের শুভাগমনের ৫৭০ বছর পূর্বে। সুতরাং মীলাদ-ক্বিয়ামের নিয়ম নবী করীমের পবিত্র জন্মের পরে নয়, বরং ৫৭০ বছর পূর্বে হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালামের যুগে। এরও সাড়ে তিন হাজার বছর পূর্বে মীলাদ-ক্বিয়ামের প্রমাণ পাওয়া যায় হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস্ সালামের যুগে। সুতরাং মীলাদ-ক্বিয়াম বিদ্‘আত নয় বরং প্রাচীন সুন্নাত। তাও আবার সাধারণ মানুষের সুন্নাত নয়, বরং নবীগণের সুন্নাত। হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম-এর ক্বিয়ামের প্রমাণ ইবনে কাসীর কর্তৃক লিখিত ১৬ খণ্ডে ‘আল বেদায়া ওয়ান্ নেহায়া’ গ্রন্থের ২য় খণ্ড ২৬৩ পৃষ্ঠায় হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম শীর্ষক অধ্যায়ে লিখিত আছে। ইবনে কাসীর প্রথমে হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম কর্তৃক নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর শুভাগমন বা মীলাদ শরীফের বর্ণনা ক্বোরআন মজিদ থেকে এভাবে উদ্ধৃত করেছেন-

وَاِذْ قَالَ عِیْسَی بْنُ مَرْیَمَ یٰبَنِی اِسْرَآءِیْلَ اِنِّیْ رَسُوْلُ اللّٰہِ اِلَیْکُمْ مُّصَدِّقًا لِّمَا بَیْنَ یَدَیَّ مِنَ التَّوْرَاۃِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُوْلٍ یَّأْتِیْ مِنْ بَعْدِی اسْمُہٗ اَحْمَدَ ط

অর্থাৎ হে হাবীব! স্মরণ করুন। যখন ঈসা আলায়হিস্ সালাম এভাবে ভাষণ দিয়েছিলেন, ‘‘হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। আমি আমার পূর্ববর্তী তাওরাত কিতাবের সত্যায়ন করছি এবং আমার পরে একজন মহান রাসূলের শুভাগমনের সুসংবাদ দিচ্ছি, যাঁর পবিত্র নাম হবে ‘আহমদ’। [সূরা আস্সফ, আয়াত-৬]

হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালামের উক্ত ঘোষণার পরিবেশ বা অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে ইবনে কাসীর তাঁর কিতাবে নিম্নোক্ত বক্তব্য পেশ করেছেন-
وَخَاطَبَ عِیْسٰی عَلَیْہِ السَّلاَمُ اُمَّتَہُ الْحَوَارِیِّیْنَ قَآءِمًا

অর্থাৎ হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম তাঁর উম্মত হাওয়ারীকে সম্বোধন করে মীলাদুন্নবীর যে বয়ান দিয়েছিলেন, তা ছিলো ক্বিয়ামরত অবস্থায়।

এতে পরিস্কার হয়ে গেলো যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর তাওয়াল্লুদ শরীফের বর্ণনাকালীন সময়ে ক্বিয়াম করা হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালামের সুন্নাত। ওই সময়ে শুধু শুভাগমনের সংবাদ ছিল যার সম্মানে তিনি ক্বিয়াম করেছিলেন। বুঝা গেলো যে, নবী করীমের বাহ্যিক উপস্থিতি ক্বিয়ামের জন্য পূর্বশর্ত নয়। যারা বলে, ‘যার জন্য ক্বিয়াম করছেন, তিনি কি সশরীরে হাযির হয়েছেন?’ তাদের এরূপ তর্ক করা নিরর্থক এবং নবী-দুশমনীর পরিচায়ক। ক্বিয়াম বিরোধীদের ইমাম ইবনে কাসীর যেখানে ক্বিয়ামের সমর্থক এবং ৫৭০ বছর পূর্বেকার ক্বিয়ামের ইতিহাস বর্ণনাকারী ও ক্বিয়ামের দলীল উপস্থাপক, সেখানে তাঁর এ উক্তির মূল্যায়ন করা উচিৎ। তিনি ৭৭৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন। নজদী-ওহাবী ও তার অনুসারী ওহাবী সম্প্রদায় ওই যুগকে সম্মান করে এবং ওই যুগের মনীষীদের মতামতকেও গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আশা করি, তারা এ মাসআলায়ও এর ব্যতিক্রম করবে না।

যে কোন উত্তম কাজে দাঁড়ানোর নির্দেশ পালন করার বিধান রয়েছে পবিত্র ক্বোরআনে-
আল্লাহ্ তা‘আলা ক্বোরআন মজীদের ২৮ নং পারাতে সূরা মুজাদালায় এরশাদ করেন

یَآاَیُّہَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْآ اِذَا قِیْلَ لَکُمْ تَفَسَّحُوْا فِی الْمَجَالِسِ فَافْسَحُوْا یَفْسَحِ اللّٰہُ لَکُمْ ج وَاِذَا قِیْلَ انْشُزُوْا فَانْشُزُوْا

অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! যখন তোমাদেরকে বলা হয়, ‘মজলিসের মধ্যে জায়গা প্রশস্ত করে দাও, তখন তোমরা জায়গা প্রশস্ত করে দাও। ফলে আল্লাহ্ তোমাদের জন্য প্রশস্ত করে দেবেন। আর যখন বলা হয়, ‘দাঁড়িয়ে যাও, তখন দাঁড়িয়ে যাও।’
[সূরা মুজাদালাহ্ঃ আয়াত-১১]

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতি রহমাতুল্লাহি আলায়হি তাফসীরে জালালাইনে বলেন, যখন তোমাদেরকে নবী করীমের মজলিসে অথবা অন্য কোন জিকিরের মজলিসে জায়গা প্রশস্ত করার জন্য বলা হয়, যাতে আগত লোকেরাও তোমাদের সাথে বসতে পারে, তাহলে তোমরা তাদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়ে আরো প্রশস্ত করে দাও। আর যদি বলা হয়, ‘নামায বা অন্য কোন নেক কাজের জন্য দাঁড়িয়ে যাও’, তাহলে তৎক্ষণাৎ দাঁড়িয়ে যাবে।

==হাদিসের আলোকে ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ)==

♦কাফিরদের কোন ইবাদতই কাজে আসে না অথচ মিলাদুন্নবী (ﷺ) এর খুশিতে আবু লাহাব তার বাদীকে আযাদ করায় পুরষ্কৃত হয়। এ সম্পর্কে সহিহ হাদিস বর্ণিত আছে।

হযরত উরওয়া ইবনে জুবায়ের (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
ﻗﺎﻝ ﻋﺮﻭﺓ ﻭﺛﻮﻳﺒﺔ ﻣﻮﻻﺓ ﻻﺑﻰ ﻟﻬﺐ ﻛﺎﻥ ﺍﺑﻮﻟﻬﺐ ﺍﻋﺘﻘﻬﺎ ﻓﺎﺭﺿﻌﺖ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻠﻤﺎ ﻣﺎﺕﺍﺑﻮﻟﻬﺐ ﺍﺭﻳﻪ ﺑﻌﺾ ﺍﻫﻠﻪ ﺑﺸﺮ ﺣﻴﺒﺔ ﻗﺎﻝ ﻟﻪ ﻣﺎﺫﺍ ﻟﻘﻴﺖ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻮﻟﻬﺐ ﻟﻢ ﺍﻟﻖ ﺑﻌﺪﻛﻢ ﻏﻴﺮ ﺍﻧﻰ ﺳﻘﻴﺖ ﻓﻰ ﻫﺬﻩ ﺑﻌﺘﺎﻗﺘﻰ ﺛﻮﻳﺒﺔ ০
হযরত সুহাইবাহ (রাঃ) আবু লাহাবের দাসী ছিল। আবু লাহাব ওনার কাছে থেকে [রাসুল ﷺ] এর বেলাদাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত হয়ে কৃতদাসী সুহাইবাহ (রাঃ) কে আযাদ করে দিয়েছিল।
যখন আবু লাহাব মৃত্যুবরণ করেছিল তখন (এক বছর পর) তার ঘনিষ্ঠদের কেউ [হযরত আব্বাস রা.] তাকে স্বপ্নে শোচনীয় অবস্থায় দেখে তার উদ্দেশ্যে বলেন,
“তোমার অবস্থা কেমন?”
– আবু লাহাব উত্তরে বলল, “তোমাদের নিকট থেকে আসার পর আমি কোন প্রকার শান্তি পাইনি, কেবল যে দিন [রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বেলাদতের খুশিতে] দাসী সুহাইবাকে আযাদ করে দিয়েছিলাম, ঐ কারনে প্রতি সোমবার আংগুল দুটির মধ্যে কিছু পানি জমে, আমি ঐ পানি পান করে থাকি ঐদিন (জাহান্নামের কঠিন) আযাবকে হাল্কাবোধ করে থাকি।”

উক্ত হাদিস শরীফের আলোকে :

👉 ইমাম ইবনুজ জাওযী (রহঃ) বলেন-
ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﺠﺰﺭﻯ ﻓﺎﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻫﺬﺍ ﺍﺑﻮﺍﻟﻬﺐ ﺍﻟﻜﺎﻓﺮ ﺍﻟﺬﻯ ﻧﺰﻝ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﺑﺬﻣﻪ ﺟﻮﺯﻯ ﻓﻰ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﺑﻔﺮﺣﻪ ﻟﻴﻠﺔ ﻣﻮﻟﺪ
ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﻪ ﻓﻤﺎ ﺣﺎﻝ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﺍﻟﻤﺆﺣﺪ ﻣﻦ ﺍﻣﺘﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺍﻟﺬﻯ ﻳﺴﺮ ﺑﻤﻮﻟﺪﻩﻭﻳﺒﺬﻝﻣﺎﺗﺼﻞ ﺍﻟﻴﻪ ﻗﺪﺭﺗﻪ ﻓﻰ ﻣﺤﺒﺘﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟﻌﻤﺮﻯ ﺍﻧﻤﺎ ﻳﻜﻮﻥ ﺟﺰﺍﺅﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻜﺮﻳﻢ ﺍﻥ ﻳﺪﺧﻠﻪﺑﻔﻀﻠﻪ ﺍﻟﻌﻤﻴﻢ ﺟﻨﺎﺕ ﺍﻟﻨﻌﻴﻢ ০ ( ﻣﻮﺍﻫﺐ ﺍﻟﻠﺪﻧﻴﻪ ﺝ ১ ০ ﺹ২৭ ﺯﺭﻗﺎﻧﻰ ﺝ ০১ ﺹ১৩৯ )
“যে কাফের আবু লাহাবের বিরোদ্ধে আল-কুরআন নাজিল হয়েছে এবং যার জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত, সে আবু লাহাবও যদি হুজুর (ﷺ) এর মিলাদুন্নবী উপলক্ষে খুশি হওয়াতে সুফল পায়, তাহলে তাঁর উম্মতের মধ্যে যে একত্ববাদী মুসলমান এবং তাঁর মিলাদুন্নবীতে (ﷺ) আনন্দিত হয় তাঁর মহব্বতে যথাসাধ্য দান করে,
তার অবস্থা কী হবে? আমি কসম করে বলছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ হতে তার বিনিময় এ হবে যে, তিনি সর্বব্যাপী অনুগ্রহ দ্বারা তাকে জান্নাতুন নাঈমে প্রবেশ করাবেন।

👉 বিশ্ব বরণ্য ফকিহ্ ও শারিহে বােখারী, ইমাম কাস্তাল্লানী (রহঃ) তদীয় কিতাবে বলেন :
“মহান আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে রহমত দান করুক যিনি রাসূল (ﷺ) মিলাদের মােবারক রজনীকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।”
[ইমাম কাস্তাল্লানী: মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া, ১ম খন্ড, ১৪৮ পৃঃ]

👉 ইমাম আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহঃ) বলেন,
ﺟﻨﺎﻧﺠﻪ ﺩﺭ ﺣﺪﻳﺚ ﺍﻣﺪﻩ ﺍﺳﺖ ﻭﺩﺭﻳﻨﺠﺎ ﺳﻨﺪﺍﺳﺖ ﻣﺮﺍﻫﻞ ﻣﻮﺍﻟﻴﺪ ﺭﺍﻛﻪ ﺩﺭﺷﺐ ﻣﻴﻼﺩ ﺍﻧﺤﻀﺮﺕ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪﻭﺳﻠﻢ ﺳﺮﻭﺭ ﻛﻨﻨﺪ ﻭﺑﺬﻝ ﺍﻣﻮﺍﻝ ﻧﻤﺎﻳﻨﺪ ﻳﻌﻨﻰ ﺍﺑﻮﻟﻬﺐ ﻛﻪ ﻛﺎﻓﺮ ﺑﻮﺩ ﻭﻗﺮﺍﻥ ﺑﻤﺬﻣﺖ ﻭﻯ ﻧﺎﺯﻝ ﺷﺪﻩ ﺟﻮﻥﺑﺴﺮﻭﺭ ﺑﻤﻴﻼﺩ ﺍﻧﺤﻀﺮﺕ ﻭ ﺑﺬﻝ ﺷﻴﺮ ﺟﺎﺭﻳﻪ ﻭﻯ ﺑﺠﻬﺔ ﺍﻧﺤﻀﺮﺕ ﺟﺰﺍ ﺩﺍﺩﻩ ﺷﺪ ﺗﺎﺣﺎﻝ ﻣﺴﻠﻤﺎﻥ ﻛﻪ ﻣﻤﻠﻮﺳﺖ ﺑﻤﺤﺒﺖ ﻭﺳﺮﻭﺭ ﻭﺑﺬﻝ ﻣﺎﻝ ﺩﺭ ﻃﺮﻳﻖﻭﻯﺟﻪ ﺑﺎﺷﺪ ﻭﻟﻴﻜﻦ ﺑﺎﻳﺪﻛﻪ ﺍﺯ ﺑﺪﻋﺘﻬﺎ ﻛﻪ ﻋﻮﺍﻡ ﺍﺣﺪﺍﺙ ﻛﺮﺩﻩ ﺍﻧﺪﺍﺯ ﺗﻐﻨﻰ ﻭﺍﻻﺕ ﻣﺤﺮﻣﻪ ﻭ ﻣﻨﻜﺮﺍﺕ ﺧﺎﻟﻰﺑﺎﺷﺪ ০ ( ﻣﺪﺍﺭﺝ ﺍﻟﻨﺒﻮﺕ ﺝ ২ ০ ﺹ২৬ )
“উক্ত ঘটনা মিলাদ শরীফ পাঠকারীদের জন্য একটি বৃহত্তম দলিল, যারা মিলাদুন্নবীর রাতে আনন্দ উৎসব ও দান খয়ারাত করে থাকেন। আবু লাহাব কাফের এবং তার বিরোদ্ধে কোরআন নাজিল হওয়া সত্বেও নবী পাক (ﷺ) জন্মের সুসংবাদে আনন্দিত হয়ে নূর নবীকে দুধপান করানোর নিমিত্তে বাদী [হযরত সুয়াইবাহ (রাঃ) কে] আজাদ করে দেয়, সে কারণে তাকে পুরস্কার স্বরূপ প্রতি সোমবারে তার আজাব নিরসন করা হল। এখন যারা ঈমানদার নবীপ্রেমিক আনন্দ উৎসব ও দান খয়রাত করেন তাঁদের পুরস্কার কীরূপ হবে? অবশ্য সে মিলাদকে শরীফে গান ও হারাম বাদ্যযন্ত্র হতে পবিত্র রাখতে হবে।
[ইমাম আব্দুল হক দেহলভী (রহ) : মাদারিজুন নবুয়ত ২য় খণ্ড ২৬ পৃঃ]

👉 বিখ্যাত ঐতিহাসিক আল্লামা ইয়াকুব (রহ) উনার কিতাবে লিখেন-

قال النبي صلي الله عليه و سلم رايت ابا لهب في النار يصيح العطش العطش فيسقي من الماء في نقر ابهامه فقلت بم هذا فقال بعتقي ثويبة لانها ارضعتك

অর্থ : রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি আবু লাহাবকে দেখেছি জাহান্নামের আগুনে নিমজ্জিত অবস্থায় চিৎকার করে বলছে, পানি দাও ! পানি দাও !
অতঃপর তার বৃদ্ধাঙুলীর গিরা দিয়ে পানি পান করানো হচ্ছে। আমি বললাম, কি কারনে এ পানি পাচ্ছো ? আবু লাহাব বললো, আপনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে হযরত সুয়াইবা (রদ্বিয়াল্লাহু আনহা) উনাকে মুক্ত করার কারনে এই ফায়দা পাচ্ছি ! কেননা তিনি আপনাকে দুগ্ধ মুবারক পান করিয়েছেন !”
[তারীখে ইয়াকুবী ১ম খন্ড ৩৬২ পৃষ্ঠা]

👉 ইমাম সুহাইলী (রহ) লিখেন :

وذكر السهيلي ان العباس قال لما مات ابو لهب رايته في منامي بعد حول في شر حال فقال ما لقيت بعد كم راحة الا ان العذاب يخفف عني في كل يوم اثنين وذلك ان النبي صلي الله عليه و سلم ولد يوم الاثنين وكانت ثويبة بشرت ابا لهب بمولده فاعتقها

অর্থ: হযরত ইমাম সুহাইলী (রহ) উল্লেখ করেন যে, হযরত আব্বাস (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আবু লাহাবের মৃত্যুর এক বছর পর তাকে আমি স্বপ্নে দেখি যে, সে অত্যন্ত দুরবস্থায় রয়েছে ! সে বললো, (হে ভাই হযরত আব্বস রা.) আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার পর আমি কোন শান্তির মুখ দেখি নাই। তবে হ্যাঁ, প্রতি সোমবার যখন আগমন করে তখন আমার থেকে সমস্ত আযাব লাঘব করা হয়, আমি শান্তিতে থাকি। হযরত আব্বাস (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তিনি বলেন,আবু লাহাবের এ আযাব লাঘব হয়ে শান্তিতে থাকার কারন হচ্ছে, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক (ﷺ) এর বিলাদত শরীফ এর দিন ছিলো সোমবার ! সেই সোমবারে হাবীবুল্লাহ (ﷺ) এর বিলাদতের সুসংবাদ নিয়ে আবু লাহাবের বাঁদী সুয়াইবা (রা) তিনি আবু লাহাবকে খবরটি জানালেন তখন আবু লাহাব মিলাদুন্নবীর সংবাদ শুনে খুশি হয়ে হযরত সুয়াইবা (রদ্বিয়াল্লাহু আনহা) উনাকে তৎক্ষণাৎ আযাদ করে দেয় !”

(২)===জশনে জুলূছ(আনন্দ মিছিল) ঈদে মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম-

♦আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ ফরমান-
قُلْ بِفَضْلِ اللّهِ وَبِرَحْمَتِه فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُواْ هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ -(سورة يونس: ايت ٥٨)
তরজমা: আপনি বলুন, ‘আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁরই দয়া, সেটারই উপর তাদের আনন্দ প্রকাশ করা উচিৎ। তা তাদের সমস্ত ধন-দৌলত অপেক্ষা শ্রেয়।
[সূরা ইয়ূনুস: আয়াত -৫৮: কানযুল ঈমান]

وَاذْكُرُواْ نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاء فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا- (سورة ال عمران: ايت١٠٣)
তরজমা: এবং তোমরা তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ করো যখন তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ছিলো, তিনি তোমাদের অন্তরগুলোতে সম্প্রীতি সৃষ্টি করে দিয়েছেন। সুতরাং তাঁর অনুগ্রহ ক্রমে তোমরা পরস্পর ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেছো।
[সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১০৩, কানযুল ঈমান]

উপরোক্ত আয়াত দু’টি অনুসারে, রহমত ও ফদ্বল মানে হুযূর-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র সত্তা, যা সমস্ত ধন-দৌলত অপেক্ষা উত্তম। আরবের মুশরিকদের মধ্যে যে-ই শত্রুতা ছিলো হুযূর-ই আকরামের শুভাগমনের ফলে তাদের অন্তরগুলোতে ঈমানের নূর উদ্ভাসিত হয়েছে। আর এর বদৌলতে তাদের হৃদয়গুলো শত্রুতার স্থলে ভ্রাতৃত্ব ও ভালবাসার দোলনায় (আধার) পরিণত হয়েছে।
প্রসিদ্ধ বর্ণনানুসারে, আক্বা-ই দু’জাহানের বেলাদত শরীফ (পবিত্র জন্ম) ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফে হয়েছে।
উপরোক্ত আয়াত দু’টির আলোকে একথা মধ্যাহ্ন সূর্যের চেয়েও বেশী স্পষ্ট হয়েছে যে, হুযূর-ই আকরামের পবিত্র সত্তা সমগ্র দুনিয়ার জন্য অনুগ্রহও এবং রহমতও। আর যেসব হৃদয়ে পারস্পরিক শত্রুতা ছিলো, হুযূর-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা ওয়াসাল্লাম দুনিয়ায় তাশরীফ এনে ওই সব শত্রুতাকে গভীর ভালবাসায় বদলে দিয়েছেন। ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হুযূর-ই আকরামের বেলাদত শরীফ ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফে হয়েছে। এ বেলাদত শরীফের খুশীতে বৃক্ষ-পাথর, ময়দান-পাহাড়, পশু-পাখি, খানা-ই কা’বা এমনকি পাথরের মূর্তিগুলোও সাজদায় পড়ে ‘আল্লাহু আহাদ’ (আল্লাহ্ এক) বলে জপনা করতে আরম্ভ করেছিলো। পশুগুলোও এর খুশীতে পরস্পর রসূলে আকরামের মীলাদে পাকের সুসংবাদ শুনাতে লাগলো। সুতরাং মুসলামানদের উপর ওয়াজিব (অপরিহার্য) হচ্ছে হুযূর-ই আনওয়ারের বেলাদতে পাকের শোকরিয়ায় খুশী উদযাপন করা।

♦মক্কা বিজয়ের জশনে জুলূস-

ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় মুসলমানদের জন্য এক মহান নিয়ামত। শির্ক ও কুফর থেকে ভূ-পৃষ্ঠকে বিশেষত: কা’বা গৃহকে পবিত্র করার প্রয়োজনীয়তা প্রকটভাবে দেখা দিয়েছিলো। সুতরাং আল্লাহ্ তা’আলার নির্দেশে ৮ম হিজরীতে হুযূর সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মক্কা মুকাররমার দিকে অভিযান পরিচালনা করেন এবং এ অভিযানে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় সম্পন্ন হয়েছিলো। হুযূর-ই আকরাম মক্কা বিজয়ের অভিযানে, মক্কা অভিমুখে কয়েকটা জুলূস আকারে সৈন্য বাহিনীকে সাজিয়েছিলেনঃ
১. সর্বপ্রথম আল্লাহর তরবারি হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদকে রওনা করেন, যিনি বনূ সুলায়মের হাজারো বীর পুরুষকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। এ বাহিনীর মধ্যে দু’টি পতাকা উড্ডীন ছিলো।
২. হযরত খালিদের পর পর হযরত যোবাইর ইবনুল আওয়াম রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু পাঁচশ পলোয়ান বীর-যোদ্ধাকে সাথে নিয়ে রওনা হন। তাঁদের ছিলো কালো পতাকা। তাঁরাও না’রা-ই তাকবীর-এর ধ্বনি দিতে দিতে এগিয়ে যান।
৩. এরপর বনী গিফারের তিনশ’ বীর পুরুষ বের হন। এ সেনাদলের পতাকা হযরত আবূ যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর হাতে ছিলো। তাঁরাও তাকবীরের ধ্বনি দিতে দিতে অগ্রসর হন।
৪. ইত্যবসরে বনূ কা’ব ইবনে ওমর-এর পাঁচশ’ লোক এসে পৌঁছেন। এ জুলূসরূপী সৈন্যদলের পতাকা বিশর ইবনে সুফিয়ানের হাতে ছিলো।
৫. এরপর ‘মুযায়নাহ্’ গোত্রের হাজার লোকের দলটি (জুলূস আকারে) অগ্রসর হয়। তাঁদের মধ্যে তিনটি পতাকা উড্ডীন ছিলো।
৬. এরপর জুহায়নাহ্ গোত্রের আটশ’ বীর বাহাদুর বের হন। তাঁদের চারটি পতাকা ছিলো।
৭. তাঁদের পেছনে আশজা’ গোত্রের তিনশ’ লোকের জুলূসরূপী দল অগ্রসর হয়েছিলো।
৮. এমনকি হুযূর-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বিশেষ সৈন্য বাহিনী আত্মপ্রকাশ করলেন। হুযূর-ই আকরাম তাঁর নাক্বাহ্ বা উটনীর পিঠে আরোহনরত ছিলেন। এ বাহিনীতে প্রায় পাঁচ হাজার সম্মানিত মুহাজির ও অভিজাত আনসারী অস্ত্র-সজ্জিত ছিলেন। তাঁরাও গগন বিদারী না’রা-ই তাকবীর সহকারে এগুচ্ছিলেন।
বলাবাহুল্য, হুযূর-ই আকরামের নূরানী পরিচালনায় এ অভিযানে মক্কা মুকাররামার বিজয় সুসম্পন্ন হয়েছিলো।

♦বিদায় হজ্জের জশনে জুলূস-

বিশুদ্ধ অভিমতানুসারে একলক্ষ চব্বিশ হাজার সাহাবা-ই কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুম-এর এক আযীমুশশান জুলূস সহকারে ঐতিহাসিক বিদায় হজ্ব সুসম্পন্ন হয়েছিলো। এ সফরে হুযূর-ই করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এ বিশাল জমা‘আত মদীনা মুনাওয়ারাহ্ থেকে মক্কা মুকাররামার দিকে রওনা হয়েছিলেন। তাঁরা সবাই হুযূর-ই আকরামের সাথে হজ্বের যাবতীয় বিধান পালন করেন। উল্লেখ্য, বায়তুল্লাহ্ শরীফের হজ্ব ইসলামের রুকন ও এক বড় ইবাদত।

♦খাতূনে জান্নাত ফাতিমা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহার জশনে জুলূস-

ক্বিয়ামতের দিনে খাতূনে জান্নাত রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহার আখেরী জশনে জুলূস বের হবে। রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয় কন্যা সাইয়্যেদাতুল মাস্তূরাত হযরত ফাতিমা যাহরার মহা মর্যাদা প্রকাশের নিমিত্তে আরশে মু‘আল্লার দিক থেকে আহ্বান আসবে- ‘হে মাহশহরবাসীরা(হাশরবাসী)! তোমরা সবাই (এখন) তোমাদের চুক্ষুগুলো বন্ধ করে তোমাদের মাথাগুলো নিচের দিকে ঝুঁকিয়ে নাও। কেননা, খাতূনে জান্নাত জান্নাতের হুরগুলোর দল নিয়ে (পুল) সেরাত পার হবেন। হাফেযুল হাদীস ইবনে হাজার হায়তামী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বর্ণনা করেন-
عَنْ اَبِىْ اَيُّوْبَ اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ نَادى مُنَادٍ مِّنْ بَطَانِ الْعَرْشِ يَا اَهْلَ الْجَمْعِ نَكِّسُوْا رُؤْسَكُمْ وَغُضُّوْا اَبْصَارَكُمْ حَتّى تَمُرَّ فَاطِمَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ عَلَى الصِّرَاطِ ـ فَتَمُرُّ مَعَ سَبْعِيْنَ اَلْفَ جَارِيَةٍ مِّنْ الْحُوْرِ الْعِيْنِ كَمَرِّ الْبَرْق-
অর্থ: হযরত আবূ আইয়ূব রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, হুযূর-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ফরমায়েছেন, ক্বিয়ামত- দিবসে আরশে মু’আল্লাহর দিক থেকে আহ্বান আসবে, ‘হে হাশরের ময়দানে অবস্থানকারীরা! তোমরা তোমাদের মাথাগুলো নিচের দিকে ঝুঁকিয়ে নাও, চোখগুলো বন্ধ রাখো যে পর্যন্ত না খাতূনে জান্নাত ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ সত্তর হাজার জান্নাতী হুর (-এর জশনে জুলূস)কে সাথে নিয়ে বিজলীর মতো (পুল) সেরাত পার হবেন।

♦হিজরতুন্নবীর জশনে জুলূস-

যখন আক্বা-ই দু’আলম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মক্কা মুকাররামাহ্ থেকে মদীনা মুনাওয়ারায় তাশরীফ নিয়ে যান, তখন সম্মানিত আনসারী সাহাবীগণ সশস্ত্র হয়ে তাঁকে জুলূসের(মিছিল) আকারে মদীনা মুনাওয়ারায় নিয়ে গিয়েছিলেন। সুতরাং বোখারী শরীফে উদ্ধৃত হয়েছে-
فَثَارُ الْمُسْلِمُوْنَ اِلَى السَّلَاحِ فَتَلَقَّوْا بِظَهْرِ الْحَرَّةِ
অর্থ: মদীনা মুনাওয়ারার মুসলমানগণ অস্ত্র সজ্জিত হয়ে যাহরে হাররাহ্ নামক স্থানে হুযূর-ই আকরামের সাথে সাক্ষাত করেন। সেখান থেকে জুলূস সহকারে তাঁকে মদীনা তাইয়্যেবায় নিয়ে আসেন।
[বোখারী শরীফ: পৃষ্ঠা- ৫৫৫] বস্তুত: আক্বা-ই দু’জাহান সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর মদীনা তাইয়্যেবায় তাশরীফ আনয়ন করা আনসারের জন্য এক আযীমুশশান নিয়ামাত। এ কারণে তাঁরা এর শোকরিয়া স্বরূপ তাঁকে যাহরে হাররাহ্ নামক স্থান থেকে জুলূস সহকারে মদীনা তাইয়্যেবাহ্য় নিয়ে এসেছিলেন।
পরিশেষে, পবিত্র ক্বোরআনের আয়াত ও হাদীস শরীফগুলোর বর্ণনা থেকে একথা প্রমাণিত হয় যে, জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম শুধু জায়েযই নয়, বরং সমস্ত ইবাদতের মূল। কেননা, হুযূর মোস্তফার পবিত্র সত্তার শুভাগমনের কারণে মুসলমানগণ এক কামিল বরং কামিলতম দ্বীন (ধর্ম) পেয়েছেন, অগণিত নিয়ামত পেয়ে ধন্য হয়েছেন, যা ঈমানদারদের জন্য নাজাতের অতি মহান ও মজবুত মাধ্যম। আর হুযূর-ই আকরামের যাতে পাক (পবিত্র সত্তা) মু’মিনদের জন্য আল্লাহর অতুলনীয় নিয়ামত, অনুগ্রহ ও দয়া। এর শোকরিয়া স্বরূপ খুশী উদযাপন করা, জুলূস বের করা ক্বোরআন-সুন্নাহ্ একেবারেই অনুরূপ। এ জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও।
জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষে প্রমাণাদি আমি (আল্লাহরই মুখাপেক্ষী বান্দা) নিম্নলিখিত কিতাবগুলো থেকে সংক্ষিপ্তাকারে সংকলন করেছিঃ
[১. মাওয়াহিব-ই লাদুন্নিয়াহ্, কৃত: সহীহ বোখারী শরীফের ব্যাখ্যাকারী ইমাম ক্বাস্তলানী (আরবী),।
২. যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব, কৃত: ইমাম আবদুল বাক্বী যারক্বানী মালেকী, (বৈরূত, লেবাননে মুদ্রিত)।
৩. আস্ সাওয়া‘ইকুল মুহরিক্বাহ্, কৃত: হাফেযুল হাদীস ইবনে হাজর হায়তামী মক্কী, আরবী, ইস্তাম্বুলে মুদ্রিত।
৪. মাদারিজ্জুন্নবূয়ত, (উর্দু), পাকিস্তানে মুদ্রিত, ৫. আল্ হাভী লিল ফাতাওয়া, কৃত: ইমাম জালাল উদ্দীন সুয়ূতী, বৈরূত, লেবাননে মুদ্রিত]।

♦এক শ্রেনীর লোক পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অস্বীকার করে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিতে একটা প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে থাকে । তারা বলে থাকে, “নবীজীর ইন্তিকালের দিবস হচ্ছে দুঃখের দিন, আর দুঃখের দিনে খুশি প্রকাশ করাটা অন্যায়।”নাউযুবিল্লাহ।

বাতিল ফির্কাদের বক্তব্যটা সম্পূর্ণ মিথ্যে এবং কুরআন শরীফ হাদীস শরীফের খেলাপ হওয়ায় সেটা কুফরী মূলক হয়েছে। কেননা নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিলাদত শরীফ, বিছাল শরীফ ( ইন্তেকাল) , পুনরুত্থান প্রত্যকটি রহমত, বরকত, ঈদ বা খুশি প্রকাশের কারন। সুবহানাল্লাহ্। যেমন, আল্লাহ পাক হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে ইরশাদ করেন,
وسلم عليه يوم ولد و يوم يموت ويوم يبعث حيا
অর্থ : উনার প্রতি সালাম ( শান্তি), যেদিন তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন এবং যেদিন তিনি বিছাল শরীফ লাভ করবেন এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন !” (সূরা মারইয়াম ১৫)।

অনুরুপ হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলা হয়েছে,যেটা তিনি নিজেই বলেন-
والسلم علي يوم ولدت ويوم اموت ويوم ابعث حيا
অর্থ : আমার প্রতি সালাম বা শান্তি যেদিন আমি বিলাদত শরীফ লাভ করি, যেদিন আমি বিছাল শরীফ লাভ করি , যেদিন পুনুরুত্থিত হবো!”(সূরা মারইয়াম ৩৩)।
উপরোক্ত আয়াত শরীফ থেকে আমরা জানতে পারলাম, নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিছাল শরীফের দিবসও শান্তির দিন।

আর হাদীস শরীফে বর্নিত আছে–
عن ابن مسود رضي الله عنه قال قال رسول اللهصلي عليه و سلم حياتي خير لكم و مماتي خير لكم
অর্থ : আমার হায়াত-বিছাল (ইন্তেকাল) সব অবস্থাই তোমাদের জন্য কল্যাণ বা উত্তম বা খায়ের বরকতের কারন।” (দলীল- কানযুল উম্মাল শরীফ : হাদীস ৩১৯০৩, জামিউছ ছগীর ৩৭৭০, শিফা শরীফ ২য় খন্ড ১৯ পৃষ্ঠা)উক্ত হাদীস শরীফের সনদ সহীহ।
উক্ত হাদীস শরীফে নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই বলতেছেন, উনার বিছাল শরীফ এর দিনও কল্যাণময়।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-
عن حضرت ابى الدرداء رضى الله تعالى عنه قال ان الله تعالى حرم على الارض ان تأكل اجساد الانبياء فنبى الله حى يرزق
অর্থ : হযরত আবু দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের জিসিম(দেহ) মুবারক যমীনের উপর ভক্ষণ করা হারাম করেছেন। সুতরাং মহান আল্লাহ পাক উনার হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা জীবিত ও রিযিকপ্রাপ্ত। (ইবনে মাজাহ শরীফ ১৬৩৬, সুনানে দারীমী ১৫৭২, মিশকাত শরীফ,জালাউল আফহাম ৬৩ পৃ: , তাযকিরাতুল হুফফাজ ১০৮৫, )।

কিতাবে আরো উল্লেখ করা হয়েছে –
ان النبى صلى الله عليه وسلم فى قبره حى
অর্থ : “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রওযা মুবারকে জীবিত অবস্থায়ই আছেন।”(মিরকাত শরীফ ২য় খন্ড ২২৩ পৃষ্ঠা)।

বিখ্যাত মুহাদ্দিছ আল্লামা ইমাম মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন –
ليس هنا موت ولافوت بل هو انتقال من حال الى حال وارتحال من دار الى دار وان المعتقد المحقق انه حى يرزق
অর্থ: এখানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য মৃত্যুও নেই, নিঃশেষ হওয়াও নেই। বরং এক শান মুবারক হতে অন্য শান মুবারক উনার দিকে স্থানান্তরিত হওয়া এবং এক ঘর হতে অন্য ঘরে হিজরত করা। নিশ্চিত বিশ্বাস এই যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হায়াত মুবারকে (জীবিত) আছেন এবং সম্মানিত রিযিকপ্রাপ্ত হচ্ছেন। (শরহুশ শিফা শরীফ ১ম খ-, পৃ. ১৫২,মিরকাত শরীফ)।

শুধু তাই নয়, দেওবন্দীদের মুরুব্বী মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীন লিখেছে,
হযরত আবুল মাওয়াহেব শাযালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন- একবার স্বপ্নযোগে হুযুর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎলাভ করলাম। তিনি নিজের সম্পর্কে বললেন- আমি মৃত নই। আমার পরলোক গমনের বিষয়টা এরূপ যে, যারা আল্লাহ প্রদত্ত রূহানী জ্ঞান থেকে বঞ্চিত, আমি তাদের দৃষ্টির আড়ালে পরলোকবাসী। কিন্তু যারা আল্লাহর দেওয়া রূহানী জ্ঞান রাখে, তাদের মধ্যে আমি জীবিতই রয়েছি। আমি যেমন তাদের দেখতে পাই তারাও আমার সাক্ষাৎলাভ করে। [তবক্কাতুল কোবরা] (দলীল- স্বপ্নযোগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৬৮ পৃষ্ঠা, মদীনা পাবলিকেশান্স)।
উক্ত হাদীস শরীফের আলোকে প্রমাণ হলো সকল নবী রসূল আলাইহিমুস সালামগন উনাদের পবিত্র রওজা শরীফে জীবীত। সকল নবীদের নবী রসূলদের রসূল হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র রওজা শরীফে জীবীত। তাহলে কি করে বলা যেতে পারে ১২ রবিউল আউয়াল শরীফ শোকের দিন। নাউযুবিল্লাহ। যিনি হায়াতুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য কি করে শোক দিবস পালন করা যেতে পারে? যারা হায়াতুন্নবী মানে না, সহীহ হাদীস শরীফ অস্বীকারকারী তারাই বলে থাকে ১২ ই রবিউল শরীফ শোকের ‍দিন।
অতএব, শরীয়তের অকাট্য দলীল আদীল্লার দ্বারা প্রমান হলো কারো পক্ষে নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ এর দিন ১২ই রবীউল আওয়াল শরীফকে শোকের দিন হিসাবে সাব্যস্ত করা সম্ভব নয় !!

যারা শোকের কথা বলবে তারা কুরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফ, ইজমা ক্বিয়াস অস্বীকার করে ঈমানহারা হবে !
তাই আখেরী রসূল, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফকে নিয়ামত মনে করে উক্ত দিনকে ঈদ পালন করতে হবে !

(৩)===মুসলমানদের ঈদ কয়টি-

এছাড়া হাদীস শরীফে আরো বর্নিত আছে —
ان من افضل ايامكم يوم الجمعة فيه خلق ادم وفيهقبض
অর্থ : তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে উত্তম দিন হচ্ছে, জুমুার দিন। এদিনে আদম আলাইহিস সালাম পয়দা হয়েছেন এবং এদিনেই তিনি বিছাল বা ইন্তেকাল লাভ করেন !” (নাসায়ী শরীফ- কিতাবুল জুমুয়া: হাদীস ১৩৮৫,মুসলিম শরীফ- কিতাবুল জুমুয়া: হাদীস ৮৫৫, তিরমিযী :হাদীস ৪৯১, মুসনাদে আহমদ : ৮৯৫৪, হাদীস নম্বর ৮৯ ইবনে মাজাহ : হাদীস ১৭০৫, সুনানে আবু দাউদ –কিতাবুস সালাত: হাদীস ১০৪৭, ইবনে খুযায়মা: হাদীস ১৬৩২)।

অতপর এই জুমুয়ার দিন ঈদের দিন ঘোষনা করে ইরশাদ হয় —
ان هذا يوم جعله الله عيدا
অর্থ: এ জুমুয়ার দিন হচ্ছে এমন একটি দিন,যেদিনকে আল্লাহ পাক ঈদের দিন সাব্যস্ত করেছেন।” (ইবনে মাজাহ: হাদীস নম্বর ১১৯৮, মুয়াত্তা মালিক- কিতাবুত ত্বহারাত: হাদীস নম্বর ১৪৪, বায়হাক্বী : হাদীস ১৩০৩,মা’য়ারিফুল সুনান ওয়াল আছার বায়হাক্বী: হাদীস ১৮০২, মুসনাদে শাফেয়ী: হাদীস ২৬৮,মুজামুল আওসাত তাবরানী ৩৪৩৩, মিশকাত শরীফ)।

♦উল্লেখ্য, মু’মিনের ঈদ মাত্র দু’টি সীমাবদ্ধ নয়। ঈদ মোট ৯টি। যথাঃ- (১)ঈদে রামাদ্বান, (২)ঈদে কোরবান, (৩)ঈদে আরাফা, (৪)ঈদে জুমআ, (৫)ঈদে শবে বারাআত, (৬)ঈদে শবে ক্বাদর, (৭)ঈদে আশুরা, (৮)ঈদে নুযুলে মায়েদা এবং (৯)ঈদে মীলাদুন্নবী। সবগুলোই কোরআনে, হাদীসে ও বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ আছে।

♦সহীহ হাদীস শরীফের মধ্যে আইয়ামে তাশরীকের দিন ঈদের দিনঃ
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلمقَالَ ‏ “‏ إِنَّ يَوْمَ عَرَفَةَ وَيَوْمَ النَّحْرِ وَأَيَّامَالتَّشْرِيقِعِيدُنَا أَهْلَ الإِسْلاَمِ
অর্থ: হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আরাফার দিন,নহর বা কুরবানীর দিন এবং আইয়্যামে তাশরীক (অর্থ্যাৎ ১১, ১২ ও ১৩ ই জিলহজ্জ) আমাদের মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন। (দলীল: নাসাঈ শরীফ কিতাবুল হজ্জ : হাদীস নম্বার ৩০০৪,আবু দাউদ – কিতাবুছ সিয়াম : হাদীস ২৪১৯,তিরমিযী শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম: হাদীস ৭৭৩)

উক্ত হাদীস শরীফে জুমুয়ার দিনের সাথে সাথে আরাফার দিনকেও ঈদের দিন হিসাবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

হাদীস শরীফে আছে মুসলমানদের জন্য প্রতি মাসে চারদিন বা পাঁচদিন ঈদদের দিনঃ
لكل مؤمن في كل شهر اربعة اعياد اوخمسة اعياد
অর্থ : হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, মু’মিন মুসলমানদের প্রতি মাসে চারটি অথবা পাঁচটি ঈদ রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিমাসে চারটি অথবা পাঁচটি সোমবার শরীফ হয়ে থাকে।’ ( কিফায়া শরহে হিদায়া ২য় খন্ড – বাবু ছালাতিল ঈদাইন, হাশিয়ায়ে লখনবী আলাল হিদায়া )

♦রোজদারদের জন্য ইফতারের সময় ঈদের সময়ঃ
لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ
ٌঅর্থ : হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, রোযাদারের জন্য দুটি ঈদ বা খুশি । একটি হলো তার প্রতিদিন ইফতারের সময়। আর অন্যটি হলো মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতের সময় ।’” (দলীল–বুখারী শরীফ – কিতাবুস সাওম, মুসলিম শরীফ কিতাবুস সাওম : হাদীস ১১৫৩,মিশকাত শরীফ , সুনানে নাসাঈ :২২১৫, রোজার অধ্যায়)

দেখুন, উক্ত হাদীস শরীফে রোজাদার দের জন্য দুটি ঈদ বা খুশির কথা বলা হইছে। একটা তার ইন্তেকালের পর আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাত।আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে , ইফতার করার সময়।
ইফতিার দুই প্রকার –
(১) ইফতারে কুবরা।
(২) ইফতারে ছোগরা
কুবরা হচ্ছে, ঈদুল ফিতর যা হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমানিত। আর ছুগরা হচ্ছে, রোজাদার প্রতিদিন মাগরিবের সময় করে থাকেন।
এটি প্রতিবছর ২৯ বা ৩০ দিন হয়ে থাকে। এছাড়া সুন্নত রোজা হিসাবে আরো রোজা রয়েছে, যেমন-
মুহররম শরীফ মাসে ৯,১০ বা ১০,১১ তারিখ দুইটি রোজা এবং এর সাথে আরো ১ টি রাখা হয়, মোটা ৩ টি।
শাওয়াল মাসে ৬ টি রোজা রোজা।
যিলহজ্জ শরীফ মাসে ১ হতে ৯ তারিখ পর্যন্ত ৯ টি রোজা এবং বাকি ১১ মাসে ৩ করে সুন্নত রোজা, মোট ৩৩ টি রোজা। এই রোজাদারদের প্রতিটি ইফতার হলো ঈদ। সুবহানাল্লাহ্!

আসুন আমারা মোট ঈদ সংখ্যা হিসাব করি —
বছরে ৫২ টি শুক্রবার + ৫২ টি সোমবার শরীফ + আরফার দিন+ আইয়ামে তাশরীক ৩ দিন+রমাদ্বান শরীফে ৩০ টি + বাকি ১২ মাসে ৩ করে ৩৪ টি + যিলহজ্জ মাসে ৯ টি + মুহররম মাসে ২ টি + পহেলা রজব ১ টি + ২৭ শে রজব ১টি + ১৫ শাবান ১ টি = (৫২+৫২+৩০+১+৩+৩৩+৯+২+১+১)
= ১৮৪ টি ঈদ ! সুবহানাল্লাহ্ !
সূতরাং হাদীস শরীফ থেকেই ১৮৪ টা ঈদ প্রমাণিত হলো।

(৪)===নবীজীর ইন্তেকাল দিবস পালন হয় না কেন-

আরেকটি বিষয় প্রশ্ন সাপেক্ষ! তা হচ্ছে, নবী করীম [ﷺ]-এঁর শুধু জন্মতারিখ পালন করা হয় কেন, ইন্তেকাল তো একই তারিখে এবং একই দিনে হয়েছিল? সুতরাং একসাথে জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালন করাইত যুক্তিযুক্ত। যেমন অন্যান্য মহামানব ও ওলী-গাউসদের বেলায় মৃত্যু দিবসে ওরস পালন করা হয়ে থাকে।

প্রথম উত্তর হলো, আল্লাহ পাক কোরআন মাজীদে নির্দেশ করেছেন নিয়ামত পেয়ে খুশী ও আনন্দ করার জন্য। নিয়ামত পাওয়া জন্ম উপলক্ষ্যেই হয়। যেমন কোরআনে আছেঃ-

قُلْ بِفَضْلِ اللّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُواْ هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ

অর্থঃ ”হে নবী! আপনি এ কথা ঘোষনা করে দিন, মুসলমানগণ খোদার ফযল ও রহমত পাওয়ার কারণে যেন নির্মল খুশি ও আনন্দোৎসব করে। এটা তাদের যাবতীয় সঞ্চিত সম্পদ থেকে উত্তম।”
(সূরা ইউনুস, আয়াত নং ৫৮)

তাফসীরে রুহুল মায়ানী উক্ত আয়াতে ‘ফযল’ ও ‘রহমত’ অর্থে হযরত মুহাম্মদ [ﷺ]-এঁর নাম উল্লেখ করেছেন। এটা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه)’র ব্যাখ্যা। রাসূল [ﷺ]-এঁর একহাজার চারশত নামের মধ্যে ‘ফযল’, ‘রহমত’, বরকত’, ‘নেয়ামত’ ও ‘নূর’ প্রভৃতি অন্যতম গুণবাচক নাম, যা গ্রন্থের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং নেয়ামতপ্রাপ্তি উপলক্ষ্যে শুকরিয়া আদায়ের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান করাই কোরআনের নির্দেশ। সূরা ইউনুসের ৫৮ নং আয়াতে নবীজী’র জন্মোৎসব পালন করার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। সুতরাং ঈদে মীলাদুন্নবী [ﷺ] ও জশনে জুলুস কোরআনের আলোকেই প্রমাণিত।
দেখুন তাফসীরে রুহুল মায়ানী সূরা ইউনুসের ৫৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যা।)

মোদ্দাকথা, আল্লাহ্ পাক হুযু [ﷺ]-এঁর আবির্ভাব উপলক্ষ্যে আনন্দোৎসব করার নির্দেশ করেছেন। কিন্তু ইন্তেকাল উপলক্ষ্যে শোক পালন করতে বলেন নি। তাই আমরা আল্লাহর নির্দেশ মানি।

♦দ্বিতীয় উত্তর- নবী করীম [ﷺ] নিজে সোমবারের রোযা রাখার কারণ হিসেবে তাঁর পবিত্র বেলাদাত ও প্রথম ওহী নাযিলের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ বা ইন্তেকাল উপলক্ষ্যে শোক পালন করার কথা উল্লেখ করেন নি। যদি করতেন, তাহলে আমরা তা পালন করতাম। সুতরাং একই দিনে ও একই তারিখে নবী করীম [ﷺ]-এঁর জন্ম এবং ইন্তেকাল হলেও মৃত্যুদিবস পালন করা যাবে না। এটাই কোরআন-হাদীসের শিক্ষা।

♦তৃতীয় উত্তর- নবী করীম [ﷺ] তো স্বশরীরে হায়াতুন্নবী। হায়াতুন্নবী আবার মৃত্যুদিবস হয় কী করে? মৃত ব্যক্তির জানাজা হয়, নবীজীর কি জানাজা হয়েছিলো? তিনি নিজে জানাজা না করে দরূদ পড়তে আদেশ দিয়ে গেলেন কেন? কেউ কি জীবিত পিতার মৃত্যুদিবস পালন করে? আসলে ওরা কোনটাই পালনের পক্ষে নয়। শুধুই ঈদে মীলাদুন্নবী [ﷺ] পালনকারীদেরকে ঘায়েল করার লক্ষ্যেই এইসব শয়তানী কূটতর্কের অবতারণা করে থাকে। ওরা শয়তানের প্রতিনি। আমরা কোরআন নাযিলের আনন্দোৎসব করি শবে ক্বদরে এবং নবীজী’র আগমনের আনন্দোৎসব পালন করি ১২ ই রবিউল আউয়ালে। ওরা কোনটাই পালনের পক্ষপাতী নয়। আমরা সূরা ইউনুসের ৫৮ নং আয়াতের নির্দেশ পালন করি।

♦৪- আবরাহার হস্তীবাহিনী ধ্বংস হওয়ার ৫০ থেকে ৫৫ দিন পর রাসুল (সা.) ৮ রবিউল আউয়াল সোমবার সুবহে সাদিকের সময় আবু তালিবের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), জুবাইর ইবনে মুতঈম (রা.), আল্লামা ইবনুল জাওজি, কুতুবউদ্দিন কাসতালানি (রহ.)-সহ বেশির ভাগ মুহাদ্দিস ও জীবনী-লেখক এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

(সিরাতে মুস্তফা’র বাংলা অনুবাদ : ১/৬৩-৬৪, ইদ্রিস কান্ধলভি, জুরকানি : ১/১৩০-৩১)
বিখ্যাত ঐতিহাসিক মাহমুদ পাশা ও ভারতের মুহাম্মদ সুলাইমান মানসুরপুরীর অনুসন্ধানি অভিমত হলো, রাসুল (সা.)-এর জন্ম তারিখ ৯ রবিউল আউয়াল। ইংরেজি পঞ্জিকা মতে, তারিখটি ছিল ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ২০ অথবা ২২ এপ্রিল।

(মাহমুদ পাশা, তারিখে খুজরি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৬২; সুলাইমান মানসুরপুরী, রাহমাতুল্লিল আলামিন, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩৮-৩৯)
মহানবী (সা.) যে যুগে এবং যে সময়ে জন্মগ্রহণ করেছেন, তখন জন্ম তারিখ লিখে রাখার প্রথা ছিল না। অভিজাত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোতেও এ নিয়ম ছিল না।

তাই রাসুল (সা.)-এর জন্ম তারিখও কোথাও লিখিত আকারে ছিল না। ফলে রাসুল (সা.)-এর জন্ম তারিখ ১২ রবিউল আউয়াল কি না—তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
তবে রাসুল (সা.)-এর মৃত্যু ১২ রবিউল আউয়াল হওয়ার ক্ষেত্রে কারো কোনো ধরনের মতবিরোধ নেই। কারণ নবী হিসেবে আবির্ভাবের পর গোটা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীতে অনেক কিছু ঘটে গেছে। ফলে মানুষ গুরুত্বের সঙ্গে উনার মৃতু-তারিখ স্মরণে রেখেছে। সুতরাং যদি মেনে নেওয়া হয় যে, ১২ তারিখ রাসুল (সা.)-এর জন্ম তারিখ—তাহলে দেখা যায় ওই দিনই তাঁর মৃত্যু দিবস।

হাদিসের গ্রন্থগুলোতে আছে, মহানবী (সা.) তার জন্মের দিন সোমবার রোজা রাখতেন। মহানবী (সা.)-এর জন্মের কারণে প্রতি সোমবার রোজা রাখা মুস্তাহাব।

আবু কাতাদাহ আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘মহানবী (সা.)-কে সোমবার রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ওই দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি। ওই দিনই আমি নবুয়ত লাভ করেছি বা আমার ওপর (প্রথম) ওহি অবতীর্ণ হয়…। ’ (মুসলিম, হাদিস নং: ১১৬২)

_____________________________________________
বি.দ্র: উপরের লেখায় এটাই প্রমাণিত হলো যে, নবীজির জন্মদিন নিয়ে বিভ্রান্তি বা মতভেদ রয়েছে তবে নবীজির ওফাত দিবস নিয়ে কোন মতবাদ বা বিভ্রান্তি নেই। ওহাবী সম্প্রদায়ের লোকেরা বলে ১২ তারিখে জন্ম আবার ১২ তারিখে মৃত্যু, কাজেই জুলুস বা আনন্দ মিছিল করা যাবে না, ওয়াহাবীদের এমন খোঁড়া যুক্তি থেকে মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন, আমিন।

♦(৫)=== সৃষ্টির সেরা শুভ রজনী যে রজনীতে রত্নাগর্ভা মা আমিনা (রাঃ) ধারন করলেন রাসূলাল্লাহ (ﷺ) এর নূর মুবারককে পবিত্র নূরানী গর্ভে :
এ রজনীতে শয়তানদের বনী আদমকে বিভ্রান্ত করার সকল কৌশল বন্ধ হয়ে গেল।
ফেরশতাকুল শয়তানের সিংহাসন উল্টিয়ে সমুদ্রে ফেলে দিল। জৈনক ফেরেশতা এটাকে সমুদ্রে চল্লিশ দিন পর্যন্ত ডুবাতে থাকল।
ফেরশতাকুল শয়তানকে ভীষন প্রহার করল, ফলে সে আবূ কোবাইস নামক পাহাড়ে আত্নগোপন করতে বাধ্য হলো। শয়তান সেখানে ভীষন চিত্‍কার করতে থাকল। চিৎকার শুনে তার দল লশকর সকলে এসে উপস্থিত হলো। তারা বলল, হে দলপতি! আপনি ক্রন্দন করছেন কেন?সে বলল মহাবিপদ উপস্থিত। অত্র রাত্রিতে নূরে মুহাম্মদী (ﷺ) মাতৃগর্ভে স্থিতি লাভ করেছে।
তার দরুনই দুনিয়া ও আখিরাতের ইজ্জত,
সে নগ্ন তলোয়ার নিয়ে আবির্ভূত হবে।
ফলে আমার বেঁচে থাকা মুশকিল হয়ে পড়বে,
সে পূর্ববতী ধর্মগুলো রহিত (মূলোচ্ছেদ) করে দিবে; মূর্তিসমূহ ধ্বংস করে দিবে; ব্যভিচার, শরাবখোরী ও জুয়া হারাম করে দিবে, জৌতিষ্কের বিদ্যা বিলুপ্ত করবে; হক কথা বলবে; ইনসাফে শ্রীবৃদ্ধী সাধন করবে;
আসমানের তারকামালার ন্যায় মসজিদসমূহ মিটমিট করে জ্বলতে থাকবে; প্রতি স্থানে আল্লাহর নাম নিবে; উক্ত উত্তম কাজগুলো তার জামায়াতকে আকড়িয়ে থাকবে, এগুলোতে আমার কোন ফন্দী চলবেনা।

(৬)===সাহাবায়ে কেরাম তথা খোলাফায়ে রাশেদ্বীন মিলাদুন্নবী পালন করেছেন-
১। হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহুতা’য়ালা আনহু‘র মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন
হাফেজ ইবনে হাজর আল হাইতুমী রহমাতুসাল্লামহি আলাইহি (৯৭৪ হিজরী) তাঁর বিখ্যাত কিতাব আল নে‘মাতুল কুবরা আলাল আলামীন’ শরীফের ৭-৮ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেন-

قَالَ اَبُوْ َبكَرِ الْصِدِّيْقِ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ مَنْ اَنْفَقَ ِدْرهَمًا عَلَى قََرَائَةِ مَوْلِدِ النَّبِى صَلَّى اللهُ عَلِيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ رَفِيْقِى فَىْ الْجَنَّةِ-

অর্থ: ইসলামের প্রথম ও খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রথম খলিফা সিদ্দিকে আকবর রাদিয়াল্লাহুতা’য়ালা আনহু বলেন, যে ব্যক্তি মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপনে একটি দেরহামও ব্যয় করবে সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।

(জাওয়াহিরুল বিহার- ৩/৩৫০ পৃষ্ঠা)

২। হযরত ওমর ফারুকে আযম রাদিয়াল্লাহুতা’য়ালা আনহু কর্তৃক মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন-

قََالَ عُمَرَابْنِ الْخِطَّابٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ مَنْ عَظَمَ مَوْلِدِ النَّبِى صَلَّى اللهُ عَلِيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ اَحْىِ اَلْاِسْلِامَ-

অর্থ: ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহুতা’য়ালা আনহু ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সম্মান করে উদযাপন করল, সে যেন ইসলামকে পুনঃর্জীবিত করল।

৩। হযরত উসমান গণি রাদিয়াল্লাহুতা’য়ালা আনহু‘র মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন-

قال عثمان رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ مَنْ اَنْفَقَ ِدْرهَمًا عَلَى قََرَائَةِ مَوْلِدِ النَّبِى صَلَّى اللهُ عَلِيْهِ وَاَلِهِ وَسَلَّمَ فَكَاَنَّمَا شَهِدَ غَزْوَةَ بَدْرِ وَحُنَيْنٍ-

অর্থ: যে ব্যক্তি মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপন উপলক্ষ্যে একটি দেরহামও ব্যয় করবে, সে যেন বদর ও হুনাইনের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করল।
৪। হযরত শে‘রে খোদা আলী রাদিয়াল্লাহুতা’য়ালা আনহু‘র মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

مَنْ عَظَمَ مَوْلِدِ النَّبِى صَلَّى اللهُ عَلِيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ سَبِبًا لِقِرْاَتِهِ لَايَخْرُجُ مِنْ الدُّيْنَا اِلَّا بِالْاِيْمَانِ وَيَدْخُلُ الْجَنَّةِ بِغَيْرِ حِسَابِ –

অর্থ: যে ব্যক্তি মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সম্মান করে, সে যেন উহা উদযাপনের মাধ্যম হল, সে পৃথিবী হতে ঈমানের সাথে প্রস্থান করবে এবং বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

(৭)===উলামায়ে দেওবন্দ [তাবলীগ ও কওমী মাদ্রাসার প্রতিষ্টাতা] মিলাদুন্নবী পালন করেছেন-

১.মাওলানা আশরাফ আলী থানভী

এভাবে কিয়াম করাকে আমরা অবৈধ বলিনা,বরং কোথাও রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামের জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনাকালে দাড়িয়ে যান, আবার কখনো তাঁর দুগ্ধ পানের ঘটনা বলার সময়,আবার কখনো মিরাজুন্নবির আলোকপাত কালে,এমনিভাবে কোনো কোনো খাস মাহফিলে ৩-৪ বারও কিয়াম করে থাকেন।তবে এরুপ মিলাদ কিয়াম করাকে কে নিষেধ করবে??(অর্থাৎ নিষেধ করা নয়)

— তাবলিগ,পৃঃ ৩৫ (লেখকঃ আশরাফ আলী থানবী (রহঃ)

মাওলানা আশরাফ আলী থানভী কোনো এক আলোচনা সভায় বলেছিলেন-

প্রচলিত মিলাদ মাহফিলের ব্যাপারে সাধকদের আমলকে আমি ভিত্তিহিন মনে করিনা। শাফেয়ী মাযহাবের মুযতাহিদ বা গভেষক ফিকাহ শাস্ত্রবিদদের অভিমত উহাই। আল্লামা ইমাম শামী (রহঃ) তাঁর প্রণিত কিতাবের মুসাফাহা বা’দাস সালাত অধ্যায়ে শায়েখ আবু জাকারিয়া মহিউদ্দিন নববি (রহঃ) এর অনুরুপ অভিমত বলে বর্ণনা করেছেন।কাজেই যেসব সুফিয়ায়ে কেরাম বিশুদ্ব পন্থায় মিলাদ মাহফিল করেন , তাদের ব্যাপারে আপত্তিমুলক খারাপ ধারণা না করাই উচিত।

— মাযালিসে হাকিমুল উম্মত(রচনায় মুফতি মুহাম্মদ শফি)

মাওলানা আশরাফ আলী থানবি,মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি মাওলানা কাসেম নানুতুবি প্রমুখ দেওবন্দি বড় বড় আলেমদের পীর ছিলেন হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মাক্কী (রহঃ) যিনি মিলাদ কিয়ামের পক্ষে ছিলেন।যখন অনেকেই তাঁকে বেদাতি বলে ফতোয়া দিতে লাগলেন তখন মাওলানা আশরাফ আলী থানবি নিজের পীর এর পক্ষে কলম ধরলেন।তিনি বলেন-

হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মাক্কী (রহঃ) আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অবিকল আকিদায় বিশ্বাসী ছিলেন।তাঁর এসব আমল তথা প্রচলিত মিলাদ ও কিয়াম অনুষ্ঠানে যোগদান,বক্তব্য ও লেখনির মাধ্যমে তা সমর্থন করা কোনো ভ্রান্ত আকীদা বা শীয়া ধর্মের অনুকরন ছিলনা। বরং এহেন মহৎ আমলগুলা যেহেতু মূলত বৈধ ,তাই তিনি বৈধ কাজকে পুন্যময় মনে করে নিজে করতেন এবং অপরকে করতে উৎসাহ যোগাতেন।

— এমদাদে ফতোয়া

মাওলানা আশরাফ আলী থানভী আরো বলেন-

আমাদের আলেমগন প্রচলিত মিলাদ-কিয়াম নিয়ে অনেক ঝগড়া বিভেদে লিপ্ত রয়েছেন।এতদসত্তেও আমরা মিলাদ ও কিয়ামকে বৈধ বা ‘ পুন্যময় আমল ‘ মনে করি।যেহেতু ইহা বৈধ পন্থায় আদায় করার সুযোগ আছে সেহেতু এমতাবস্থায় বিরুধী দলের এত বাড়াবাড়ি ঠিক নয়।প্রকৃত পক্ষে মক্কা ও মদিনা শরিফের হক্কানি, রব্বানি উলামা মাশায়েখদের অনুকরনই আমাদের জন্য যতেষ্ট।অর্থাৎ হারামাইন শরিফাইনে মিলাদ,কিয়াম হতো,তাদের অনুকরন ই আমরা করবো।অবশ্য কিয়াম করার সময় নুরনবীর জন্মের খেয়াল না করা উচিত।এ কথাও চির সত্য যে, যদি মিলাদ মজলিসে হুযুরে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উপস্থিত হতে পারেন, এমন বিশ্বাস স্থাপনে কোনো দোষ নেই।কারন জড় জগত স্থান,কাল হতে সম্পুর্ন মুক্ত বিধায় নবী কারিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত হওয়া মোটেও অসম্ভব নয় ।

— এমদাদে ফতোয়া,৩৮ পৃষ্টা

 

২. মাওলানা আব্দুল হাই লখনভী

মিলাদ বা জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনার সময় যদি কোনো ব্যক্তি সত্যিকারের ইশকে মুহাব্বাতে লৌকিকতা বিহীন কিয়াম বা দাড়িয়ে যায় তাহলে কিছু বলার নেই।মজলিশের আদব হচ্ছে অন্যান্য ব্যাক্তিগন তার অনুকরনে কিয়াম করবে।ইশক মুহাব্বাত ব্যাতিত ইচ্ছাকৃত দাড়ানো এটা ফরয,ওয়াজিব,সুন্নাত মুয়াক্কাদা ও মুস্তাহাবে শরিয়ত নয়। কেননা এটা হুযুর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার যামানা বা কুরুনে ছালাছায় (উত্তম যুগ) ছিলনা। ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) ‘ ইয়াহয়া উলুমুদ্দিন’ কিতাবে নকল করেছেন যে, হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন – ক্ষেত্র বিশেষে সাহাবায়ে কেরাম রাসুলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম তিনির জন্য দাড়াতেন্না, কিন্তু হারামাইন শারিফাইনের উলামায়ে কেরাম অর্থাৎ মক্কা ও মদিনা শরিফের আলেমগন মিলাদের সময় কিয়াম করতেন।ইমাম বরজনযী (রহঃ) স্বীয় ‘ মিলাদুন্নাবী’ কিতাবে লিখেছেন – রাসুলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনাকালে কিয়াম করা বিচক্ষণ ইমামগন মুস্তাহাব বলেছেন।কতই যে খুশীর সুসংবাদ ঐ ব্যাক্তির জন্য যার একমাত্র উদ্দেশ্য হুযুরে আকরাম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার সন্মানার্থে দাড়ানো।

— মযমুয়ায়ে ফতোয়া, ২য় খণ্ড, ৩৪৭ পৃষ্ঠা

 

৩. মাওলানা হুসাইন আহমদ দেওবন্দির দৃষ্টিতে মিলাদ

মাওলানা হুসাইন আহমদ ছিলেন দেওবন্দ মাদ্রাসার একজন প্রখ্যাত শায়খুল হাদীস।তিনি তাঁর ‘ মাক্তুবাতে শায়খুল ইসলাম’ কিতাবে লিখেন- হযর আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস র(আদিঃ) হতে বর্ণিত – তিনি বলেন, রাসুলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম ইরশাদ করেন,নিশ্চই আল্লাহ তা’য়ালা এই জমিনে কিছু ভ্রমনকারী ফেরেশতা নিয়োগ করেছেন। তাঁরা আমার উম্মতের প্রেরিত ছালামগুলো আমার নিকট পৌঁছান।
হযরত আবু হুরাইরা (রাদিঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন রাসুলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম ইরশাদ করেন- যে কোনো উম্মত আমার উপর ছালাম প্রদান করে আল্লাহ তা’য়ালা তা আমার রুহে পৌঁছান আর আমি তার ছালামের জবাব দেই।
স্মরণ রাখা উচিৎ, হযরত রাসুলে আকরাম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার রওদ্বা শরিফের সামনে ছালাম পড়া হোক, তা কাছের স্থান থেকে হোক কিংবা দূরবর্তী স্থান থেকে, তা রাসুলে মাকবুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার নিকট পৌঁছে।উপরল্লেখিত হাদীসদ্বয়ে দূর ও নিকট থেকে ছালাম দেওয়ার কোনো বৈশিষ্ট নেই।অর্থাৎ প্রত্যেক স্থান হতে ছালাম তিনির নিকট পৌঁছে।ছালামদাতা যখন ইচ্ছা ছালাম প্রেরন করতে পারবে।দাড়িয়ে বা বসে ছালাম দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়নি।হ্যাঁ,রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার জিকরে বেলাদাত বা জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা কালে কেহ দাড়িয়ে ছালাতু ছালাম পড়লে ,তাতে দোষের কি আছে??

মাক্তুবাতে শাইখুল ইসলাম,১ম খণ্ড,৩৩৯ পৃষ্টা

৪.আক্বায়েদে উলামায়ে দেওবন্দ কিতাবে মিলাদের হুকুম

আক্বায়েদে উলামায়ে দেওবন্দ কিতাবের ১৯ পৃষ্টায় মিলাদের ব্যাপারে নিম্নের ফতোয়া আসেঃ আমরা (দেওবন্দি উলামাগন) মিলাদ মাহফিলে রাসুলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম তিনির জন্ম বৃত্তান্ত বর্ণনা করাকে অস্বীকার করিনা, বরং নাজায়েয বস্তু যা উহার সহিত যুক্ত হয়েছে, তাহা অস্বীকার করি।হ্যাঁ, যদি কোনো মিলাদ মাহফিলে মন্দ উপসর্গ বর্জিত হয়, তবে আমরা কি এ কথা কখনো বলতে পারি যে, মিলাদ শরিফের বর্ণনা নাজায়েয ও বেদাত! এহেন মন্দ কথা কোনো মুসলমানের প্রতি কিভাবে ধারণা করা যেতে পারে???
উক্ত কিতাবের ৪১ পৃষ্টায় আরো উল্লেখ আছে – মিশর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত আলেম শাইখুল উলামা সেলিম সাহেব বলেন যে, হুযুরে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার জন্ম কাহিনি বর্ণনার সময় কিয়াম অস্বীকার করা এবং হুযুরের ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার জন্ম বৃত্তান্ত বর্ণনা করাকে পৌত্তলিক এবং রাফেজীগনের সহিত তুলনা করা আর ইহার সমালোচনা করা একজন ইমানদারের কাজ হতে পারেনা।কেননা পূরবর্তী ইমামগন এই মিলাদের কিয়াম হুযুর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম তিনির শান,মান ও মর্যাদার উদ্দেশ্যে মুস্তাহসান মনে করেছেন এবং উহা এমন একটি কাজ,যার দধ্যে খারাপ বা নিন্দনীয় বলতে কিছুই নেই।

আকায়েদে উলামায়ে দেওবন্দ, রচনায়- মাওলানা খলিল আহমদ সাহারানপুরী দেওবন্দী

৫. মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহীর উস্তাদের দৃষ্টিতে মিলাদ

মাওলানা রশিদ আহমদ উস্তাদ প্রখ্যাত আলেম মাওলানা শাহ আহমদ সাইদ হানাফী তাঁর ‘মালফুযাত’ এ বলেছেন- মিলাদ শরীফ পাঠ করা এবং রাসুলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম তিনির জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা কালে কিয়াম বা দাড়িয়ে যাওয়া মুস্তাহাব।

— মাকামাতে সাইদিয়া ওয়া আহমাদিয়া

৬. দেওবন্দি উলামাদের পীর সাহেবের দৃষ্টিতে মিলাদ

বিশিষ্ট দেওবন্দি উলামাদের (মাওলানা কাসেম নানুতুবী, রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আশরাফ আলী থানভী…প্রমুখ) পীর হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মাক্কি (রহঃ) যিনি এই উপমহাদেশে একজন যোগ্য দীনের মুবাল্লেগ হিসেব্দ পরিচিত এবং পীরে কামেল ও আধ্যাত্নিক সাধক ছিলেন,তিনি তাঁর লিখিত কিতাব ফয়সালায়ে হাফত মাস’আলা কিতাবের মধ্যে মিলাদ নিয়ে একটি অধ্যায় লিখেছেন,সেখানে এক যায়গায় তিনি বলেছেন-

আমার নীতি হচ্ছে আমি মিলাদ মাহফিলে যোগদান করি এবং এটাকে বরকতের উছিলা মনে করে আমি নিজেই প্রতি বছর এর আয়োজন করে থাকি এবং কিয়ামে আনন্দ ও তৃপ্তি পেয়ে থাকি।

— ফয়সালায়ে হাফত মাস’আলা

(৮)=== মীলাদ শরীফ না হলে কালিমাই হতো না-

আশরাফ আলী থানবী তার কিতাব হেকায়াতে আউলিয়াতে লিখেছে মীলাদ শরীফ না হলে কালিমা শরীফই হতো না।
দেওবন্দ সিলসিলার অন্যতম আশরাফ আলী থানবীর অন্যতম সংকলন কিতাব হচ্ছে “হেকায়াতে আউলিয়া”। এই কিতাবে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ বিষয়ে একখানা ঘটনা আছে যাদ্বারা স্পষ্ট বুঝতে পারবেন মূল দেওবন্দ সিলসিলার লোকেরা মীলাদ শরীফ সর্ম্পকে কি ধারনা রাখতো।

উক্ত কিতাবে কি উল্লেখ আছে নিজেরাই দেখে নিন,

“এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, আপনাদের ওখানে কি মীলাদ শরীফ পাঠ করা হয়? তিনি বললেন, প্রতিদিনই পাঠ করা হয়। তিনি কালেমা শরীফ পাঠ করে বললেন, যদি মীলাদ শরীফ না হয়, তাহলে এ কালেমা শরীফ হলো কিভাবে। তিনি বললেন, যদি আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের আলোচনা করলে রহমত বর্ষণ হয়, তাহলে মীলাদ শরীফ পাঠ করলে কি হবে?সুবহানাল্লাহ (হেকায়েতে আউলিয়া ৮৭ পৃষ্ঠা)

বর্তমানে যারা দেওবন্দী পরিচয় দেয় তারা কি মূলত দেওবন্দী? যদি হতো তবে আকাবীরদের বিরোধী কেন? তবে কি ছদ্মবেশে বর্তমানে কেউ বা কারা দেওবন্দ সিলসিলা হিসাবে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে?মূলত তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন কিছু প্রমাণ করা বা মুরুব্বীদের বির্তকিত করা?

(৯)===ইবনে বতুতার কিতাবে পবিত্র মক্কা মদিনায় ঈদে মিলাদুন্নবী পালন-

ঐতিহাসিক ও বিশ্বপরিব্রাজক ইবনে বতুতা (জন্ম ৭০৩ হিজরী- ৭৭৯ হিজরী) তিনি স্বীয় চোখে পবিত্র মক্কা শরীফে মহাসমারোহে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন হতে দেখেছেন। তিনি বর্ণনা করেন,

قاضى مكة العالم الصالح العابد نجم الدين محمد الامام العالم محيى الدين الطبرى رحمة الله عليه وهو فاضل كثير الصدقات والمواساة للمجاورين حسن الأخلاق كثير الطواف والمشاهدة للكعبة الشريفة يطعم الطعام الكثير فى المواسم المعظمة وخصوصاً فى مولد رسول الله صلى الله عليه وسلـم فانه يطعم فيه شرفاء مكة وكبراءها وفقراءها وخدام الحرم الشريف وجميع المجاورين وكان سلطان مصر الملك الناصر رحمة الله عليه يعظمه كثيراً وجميع صدقاته وصدقات امرائه تجرى على يديه

অর্থ: পবিত্র মক্কা শরীফ উনার সম্মানিত কাজী বা বিচারক নাজমুদ্দীন মুহম্মদ ইবনে ইমামুল আলম মুহিউদ্দীন আত্ব-ত্বিবরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হলেন একজন নেককার, ইবাদতগুজার আলিম। তিনি হলেন সম্মানিত, অধিক দানশীল, প্রতিবেশীদের জন্য সমব্যাথী বা সাহায্যকারী, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার অধিক তাওয়াফকারী ও পর্যবেক্ষণকারী। তিনি (উক্ত কাজী বা বিচারক) বিভিন্ন মওসুমে, বিশেষ করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বিলাদত শরীফ এর সময় তিনি (মানুষকে) প্রচুর পরিমাণে খাদ্য খাওয়াতেন। এ বরকতময় সময়ে তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ উনার সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, ফক্বীর-ফুক্বারা, সম্মানিত হেরেম শরীফের খাদিমবর্গ এবং পবিত্র মক্কা শরীফের অধিবাসী ও অসহায় ব্যক্তিদের প্রচুর পরিমাণে খাদ্য খাওয়াতেন।
আর মিশরের সুলতান মালিক নাছিরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র মক্কা শরীফের উক্ত সম্মানিত কাযীকে অধিক সম্মান করতেন এবং তিনি সমস্ত দান-সদক্বা ও অধীনস্থ আমীর-উমারাগণের সমস্ত দান-সদক্বা উনার হাতে অর্পণ করতেন। (রিহলাতু ইবনে বতুতা: ১৬৯ পৃষ্ঠা)

যারা আজ বলে থাকে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন নতুন আমল। তারা মক্কা শরীফে পালনের এ দলীলকে কি বলবে? ঐ সময়ে পবিত্র মক্কা শরীফের অধিবাসীদের বিদয়াতী বলবে?

♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
পবিত্র মিলাদ ও কিয়াম এবং জশনে জুলুছ(আনন্দ মিছিল) নিয়ে দলীল ভিত্তিক এই লেখাটি ফেসবুকে শেয়ার করে বিরুদ্ধবাদীদের জবাব দেওয়ার জন্য আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত অনুসারী ভাইবোনদের প্রতি বিনীত আহ্বান রইলো।

এই লেখার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে সুন্নী মতাদর্শীদের জশনে জুলুছ তথা আনন্দ মিছিল বন্ধে ওহাবিদের সংবাদ সম্মেলন দেখে মনে হয়েছে এদেশের নবীপ্রেমিক সুন্নিরা হিন্দুদের মত সংখ্যালঘু হয়ে যাচ্ছে, কে কিভাবে ধর্ম পালন করবে অন্যরা সেটা নির্ধারণ করতে পারেনা, এটা স্বাধীন বাংলাদেশ। অন্যদিকে দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা চলছে, হিন্দুদের জানমাল বাড়িতে মন্দিরে আগুন সন্ত্রাস দেখে মন ভালো নেই, একজনের অপরাধ কখনো একটি ধর্মের সবাইকে বা একটি সম্প্রদায় কে অভিযুক্ত করা অমানবিক, উগ্রতা ও মুর্খতার চরম বহি:প্রকাশ, সকলকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের জানমালের নিরাপত্তা এবং তাদের পাশে থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

______________________________________
সম্পাদনায়-
খন্দকার আবু সুফিয়ান
এম এ(হাদীস), রাষ্ট্রবিজ্ঞান(অনার্স)।
অষ্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ।
১৮ অক্টোবর ২০২১ খ্রি.। সকাল-৯.৪৫ মিনিট।

আশুরার গুরুত্ব ও শিক্ষা:

 

আরাবী হিজরী সনের প্রথম মাস হচ্ছে মুহররম। যে মাসের দশম দিন অর্থাৎ ১০ তারিখ হচ্ছে ইয়াওমুল আশুরা। আক্ষরিক অর্থের দিক থেকে যে কোন মাসের দশ তারিখকে আশুরা বলা যায়। কিন্তু ইসলামী শরিয়তে কেবলমাত্র মুহাররাম মাসের দশ তারিখকেই আশুরা বলা হয়। এই দিন বিভিন্ন কারণে স্বাতন্ত্রে ভাস্বর এক দিন। ইসলামে মুহররম মাসের ঐতিহাসিক গুরুত্বের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। ইসলামের প্রাক-প্রাথমিক যুগে ও মুহররাম ঐতিহ্যপূর্ণ বরকতময় ও তাৎপর্যমণ্ডিত ছিল। এ মাসে অনেক নবী ও রাসূলগণ ঈমানের কঠিন পরিক্ষার মাধ্যমে মুক্তি ও নিষ্কৃতি পেয়েছিলেন। এই দিনে ইসলামের অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
এ দিনে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক কিছু ঘটনা:
হযরত আদম (আঃ) থেকে ৬১ হিজরীর মুহররম মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত লক্ষ করলে দেখা যায়, এই দিনে আল্লাহ পাক হযরত আদম (আঃ) এর তাওবা কবুল করেন। পৃথিবীর প্রথম হত্যাকান্ড হাবিল কাবিলের ঘটনাও এই দিনে সংঘটিত হয়েছে। হযরত নূহ (আঃ) মহাপ্লাবন শেষে যুদী পর্বতে অবতরণ করেন। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে নমরুদের অগ্নিকান্ড থেকে মুক্ত করা হয়েছে। হযরত আইয়ুব (আঃ) কে কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্ত করা হয়েছে। হযরত ইউসুফ (আঃ) তার পিতা ইয়াকুব (আঃ) এর সাথে সুদীর্ঘ ৪০ বছর পর সাক্ষাৎ লাভ করাসহ আরোও অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাবলী এই দিনে সংঘটিত হয়েছে। বিশেষতঃ এ সমস্ত বিখ্যাত ঘটনাগুলো ম্লান করে ৬১ হিজরির এই দিনে কারবালার প্রান্তরের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.) এর হৃদয়বিদারক শাহাদত নিঃসন্দেহে কিয়ামত অবধি নবীভক্ত উম্মতের জন্য বেদনাদায়ক স্মৃতি। হযরত হুসাইন (রা.) এর শাহাদাত সত্যান্বেষী মুসলমানের জন্য প্রেরণা ও চেতনার মশাল। তিনি যে সত্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জুলুম-দুঃশ্বাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন। সেটা মুসলিম উম্মাহর জন্য শিক্ষণীয় এ ঘটনা মুসলমানদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও সত্যের পথে সংগ্রাম করার চেতনায় উদ্ধুব্ধ করে।
আশুরার গুরুত্ব ও শিক্ষা: পবিত্র আশুরা সম্পর্কে হাদীস শরীফে উল্লেখ হয়েছে, হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়াহুদীদের কতিপয় এমন লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যারা আশুরার দিনে রোযা রেখেছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কিসের রোযা? উত্তরে তারা বলল! এই দিনে আল্লাহ পাক হযরত মূসা (আ.) ও বনী ইসরাঈলকে ডুবে যাওয়া থেকে উদ্ধার করেছিলেন। অন্য এক বর্ণনায় পাওয়া যায় ফিরআউনের নির্যাতন থেকে মুক্ত করেছিলেন। এবং ফিরআউনকে দল-বল সহ নিমজ্জিত করেছিলেন। আর এই দিনেই হযরত নূহ (আ.) এর কিশতী জূদী পর্বতে স্থির হয়েছিল। যার কারনে এই দিনে হযরত নূহ (আ.) ও হযরত মূসা (আ.) কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রোযা রেখেছিলেন। তাই আমরাও এই দিনে রোযা রাখি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, মূসা (আ.) এর অনুসরণের ব্যাপারে এবং এই দিনে রোযা রাখার ক্ষেত্রে আমি তোমাদের থেকে বেশী হক্বদার। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেদিন (আশুরার দিন) রোযা রাখেন এবং সাহাবায়ে কিরামদের রোযা রাখতে আদেশ করেন। (বুখারী ও মুসলিম)
বুখারী শরীফের বর্ণনা মতে, মহররম মাসের প্রথম ১০ দিন রোজা পালন করা পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর ফরজ ছিল। বিশেষত আশুরার দিন পূর্ববর্তী উম্মতরা রোজা পালন করতেন। কিন্তু রামাদ্বানের রোজা ফরয হওয়ার পর এর বিধান রহিত হয়ে যায়। এর পর থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরার রোজা পালনের জন্য সাহাবায়ে কিরামদের আশুরার রোজা রাখার জন্য ত্যাগিদ দিতেন এবং নিজেও রাখতেন। আশুরার ফজিলত সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, রামাদ্বানের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা হলো মহররমের রোজা। (মিশকাত শরীফ)।
আশুরার রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছে হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রোজা রাখার জন্য এত অধিক আগ্রহী হতে দেখিনি যত দেখেছি এই আশুরার দিন এবং রমজান মাসের রোজার প্রতি। (বুখারি)।আশুরার রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে অন্য এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী, আল্লাহ তাআলা এর অসিলায় অতীতের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (তিরমিযী)।অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে হযরত কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, কোনো ব্যক্তি আশুরার দিনে রোজা রাখলে আল্লাহ তায়ালা পূর্ণ এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরার রোজাকে অনেক গুরুত্ব দিতেন। এ প্রসঙ্গে হযরত হাফসা (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চারটি কাজ কখনো ত্যাগ করেননি। তা হলো: ১. আশুরার রোজা, ২. জিলহজের প্রথম ৯ দিনের রোজা, ৩. আইয়ামে বিজের রোজা—অর্থাৎ প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা এবং ৪. ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত নামায।
আশুরার মূল শিক্ষা হচ্ছে ধৈর্য্য ও ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়া। ইমাম হুসাইন (রা.) এর আর্দশে উজ্জীবিত হয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ থেকে বিরত থাকা। সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠিত করা।ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিধানগুলো মেনে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুকরণে আশুরা উদযাপনে মুসলমানদের উচিত রোজা রাখা, ইবাদত বন্দেগিতে মগ্ন হওয়া। ইসলামের স্বার্থে ধৈর্যধারণ ও ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকা। কবির ভাষায় বলা যায়, ফিরে এল আজ সেই মুহররম মাহিনা। ত্যাগ চাই, মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না।

লেখক::
কে এম রায়হান ( সাংবাদিক)
প্রিন্সিপাল
রাহমানীয়া তালীমুল কোরআন
ওসমানীনগর সিলেট
০১৭১৪৯৫৭০০৪

খোশ আমদেদ পয়লা মহররম হিজরি নববর্ষ ১৪৪৩

 

ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

আজ ১১ আগস্ট ২০২১ বুধবার হিজরি বর্ষের প্রথম দিন। হৃদয়ের সব উষ্ণতা দিয়ে তাকে গ্রহণ করি। কালের গর্ভে হারিয়ে গেল ১৪৪২ হিজরি সনের বিদায়ের সাথে সাথে বছর ঘুরে আবারো ফিরে এসেছে আরেকটি নতুন বছর ১৪৪৩ হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। ইসলামে হিজরি সন ও তারিখের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ হিজরি সন এমন একটি সন, যার সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর তাহজিব-তামাদ্দুন ও ঐতিহ্যের ভিত্তি সম্পৃক্ত। মুসলমানদের রোজা, হজ, ঈদ, শবেবরাত, শবেকদর, শবে মেরাজসহ ইসলামের বিভিন্ন বিধি-বিধান হিজরি সনের ওপর নির্ভরশীল। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও আনন্দ-উৎসবসহ সব ক্ষেত্রেই মুসলিম উম্মাহ হিজরি সনের অনুসারী.হিজরি সন গণনার সূচনা হয়েছিল ঐতিহাসিক এক অবিস্ময়রণীয় ঘটনাকে উপলক্ষ করে। রাসুল (সা.) এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীবর্গের মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই আরবি মহররম মাসকে হিজরি সনের প্রথম মাস ধরে সাল গণনা শুরু হয়েছিল। আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে তথা দ্বীনের স্বার্থে পবিত্র মক্কা থেকে মদিনায় রাসুল (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামগণের হিজরতের বছর থেকেই হিজরি সনের সূচনা।খলিফা হজরত উমর ফারুক (রা.)-এর শাসনামলে ১৬ হিজরি সনে, প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবু মুসা আশআরী (রা.) ইরাক এবং কুফার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একদা হজরত আবু মুসা আশআরী (রা.) খলিফা উমরের (রা.) খেদমতে এ মর্মে পত্র লিখেন যে, আপনার পক্ষ থেকে পরামর্শ কিংবা নির্দেশ সংবলিত যেসব চিঠি আমাদের নিকট পৌঁছে তাতে দিন, মাস, কাল, তারিখ ইত্যাদি না থাকায় কোনো চিঠি কোনদিনের তা নিরুপণ করা আমাদের জন্য সম্ভব হয় না। এতে করে আমাদের নির্দেশ কার্যকর করতে সমস্যা হয়। অনেক সময় আমরা বিব্রত বোধ করি চিঠির ধারাবাহিকতা না পেয়ে। হজরত আবু মুসা আশআরীর চিঠি পেয়ে হজরত উমর (রা.) এ মর্মে পরামর্শ সভার আহ্বান করেন যে, এখন থেকে একটি ইসলামি তারিখ প্রবর্তন করতে হবে। উক্ত পরামর্শ সভায় হজরত উসমান (রা.), হজরত আলী (রা.) সহ বিশিষ্ট অনেক সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলের পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে ওই সভায় ওমর (রা.) সিদ্ধান্ত দেন ইসলামি সন প্রবর্তনের। তবে কোন মাস থেকে বর্ষের সূচনা করা হবে তা নিয়ে পরপস্পরের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি হয়। কেউ মত পোষণ করেন রাসুল (সা.)-এর জন্মের মাস রবিউল আওয়াল থেকে বর্ষ শুরু করার। আবার কেউ কেউ মত পোষণ করেন রাসুলের ওফাতের মাস থেকে বর্ষ শুরু করা হোক। অন্যান্যের মতে হুজুর (সা.)-এর হিজরতের মাস থেকে বর্ষ করা হোক। এভাবে বিভিন্ন মতামত আলোচিত হওয়ার পর হজরত উমর (রা.) বললেন, হুজুর (সা.)-এর জন্মের মাস থেকে হিজরি সনের গণনা শুরু করা যাবে না। কারণ খ্রিস্টান সম্প্রদায় হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্মের মাস থেকেই খ্রিস্টাব্দের গণনা শুরু করেছিল। তাই রাসলের জন্মের মাস থেকে সূচনা করা হলে বাহ্যত খ্রিস্টানদের অনুসরণ ও সাদৃশ্যতা হয়ে যায়, যা মুসলমানদের জন্য পরিত্যাজ্য। এ সম্পর্কে রাসুলের বাণী, ‘তোমরা ইয়াহুদি-খ্রিস্টানদের বিরোধিতা করো।’ (বুখারি ও আবু দাউদ শরিফ)
অপরদিকে হুজুর (সা.)-এর ওফাত দিবসের মাস থেকেও গণনা শুরু করা যাবে না, কারণ এতে হুজুর (সা.)-এর মৃত্যু ব্যথা আমাদের মাঝে বারবার উত্থিত হবে। পাশাপাশি অজ্ঞ যুগের মৃত্যুর শোক পালনের ইসলামবিরোধী একটি কুপ্রথারই পুনরুজ্জীবন ঘটবে। হজরত ওমর (রা.)-এর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যকে হজরত উসমান (রা.) ও হজরত আলী (রা.) এক বাক্যে সহমত পোষণ করে বললেন, এরই পরিপ্রেক্ষিতে খলিফা হযরত উমর ফারুক (রা.) হিজরতের বছর থেকেই ইসলামি দিনপঞ্জী গণনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় হিজরতের ১৬ বছর পর ১০ জুমাদাল উলা ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দ। মোট কথা, আমিরুল মুমিনিন হজরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে হিজরি সনের গণনা সূচনা করেন। এটাই ছিল হিজরি সনের প্রেক্ষাপট। মুসলিম জীবনে হিজরি সনের গুরুত্ব অপরিসীম। এ প্রসঙ্গে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে গণনা হিসেবের মাস হলো বারোটি।হিজরী সনের প্রথম মাস হলো মহররম। মহররম একটি তাৎপর্যমন্ডিত ও বরকতময় মাস। মুসলিম ইতিহাসে এ মাসটি বিভিন্ন কারণে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। কুরআন কারিমে এ মাসটিকে ‘শাহরুল্লাহ’ তথা আল্লাহর মাস বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন, ‘চারটি মাস রয়েছে যেগুলো সম্মানিত মাস। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো মহররম। (সূরা তাওবাহ : ৩৬)
আর এ মাসেই রয়েছে ফজিলতপূর্ণ ‘আশুরা’। মহররমের দশম তারিখে ঐতিহাসিক ‘কারবালা’ সংঘটিত হয়েছিল। এছাড়াও বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এই দিনে ঘটেছে এবং ভবিষ্যতেও এই দিনে আরও অনেক ঘটনা ঘটবে। মহররমের ফজিলতপূর্ণ অনেক আমল রয়েছে তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নফল রোজা।
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, আমি রাসুল (সা.) কে এই দিন (আশুরার) এবং এই মাসে রমজানের রোজার চেয়ে অন্য কোনো রোজাকে এত গুরুত্ব দিতে দেখিনি। (মিশকাত শরিফ)
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার বিশ্বাস যে, আশুরার রোজার বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা বিগত এক বছরের গোনাহ মাফ করে দিবেন’। (তিরমিজি শরিফ)
★চন্দ্রবর্ষ অনুসরণে ইসলামী শরিয়তের বিধানঃ-হিজরী সন মুসলমানদের সন। মুসলমানদের উচিত এর অনুসরণ করা। এক্ষেত্রে উদাসীনতা কাম্য নয়।ইসলামী ফিকাহবিদগণ চান্দ্রবর্ষের হিসাব রাখাকে মুসলমানদের জন্য ফরজে কিফায়া বলেছেন।অর্থাৎ কেউ কেউ এর খবরা-খবর রাখলে সবার দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে।কিন্তু সবাই যদি এ বিষয়ে উদাসীনতা দেখায় তাহলে প্রত্যেকে গুনাহগার হবে।এতে সন্দেহের অবকাশ নেই, চান্দ্রমাসের হিসাবের অনুসরণ নবীজি (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাত। যাদের অনুসরণ আমাদের জন্য পুণ্যময় ও কল্যাণকর আমল।হজরত মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেন, সৌর হিসাব রাখা ও ব্যবহার করা একেবারেই নাজায়েজ নয়। বরং এই এখতিয়ার থাকবে, কোনো ব্যক্তি নামাজ, রোজা, জাকাত, ইদ্দতের ক্ষেত্রে চান্দ্রবর্ষের হিসাব ব্যবহার করবে। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য বিষয়ে সৌর হিসাব ব্যবহার করবে। কিন্তু শর্ত হলো, সামগ্রিকভাবে মুসলমানদের মধ্যে চান্দ্র হিসাবের প্রচলন থাকতে হবে। যাতে রমজান, হজ ইত্যাদি ইবাদতের

নাসিরনগরে ব্রাক্ষণ সন্তানেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

 

মোঃ অাব্দুল হান্নানঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার,নাসিরনগর উপজেলার,পূর্বভাগ ইউনিয়নের,কোয়রপুর গ্রামের,হৃদয় চক্রবর্তী নামে (১৮) এক ব্রাক্ষণ সন্তান ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে।তার পিতার নাম-সনজিৎ চক্রবর্তী।হ্দয় তাদের পরিবারের বড় সন্তান। গত রমজান মাসে কোয়রপুর জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে ও হুজুরের হাত ধরে কালেমা পরে মুসলমান হয় হ্দয়।তার ইচ্ছা ও পছন্দমতে নতুন নাম রাখা হয় মোঃ নুরুল ইসলাম।
ইতিমধ্যে হ্দয় মুসলিম পরিবারের সাতে মিশে গরুর মাংস ও খানা পিনা করে আসছে।
সম্প্রতি হ্দয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাখরাজ মসজিদ থেকে ৪০ দিনের জন্য দ্বীন শিক্ষা ও নামাজ শিক্ষার জন্য চিল্লায় চলে গেছে উত্তরবঙ্গে। সম্প্রতি সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কোর্টে এফিডেভিট করে মুসলমান হওয়ার জন্য কাগজপত্র সব জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে।

বার আউলিয়ার সম্রাট শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহঃ) ৪৫৬ তম বার্ষিক ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত

 

আরমান হোসেন
(আনোয়ারা,চট্টগ্রাম)

করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সীমিত পরিসরে প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও বার আউলিয়ার অন্যতম সম্রাট চট্টগ্রামের আনোয়ারার আধ্যাত্বিক সাধক হযরত শাহ্ মোহছেন আউলিয়া (রহ.) এর ৪৫৬ তম ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রবিবার (২০-জুন) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী রুস্তমহাট এলাকায় অবস্থিত হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া(রাঃ) এর মাজার প্রাঙ্গনে এই ওরশ অনুষ্ঠিত হয়।

সরে জমিনে দেখা যায়,মোহছেন আউলিয়া (রাঃ) এর ওরশকে ঘিরে সকাল থেকে মাজার পরিচালনা কমিটি ছাড়াও উপজেলার ১১ ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় সংগঠন ও ভক্তরা কোরআন খাতম, মিলাদ মাহফিল ও তবারুক বিতরণের মধ্য দিয়ে ওরশের কর্মসূচি পালন করছে। প্রতিবছর জাঁকজমকভাবে ওরশ পালিত হলেও করোনা ও বৃষ্টির কারনে এবছর ভক্ত সমাগমের তেমন সাড়া পড়েনি।তবে,সন্ধ্যা থেকে লোক সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো।

ওরশ শরীফ এর কর্মসূচীর বিষয়ে দরগাহ পালা কমিটির মোতোয়াল্লি ফজলুল করিম বলেন,প্রতিবছর ব্যাপক আয়োজনে আজকের দিনে হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া(রাহঃ) বার্ষিক ওরশ শরীফ পালন করে আসলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে গতবছরের ন্যায় এই বছরেও তেমন কোনো বড় ধরনের আয়োজন করা হয়নি। তবে ভক্তরা স্বাস্থবিধি মেনে নিজ নিজ দায়িত্বে জিয়ারত,খতমে কোরআন ও মিলাদ মাহফিল করে ওরশ পালন করতেছেন।

ওরশের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ ওমর বলেন,সরকারি বিধি নিষেধ এর কারণে গণজমায়েত করে ওরশ পালনের কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর পর ও দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে জিয়ারত , সহ নানা আয়োজন করলে এখানে কিছু করার নাই।

উল্লেখ্য যে,মোহছেন আউলিয়া (রহ.) ৮৮৬ হিজরী ৭২ বাংলা ১৪৬৬ সনে ১২ রবিউল আউয়াল জন্ম গ্রহণ করেন। এবং তার মামা হযরত বদর আউলিয়া এর সাথে হযরত সর্বপ্রথম চট্টগ্রামে আগমন করেন। পরিশেষে ৯৮৫ হিজরি মুতাবেক ১৫৬৫ ইংরেজি,৯৭১ বাংলা ৬ আষাঢ় চট্টগ্রামে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মরদেহ প্রথমে আনোয়ারা উপজেলার ঝিউরী সঙ্খ নদীর পাশে কবর দেওয়া হলে পরবর্তীতে নদী ভাঙ্গনের ফলে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের রুস্তম হাট এলাকায় স্থানান্তর করা হয়।

এবারও হজে যেতে পারবেন না বাংলাদেশিরা

বিশেষ সংবাদদাতা
মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতি বিবেচনায় গতবারের মতো এ বছরও সৌদি আরবের বাইরের কোনো দেশ থেকে কেউ হজের সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে এবারও হজে যাওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশিদের।
শনিবার (১২ জুন) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে‌ এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অবশ্য গত ৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতাকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও বলেছিলেন, করোনার কারণে সৌদি আরব হজ পালনের অনুমতি না দেয়ায় গত বছর হজযাত্রী পরিবহন বন্ধ ছিল। গতবারের মতো এবারও হজযাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকবে।
শনিবারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরব সরকার জানিয়েছে, কোভিড-১৯ করোনা মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বছরও সৌদি আরবের বাইরের কোনো দেশ থেকে হজযাত্রীরা হজের সুযোগ পাবেন না। সৌদি আরবের নাগরিক এবং সৌদি আরবে অবস্থানকারী অন্যান্য দেশের মুসলিমদের নিয়ে সীমিত আকারে হজ পালিত হবে।
এদিকে সৌদির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, এবার করোনার বিধিনিষেধের কারণে শুধু সৌদি নাগরিক এবং দেশটিতে বসবাসরতদের হজ করার সুযোগ মিলবে। এ বছর সর্বমোট ৬০ হাজার ব্যক্তি হজ করতে পারবেন।