একুশে ফেব্রুয়ারী

স্বীকৃতি বিশ্বাস
বছর ঘুরে আসো ফিরে
সারা বছরের কষ্ট নিয়ে।
সবাই তখন মাতোয়ারা
তোমার হৃদয় জয় করাতে।

খালি পায়ে মৌনমনে
কষ্ট করে রাত বারটায়
তোমার গানে সুর মিলাতে।
রাজপথে সব স্লোগান দিতে।
পলাশ,শিমুল,গাঁদাসহ
দেশ-বিদেশী নানা ফুলে
তোমার বুকে রাঙিয়ে দিতে।

তোমায় নিয়ে এতো যাদের
ভিন্ন রকম তাল বাহানা
আজও কেন হয় না জানা
বাড়ি,অফিস,কোর্টে জারি
সবখানেতে তোমার জারি!

কবিতাঃ”জন্মভূমি “

কবিতাঃ”জন্মভূমি
*********-*******
সাংবাদিকঃআজিজুর রহমান।
****************-**********

ধন্য আমি শতবার,
জন্মেছি মাগো তোমার কোলে।
সবুজ শ্যামল মায়াই ভরা,
সে যে আমার বাংলাদেশে।

মোয়াজ্জেম এর মধুর সুরে,
ভুম ভাঙ্গে নিত্যদিনে,
পাখির কলোরবে প্রভাত,
মন যে হারায় কুঞ্জবনে।

চতুর্দিকে সবুজ বৃক্ষে,
নয়ন দুটি যায় হারিয়ে,
মায়া মমতায় ভরা যেনো,
আমার মায়ের দুটি নয়ন।

বট বৃক্ষের ছায়ায় তলে,
বীণা বাজায় রাখাল ছেলে।
আমার দেশের চাষিরা সব,
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,

সোনার ফসল ঘরে এলে,
মিষ্টি হাসিতে যায় ভুলে।
হাজার দেশের সেরা দেশ,
বাংলাদেশ ভাই আমার দেশ।

নদী নালা খাল বিলে,
জেলেরা সব মাছ ধরে।
নদীর মাঝে মাঝিরা সব,
ভাওয়াইয়া গান গেয়ে চলে।

শাপলা ফুলের সুবাসে মন,
বারে বার দুলে ওঠে।
খাঁটির চেয়ে আরো খাঁটি,
বাংলা আমার সোনার মাটি।
********-**সমাপ্ত*******

কলকাতা বইমেলায় তুলতুলের “নরকে আলিঙ্গন”

রাব্বি সরকার : কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাপিয়ে বাংলাদেশের মিষ্টি কন্যা জনপ্রিয় লেখিকা তুলতুলের নতুন অনুগল্পের বই “নরকে আলিঙ্গন” ২০২২।

প্রকাশনীর নাম “এবং শব্দ প্রকাশনী”। প্রকাশক সুমন্ত ভৌমিক। প্রচ্ছদ করেছন শুভ্রা হালদার ।

মোট ১৭ টি গল্প নিয়ে বইটি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। গল্পে উঠে এসেছে যুদ্ধ, রহস্য, প্রেম- ভালোবাসা, রম্য,কবিদের রহস্যময়তা, মশকরা ও আমাদের সমাজের ঘটনাগুলোর কল্পনা ও বাস্তবের মিশেল।তাছাড়া এখানে থাকছে তার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত গল্পের নাম। যেটা তিনি প্রথম শুরু করেছেন।

কলকাতা বই প্রকাশ সম্পর্কে তুলতুল বলেন, কলকাতা বইমেলায় আমার প্রথম বই প্রকাশিত হচ্ছে এটি আমার জন্য আনন্দের।স্বপ্নগুলোর একটি।সেখানে আমি নিয়মিত লিখালিখিও করে যাচ্ছি। কলকাতার অনেক বন্ধু, পাঠক আমাকে খুব ভালোবাসেন।তারা অনেকে আমার চোখ দিয়ে চট্টগ্রামকে প্রথম জানতে পেরেছেন। তাদের আগ্রহে এবং আমার প্রকাশক সুমন্ত দাদার অশেষ আন্তরিকতায় আমার বইটি প্রকাশিত হচ্ছে। ভারতে অনেক বন্ধু আমার চাঁটগা ভাষার লিখা পড়ে চাঁটগা ভাষার প্রতিও খুব আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাদের জন্য কয়েকটি গল্পের নামকরণও করেছি আমার আঞ্চলিক ভাষায়। এটি এইবার প্রথম আমি শুরু করেছি। তাই সবার কাছে দোয়া -আশীর্বাদ চাই।

একটি সাহিত্য সাংস্কৃতিক,রাজনৈতিক, অভিজাত ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে শাম্মী তুলতুলের জন্ম। ছোট বেলায় পড়ালেখায় প্রচুর ফাঁকিবাজ ছিলেন টিচার এলে নানা অজুহাতে তাঁদের তাড়াতেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় সাহিত্যিক এবং দেশ সেরা কলেজের ছাত্রী।

বাবা আলহাজ আবু মোহাম্মদ খালেদ শিক্ষাবিদ, মুক্তিযোদ্ধা। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী।

মা আলহাজ কাজী রওশন আখতার একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির হাতেখড়ি আঞ্চলিক ও জাতীয় পত্রিকা দিয়ে শুরু। এই পর্যন্ত বইয়ের সংখ্যা ১৫ টি।

ছোট বেলার জীবন”

সাংবাদিকঃআজিজুর রহমান।
**********-********
নাটায় বনে যেতাম যখন,
প্যান্ট টি থাকতো ছেড়া তখন।

কাঁঠালের আঠা লাগাতাম আমরা,
পাঠ কাঠির আগেই তখন।

ঝেঝি পোকা ধরিবার তরে,
যেতাম আমরা বহুদূরে।

দুপুর বেলায় রদ্রের মাঝে,
শোশা খেতাম চুরি করে।

দেখে ফেলতো মাঝে মাঝে,
দৌড় দিতাম অনেক দূরে।

মদন গাছে পাকতো মদন,
আরো খেতাম গেমা তখন।

বিকালে হলে হতো খেলে,
গাদি আরো বৌচী খেলা।

গাদি খেলার টানা টানি,
ধরে টানতো কত জনে।

ছিড়া ছিড়ি মারা মারি,
চলতো আরো ভাগা ভাগি।

রাজা গুজি খেলার আগে,
ভাগিয়ে আসতো রাজার সামনে।

এই ভাবে ছোট বেলার,
জীবন কাটাতাম আমরা তখন।
**********-সমাপ্ত**********

সে থাকে অন্তরের গভিরে।

মাহবুবা আলী।

এই যে লোকে লোকারণ্য শহর
সকাল- সন্ধ্যা ভিড় ভাট্রা জাগে,
তবুও এমন একলা লাগার মানে
নিজের একটা মানুষ সবার লাগে।

সারা দিনের কাজের মাঝে,
ক্লান্ত দুপুরের খট খটা রোদে
জীবনের সর্বক্ষনে, চলার পথে
নিজের একটা মানুষ সবার লাগে।

বিশাল ঐ আকাশ টাকে ছুতে
রাতের আকাশে তারাদের মেলাতে
চাঁদের হাঁসির জোছনা দেখতে
নিজের একটা মানুষ সবার লাগে।

নিজের মানুষ টা শুধুই নিজের,
অন্যকারোর সাথে তাকে ভাগ করা
যায় না কোন ভাবে,,,,,,,,,
সে থাকে অন্তরের গভিরে।

ভালবাসার অন্য রং”

সাংবাদিক,আজিজুর রহমান।

তুমি আকাশের চেয়ে উদার, বলেছিলে তুমি।
আমি ও ভাবিনি কথাটি সত্য কি জানি?
তোমার ভালবাসা সবার থেকে আলাদা বলেছিলে তুমি।
আমি ও যাচাই করিনি, শুধু ভালবাসতাম এটাই জানি।

তোমার অভিমান সবার থেকে ভিন্ন বলেছিলে তুমি।
আমি ও জানি কিন্ত অভিমানের ধরণ ছিলো অন্যরুপ।
তোমার অহংকার ছিলো সরার থেকে আলাদা,
আমি ও জানি, কষ্ট পাবে বলে কিছুই বলেনি।

তোমার ভালবাসা ছিলো নিঃপাপ বলেছিলে তুমি,
আমি ও জানি নিঃপাপ অর্থটি জানোনা হয়তো বা তুমি।
নিজেকে সুন্দরী মহারানি ভাবতে যে তুমি,
আমি যে বাসতাম ভাল, তোমার মনের সন্দার্য খানি।

তুমি বলেছিলে, আমি ভালবাসি শুধু তোমাকে,
আমি জানতাম, তুমি ভালবাস অন্য এক জনকে,
তুমি বলেছিলে, তোমার বিলাসিত চাকচিক্যই, বেশি পছন্দ।
আমি জানি, কথাটি বলেছিলে একেবারে সত্য যে।

তুমি বলেছিলে, ভালবাসা নিয়ে অভিনয় কেউ করে না।

আমি জানতাম,অভিনয় ছাড়া তুমি ভালবাসতে পারো না।
তুমি বলোছিলে, ভালবাসাতে কোন স্বার্থ থাকে না।
আমি জানি তুমি স্বার্থ ছাড়া কাউকে ভালবাসনা।

**********সমাপ্ত*************

“সাইক্লোণ”

সাংবাদিকঃ আজিজুর রহমান।

চারিদিকে অাধার উঠাবে এখনি ঝড়,
সাইক্লোণের ঘুর্ণিতে ভাঙ্গবে ঘুম যে,
সকল দুর্নীতি ভাঙ্গিবে যে এখনি।
ঝড়ের গতিতে কাঁপতে থাকবি যে,

পাপিষ্ট মনোবল থাকবে না যে আর।
গোরস্তানে, শশাণে খুলিস কেন কাফন রে,
ডরে বুক কাঁপে না, জন্ম তোর কিসের’রে।
দূর দূর করে কাঁপছে যে বুক,
শকুনের নজর পড়ে যাই কখন যে।

লন্ড ভন্ড করবে যে সাইক্লোণ,
দূূর্নীতির মায়াই কভূ কি তোর আসে যাই,
নিঃপাপ শিশু করেছে কি পাপ,
ধর্ষণে মেতে উঠে, করছো যে লুটপাট।

পাপের পাপিষ্ট হয়ে, থাকবি তুই কি করে,
রমণীর যৌন হরনে,মেতে ওঠো উল্লাসে।
সাইক্লোণের আঘাতে মরবি তুই দিনে রাতে।

লাশ কাটা ঘরে আছে যে লাশ,
তাঁর দেখে যৌন ক্ষুদা আসে কি করে’রে।
তুই কোন মানুষের জাত’রে?
সাইক্লোণ আসছে তোর যবনিকা টানতে,
পালাবী কোথায়! ভাঙ্গবে তোর বিষদাঁত যে।

কালো টাকার পাহাড়ে ঘুরে বেড়াস বাহারে!
সাইক্লোন আসছে,পালাবি কোথায় রে?
মনোজ্ঞ সন্ধায় মেতে উঠিস রঙ্গলিলাই,
বাসন্তীর গন্ধে মিটাস কি জ্বালারে।

সাইক্লোণের গর্জনে দৌড়ে পালারে,
ভাঙ্গবে এখনি বিষের বিণাখানি।
সাইক্লোণের বিভিষিকা দেখিবে যখন,
বাঁচার জন্য আর্তনাদ, করিবে তখন।

 

দেশ আমার।

রিয়াজুল হক সাগর।
শোন ভাই দেশ বাসি
ভালোবাসি আগের মত
এই দেশে থাকবেনা অন্যায়
আর জুলুম অবিরত……।
যে দেশে ভালোবাসা সবার মাঝে
ছড়িয়ে থাকে
বিপদে এগিয়ে আসে ভেদা ভেদ
ভুলে গিয়ে…..।
মানবিক আমার দেশের
সকল মানুষ
গুজবে দেবোনা কান এই
ফিরাও তবে হুশ…..।

স্বাধীনতার চেতনায় আপন স্বদেশ

রিয়াজুল হক সাগর

৭ই মার্চের ভাষণ গণ জোয়ারের ডাক দিলেন যিনি, তিনি আমাদের
বাঙ্গালী জাতির মহা নায়ক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব,
আশার আলো জ্বালিয়ে দিয়ে, লক্ষ কোটি জনতার বাচাঁর স্বপ্ন দেখালেন,
এই স্বদেশ গড়ার কারিগর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।
নয়ন ভরা স্বপ্ন ছিল তার স্বদেশ গড়ার নেশায় ব্যকুল, তিনি আমাদের
শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালীর কাল পুরুষ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব,
সেদিন জনতার ভিরে, একটি মাত্র কবিতা শোনালেন, মুক্তিগামি জনতার
উদ্দেশ্যে, লক্ষ কোটি বাঙ্গালীর পথ প্রর্দশক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের,
স্বাধীনতার সংগ্রাম, তিনি আমাদের সোনার ছেলে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব,
দেশের মাঠিকে রক্ষা করতেই, ডাক দিলেন তিনি, আসুন এই স্বদেশ কে
রক্ষা করি, বাঙ্গালী জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।
তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা, এই নিজ ভূমিকে বাঁচার লড়াইয়ে,
মুক্তিগামি মানুষের, স্বপ্নের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব,
আশার বানী শুনিয়ে ছিলেন ৭ই মার্চে, অশুভ শক্তিকে ভেঙ্গে দিলেন যিনি আমাদের,
কাল জয়ী এক মহান নেতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।

বাংলা ভাষাভাষী

রাজীব আহমেদ

সেদিন বর্বরোচিত ভাষার কলংকিত ১৯৫২ সাল ,
বাঙালিদের কন্ঠনালীতে বাংলা ভাষাই ছিলো একক অস্ত্রঢাল।

তাই আন্দোলনের খুরধারায় তীব্র রাজপথ ,
ভাংগে ভীতি আনে সাহস করে অকুতোভয় রথ।

তবুও শত বাধায় হার নামানার কাব্যে করে জয় ,
ভাষার তরে জীবন দেয় আপন সাহসীকতায় ।

আজি ভুলে গেছি মোরা সেই দিন .
আমরা ভাষা শহিদের শোধ করেছি কি ঋণ?

আজি নিজের সংস্কৃতিকে দিয়ে জলাঞ্জলি,
ভুলেছি পথ ধরেছি বিদেশীদের পথ্যগুলি।